যুবলীগের সিংহাসন পুনরুদ্ধার হচ্ছে শেখ পরশের মাধ্যমে

  • ২১-Nov-২০১৯ ০৪:৪০ অপরাহ্ন
Ads

:: জিএম রফিক ::

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে স্বাধীনতার সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণির হাতে গড়া সংগঠন যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস কাল। কে হচ্ছেন যুবকা-ারি তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসছে সম্ভাব্য নেতাদের নাম। তবে শেখ ফজলুল হক মণির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশের মাধ্যমে যুবলীগের সিংহাসনের জৌলুস পুনরুদ্ধার হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশিরভাগ সূত্র মনে করছে, শেখ ফজলে শামস পরশই হবেন যুবলীগের চেয়ারম্যান। 

আগামীকাল শনিবার সপ্তম কংগ্রেস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পদ্মাসেতুর আদলে তৈরি মঞ্চ থেকে বেলা ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে কংগ্রেসের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে রাজধানীতে আসতে শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও। সারা দেশের যুবলীগ নেতারা তাকিয়ে আছেন তাদের ভবিষ্যৎ নেতার দিকে। সবখানে চলছে আলোচনা, যুক্তি। 

রাজপথের ভ্যানগার্ড বলে পরিচিত ১৯৭২ সালে শেখ ফজলুল হক মণির হাতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির কয়েক নেতার অসৎ কর্মকা- সম্প্রতি প্রশ্নবিদ্ধ করে যুবলীগকে। সম্প্রতি চলমান শুদ্ধি অভিযানে বিতর্কিত কর্মকা-ের জেরে সবচেয়ে বেশি যুবলীগ নেতাদের নাম আলোচনায় উঠে আসে। বিতর্কিত কর্মকা-ের জেরে পদ হারান সংগঠনটির খোদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এর আগে ক্যাসিনোকা-ে বহিষ্কার হন মহানগরের কয়েক নেতা। ফলে কিছুটা হলেও এই সংগঠনের সিংহাসন তার জৌলুস হারায়। নানাভাবে বিতর্কে যুবলীগের নেতৃত্বে লাগে দোলা। ফলে নেতৃত্বে দেখা দেয় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা। ‘বিতর্কিত ও পথভ্রষ্ট’দের ঠাঁই হবে না বলে একাধিকবার জানানো হয় আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হুঁশিয়ার করে দেন। চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য সব পদেই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন এমন কাউকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানান সপ্তম কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে।

যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এবার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন বলে আমি মনে করি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অন্যতম প্রধান গেরিলা বাহিনী ‘মুজিব বাহিনী’র হাতিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণির নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত এবং পরিচালিত হয় আওয়ামী যুবলীগ। পথ পরিক্রমায় হাতবদল হয় নেতৃত্বের। জানা গেছে, আসন্ন সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের দুই শীর্ষ পদে আসছে একঝাঁক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ সব শ্রেণিপেশার যুবকদের নিয়ে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব, যারা সিদ্ধান্ত নেবেন অনেক দ্রুত। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবার তারাই নেতৃত্বে আসবেন, যারা তাদের জ্ঞান আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা অনেক বেশি পরিপক্ব হবে। তারা চ্যালেঞ্জকে ভয় পাবেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে যুবলীগের অতীতের সৃষ্টিশীল সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে সক্রিয় করে তুলতে নতুন এই নেতৃত্ব ভূমিকা রাখবে। জানা গেছে, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশই হচ্ছেন সপ্তম কংগ্রেসের মাধ্যমে যুবলীগের চেয়ারম্যান। আর তাই অনেকের মতে, ‘শেখ পরশের মাধ্যমেই যুবলীগের সিংহাসন পুনরুদ্ধার হতে চলেছে।’

শেখ পরশ দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আস্থাভাজন। শেখ পরশ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও  স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। পরে তিনি আমেরিকা থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। 

যুবলীগের কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘কমিটিতে শুধু চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদকই নয়, প্রেসিডিয়াম সদস্যরা থাকেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকম-লীর সদস্যরা রয়েছেন। প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সবাইকে সন্নিবেশিত করতে হবে। তাহলেই যুবলীগে একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।’ নানক আরো বলেন, ‘আমি যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি নিজেও সাত বছর পরে কংগ্রেস করার সুযোগ পেয়েছি। তবে এত দীর্ঘদিন পর কংগ্রেস হলে তরুণদের জন্য সুযোগ কমে যায়। আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনের জন্য একটি গতিশীল, সৎ ও নির্ভীক নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমরা আশা করি, ত্বরিতকর্মা নেতৃত্ব খুঁজে পাবে যুবলীগ এবং সেই নেতৃত্বই আগামী দিনে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নেবে।’ যুবলীগ ইমেজ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে কি না, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নতুন যে কমিটি দায়িত্ব নেবে, তারা সার্বিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করবে, যুবলীগ একটি সৃষ্টিশীল সংগঠন।’

উল্লেখ্য, যুবলীগের সর্বশেষ কংগ্রেস হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। ওই কংগ্রেসে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হন হারুন-অর-রশিদ। ১৪৯ সদস্যের এই কমিটিতে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। পরে আরো দুজনকে নিয়োগ দিয়ে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়।

Ads
Ads