ই-টেন্ডারিং দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

  • ১-Dec-২০১৯ ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঠিকাদারিতে ই-টেন্ডারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেখানেও ঢুকে পড়েছে দুর্নীতি। এই দুর্নীতির ধরন হচ্ছে- ঠিকাদাররা ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদপত্র যুক্ত করছে, ভুয়া প্রশংসাপত্র জুড়ে দিচ্ছে, ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাচ্ছে, ভঙ্গ করছে চুক্তির মৌলিক শর্ত। দুর্নীতিবাজ ঠিকাদাররা চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করছে না, ভঙ্গ করছে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকার করতে এখন পর্যন্ত ৩০৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শাস্তি হিসেবে এদেরকে কাজ দেয়া হচ্ছে না। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, কালো তালিকাভুক্ত দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের শুধু কাজ থেকে দূরে রাখাটাই যথেষ্ট শাস্তি নয়, তাদেরকে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনতে হবে।

ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থা চালু হলেও দুর্নীতির নতুন উপায় উদ্ভাবন করা হচ্ছে। যেমন কোনো কোনো এলাকার কাজে সিঙ্গেল দরপত্র পাওয়া যাচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, ওই এলাকার প্রভাবশালী কোনো ঠিকাদার অন্য ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশ নিতে হুমকি দিচ্ছে অথবা অন্য কোনো উপায়ে নিবৃত্ত করছে। এটা পূর্বতন অন্যের টেন্ডারের কাগজপত্র ছিনতাইয়ের মতোই দুর্নীতি বলা যায়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি চালু হলেও টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি আগের মতোই রয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

পরিকল্পনামন্ত্রী এবং আইএমইডির সচিব উভয়েই ই-টেন্ডারিংয়ে দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বলেছেন, তারা কালো তালিকা মনিটরিং করছেন। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তরা যাতে কোনোভাবেই টেন্ডারে অংশ নিতে না পারেন সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। কালো তালিকাটি সংরক্ষণ ও তদারকি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিপিটিইউ। আমাদের কথা হল, পুরো বিষয়টির দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে, তাদেরকে কঠোরতার সঙ্গে বিষয়টির দেখভাল করতে হবে। বর্তমানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলছে। ঠিকাদারি খাত দুর্নীতির একটি বড় জায়গা।

এ খাত থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে অথবা কমিয়ে আনতে পারলে দেশের সার্বিক দুর্নীতির অনেকটাই দূরীভূত হবে। কালো তালিকার কোনো প্রতিষ্ঠানই যাতে ভবিষ্যতে কাজ না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কথা এখানেই শেষ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টিতে এগিয়ে আসতে পারে। তালিকার নাম ধরে ধরে দুদক যদি তদন্ত করে, তাহলে দুর্নীতির আরও বড় চিত্র ফুটে উঠতে পারে।

Ads
Ads