গৃহশ্রমিক সহিংসতা বন্ধ এবং সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি আইনের বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে?

  • ২-মে-২০১৯ ০৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: আহমেদ জামিল ::

মহান মে দিবস আজ। শ্রমিকের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে অধিকার আদায়ের গৌরবময় দিন এটি। এই গৌরবময় দিনেও রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে হালিমা (১৪) ও রুবি (১৭) নামের দুই গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হল।সারাবিশ্বেই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হলেও বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের নিয়ে নেই কোনো আইন ও ন্যায্য মজুরির ব্যবস্থা।গৃহশ্রমিক সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরিটা কি আপনি দিচ্ছেন? এই প্রশ্নটা প্রতিটি বিবেকসম্পূর্ণ মানুষের কাছে।

দিবসটি প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের রক্তঝরা আত্মত্যাগের ইতিহাস। তবে শ্রমিকদের এই অধিকার বাস্তবায়ন হলেও আমাদের দেশে আজও আধারেই রয়ে গেল গৃহশ্রমিক আইন।গৃহশ্রমিক নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিনিহিত হচ্ছে। অপরাধীরা বিত্তশালী হওয়ায় পাড় পেয়ে যায় সহজেই।শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা সময় নির্ধারিত হলেও গৃহশ্রমিকদের কাজের নেই কোনো নিদিষ্ট সময়। তারা সকাল ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত করে অমানবিক পরিশ্রম। তাদের নেই কোনো সাপ্তাহিক ছুটি। এক ধরণের দাসত্বের জীবন অতিবাহিত করছে তারা।

তাদের সুরক্ষা এবং ন্যায্য মজুরি নিয়ে কোনো আইন নেই। অথচ তাদের পরিশ্রমটাই একটি পরিবারের সবার আরাম আয়েশের ব্যবস্থা হয়।গৃহকর্মী আদুরিকে নির্যাতনের চিত্রটা দেখলে যে কোনো পাষণ্ড হৃদয় কেঁপে উঠবে। আমার সবাই শ্রমিক দিবস আসলেই শ্রমিকদের নিয়ে মিটিং মিছিল করি। কিন্তু গৃহকর্মীদের নিয়ে কখনো কোনো আন্দোলন করতে তেমন দেখা যায় না। 

আজ সবাই বাসায় বন্ধের ছুটিটা বেশ আনন্দময় করতে নানা খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত। পার্টি, আড্ডা নানা রকম খাবার-দাবারের আয়োজন হবে। অথচ কখনো ভাবিনি বাসার গৃহকর্মীও শ্রমিক তারও ছুটির প্রয়োজন আছে।সে ঠিক মতো খেলো কি না? এগুলো দেখার সময় আমাদের নেই। তাদের কপালে জুটে পঁচা- বাসি উৎকৃষ্ট খাবার। 

আমার কাছে মনে হয় শ্রমিক দিবসে গৃহকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার। আদুরির মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে ফাহিমা, রুবি, বৃষ্টি, লামিয়া, সীমাসহ হাজারো শিশু গৃহশ্রমিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কিন্তু তারা কখনো বিচার পায় না। 

দেশে এক ধরনের ‘আই ওয়াস’ বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। মিডিয়ায় কিছু আদুরির ঘটনা আসলে আমাদের বিবেক জাগে। তখন আমরা রাস্তায় নেমে মিটিং- মিছিল শ্লোগান দিই। আবার নতুন অন্য ঘটনায় আড়াল হয়ে যায় এমন নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন ঘটনা। আর ক্ষমতার কারণে অপরাধ করে পার পেয়ে যায় অপরাধীরা। এতে করে দেশে অপরাধ করার প্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিচারহীনতার কারণে দোষীরা এমন করতে সাহস পায়। যদি এমন ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সবাই দেখতে পায়, তাহলে সেই ভয়ে দোষীরা গৃহশ্রমিকদের নির্যাতনের সাহস পাবে না।

মহান এই দিবসে চায় সকল শ্রমিকের মতো গৃহশ্রমিক সুরক্ষা ন্যায্য মজুরি আইনের বাস্তবায়ন। গৃহশ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ এবং ভালো ব্যবহার তাদের ন্যায্য পাওনা। তারাও মানুষ, তাদেরও বাঁচার অধিকার আছে।

লেখক : গণমাধ্যম কর্মী

Ads
Ads