মিরসরাইয়ের মোতাহার হোসেন রানাকে অবমাননার দায় কি এড়াতে পারেন সিনিয়র নেতারা!

  • ১৮-Nov-২০১৯ ০৪:২০ অপরাহ্ন
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক

‌‌‌‌''বুর্জোয়া রাজনীতিকে কেন ঘৃণা করি জানেন! কারন টাকা আর অস্ত্র গুন্ডা বাহিনী থাকলে সে সবচাইতে বড় নেতা হয়ে যায় বলে ছবির এই উদভ্রান্ত, ময়লা ছেঁড়া শার্ট পরিহিত ও আশাহীন চোখে তাকিয়ে থাকা মানুষটির নাম- মোতাহার হোসেন রানা। (সাবেক সভাপতি, মিরশ্বরাই থানা ছাত্রলীগ) ৯০-এ স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন তিনি। ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, একটি হল কমিটির সভাপতিও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক সভায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে ৫ মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। সভামঞ্চে তার বক্তব্য শুনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা খুশী হয়ে তার নাম, ঠিকানা ডায়রীতে টুকে নিয়েছিলেন সেদিন।

১৬ই নভেম্বর মিরশ্বরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ছিল। উপস্থিত দর্শকের সারিতে চেয়ারে এমন অসহায় হয়ে বসেছিলেন একসময়ের মাঠ কাপানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানা ভাই। কিন্ত সভামঞ্চে তারই হাতে গড়া কর্মী, সহযোদ্ধা অনেকে থাকলেও কেউ তার খবর রাখেনি।

বর্তমান রাজনীতিতে অর্থ-বিত্ত না থাকলে দাম নাই অতীত সংগ্রাম আর ত্যাগের এটাই সত্য। জয় হোক রানা ভাইয়ের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সারাবাংলার সকল মুজিব প্রেমী কর্মীদের।

জয় বাংলা - জয় বঙ্গবন্ধু। ''


মোতাহার হোসেন রানার এই ছবিটি সারাদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকের ওয়ালে। বিশেষ করে বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীই এ নিয়ে আপেক্ষ করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সেদিন মিরসরাইয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্চিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ উপজেলার অন্যান্য সিনিয়র নেতারা  কি এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন কিনা?

এদিকে মিলন পাঠান নামের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তার ফেসবুকে লিখেছেন,     

"বিভ্রান্তি ও সত্য

মোতাহার হোসেন রানা

দক্ষ সংগঠক, সাহসী মুজিব সৈনিক, পরিশ্রমী ছাত্রনেতা এবং সুবক্তা ছিলেন।

আশির দশকের শেষ দিকে চট্টগ্রামের মীরশ্বরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে পড়েছেন।
কবি জসিমউদ্দিন হল ছাত্রসংসদে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
কবি জসিমউদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় যোদ্ধা।

১৯৯২ সালের ১১মে গঠিত ৬৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সদস্য হয়েছিলেন।

কপাল খারাপ!

১৯৯৩ সালে মীরশ্বরাইতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। ট্রাকের ধাক্কায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। মাথা থেতলে যায়, মস্তিস্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তৎকালীন পিজি হাসপাতালের বিখ্যাত নিউরোসার্জন অধ্যাপক রশিদ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা হয়। অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া তখন জুনিয়র নিউরোসার্জন হিসেবে দেখভাল করেন।
মৃতপ্রায় রানা ভাই চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় কোনরকম বেঁচে থাকার সুযোগ পান।
যে সমস্যায় ভুগছেন রানা ভাই, এটার এরচেয়ে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা আর নাই বলেই তখন রায় দিয়েছিল চিকিৎসক।

সেই থেকে রানা ভাই অসুস্থ ও কষ্ট ভোগ করছেন।
অসম সাহসী লোকটি নিভৃত জীবন যাপন করছেন। গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানলাম, সম্ভবত ২০০৩ সাল থেকে ধানমন্ডি ৩/এ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে অফিশিয়াল কাজে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু রানা ভাইয়ের শরীর সাপোর্ট না করায় আবার গ্রামে ফিরে গেছেন। তবে বঙ্গবন্ধু কন্যার সহায়তা পেয়েছেন বরাবরই।

২০০৮ সালের পরে বঙ্গবন্ধু কন্যার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মানবতার জননী বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর অপার স্নেহে রানা ভাইকে একটি চাকুরির ব্যবস্থা করে দেন। সেই থেকে রানা ভাই নিয়মিত চাকুরির সুবিধাও পান।

আমাদের প্রত্যাশা রানা ভাইদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু বাস্তবতা আমাদের সেই স্বপ্নকে অধরাই রেখে দেয়!

বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর একজন কর্মীর জন্য হাত বাড়িয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি।

আমি বিশ্বাস করি রানা ভাই কখনো কারো করুণা চান নি। তাঁর অতীত সংগ্রামী বিচরণকাল সাক্ষ্য দেয় তিনি লড়াকু। 

তবে হ্যাঁ, রানা ভাই এই বেঁচে থাকাকে অর্থবহ ও আনন্দময় করতে আমাদের আরো সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল। যাদের সুযোগ ছিল ও আছে, তারা এমন কিছু করতে পারতেন ও পারেন; যাতে রানা ভাইয়ের জীবন গতিময় ও প্রাণময় হয়। এটুকুই প্রত্যাশা করা করি।

বিদ্র: মোতাহার হোসেন রানা ভাই যে কমিটির সদস্য ছিলেন, সেই কমিটির প্রায় প্রত্যেকেই এখন জাতীয়ভাবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত নেতা।''

শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৩ টায় মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া স্কুল মাঠে এ কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানি অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, যে ধরনের নেতা নির্বাচন করা হয়েছে তারা আগামী ২০ বছর দলকে ক্ষমতায় রাখতে সক্ষম। আমি বেঁচে না থাকলেও আগামীতে নৌকার যেন ভরাডুবি না হয় আপনারা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সঞ্চালনায় কাউন্সিলে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

এতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীকে। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে মোতাহার হোসেনকে অবহেলা করার বিষয়টি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।  

Ads
Ads