মেজাজ হারিয়ে ২ ঘণ্টায় ১২৩ বার টুইট করে ট্রাম্পের বিশ্ব রেকর্ড!

- ১৫-Dec-২০১৯ ০৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
:: আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাকে বলা হয় টুইটারে টুইট করার ওস্তাদ। জটিল থেকে সহজ, সমালোচনা, গুণগীত ছাড়াও সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত টুইট করেন তিনি। এবার টুইটারে টুইট করে বিশ্ব রেকর্ড করলেন ট্রাম্প।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কার্যক্রমে বাধাদানের অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিভাগীয় কমিটি। বিচারবিভাগীয় কমিটির অনুমোদনের পর মাত্র দুই ঘণ্টা ১২৩ বার টুইট করে রেকর্ড গড়েছেন ট্রাম্প।
বিচারবিভাগীয় কমিটি শুক্রবার শুনানি শেষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অনুমোদন দেয়। বিচারবিভাগীয় কমিটিতে ২৩-১৭ ভোটে অভিযোগ অনুমোদন পায়। এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে তার বিরুদ্ধে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনে এটি একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া।
বিচারবিভীয় কমিটির এই পদক্ষেপের পর অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে মাত্র দুই ঘণ্টা ১২৩ বার টুইট, রিটুইট করেছেন ট্রাম্প। এক টুইটে তিনি বলেছেন, এটা ঠিক নয়, আমি কোনো ভুল না করেও অভিশংসিত হতে যাচ্ছি। মৌলবাদী বাম এবং অকর্মা ডেমোক্রেটরা সবার ঘৃণার পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তারা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত খারাপ।
আরেক টুইটে ট্রাম্প বলেন, আপনি যখন কোনো ভুলই করেননি তখন কীভাবে অভিশংসিত হবেন। আমাদের দেশের ইতিহাসে সেরা অর্থনৈতিক অবস্থা তৈরি, সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠন ভি. এ সমস্যার সমাধান, ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন কর্তন, সেকেন্ড এ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান এবং আরও অনেক কিছু করেছি। পাগল!
তবে ট্রাম্প তার এই ম্যারাথন টুইটে গণমাধ্যমকেও ছাড়েননি। ফক্স নিউজকে অভিনন্দন জানিয়ে এক টুইটে তিনি লিখেছেন, এক নম্বর ক্যাবল নিউজ শো ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডকে অভিনন্দন। সিএনএন এবং এমএসএনবিসি পুরো মাতাল হয়েছে; তাদের রেটিং অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য। দুর্বৃত্ত ডেমোক্রেট নেতৃত্বাধীন হাউসে আমাদের সব প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হবে।
মার্কিন এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ এনে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো, আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট দলীয় জো বাইডেনের দুর্নীতির তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগ এবং অপরটি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্তে সহযোগিতা না করা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, এই দুই অভিযোগের ব্যাপারে ডেমোক্রেট নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিশংসিত হতে পারেন। প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ ভোটাভুটিতে ট্রাম্প হেরে গেলে দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে অভিশংসনের চূড়ান্ত বিচার শুরু হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার উদ্যোগ এই প্রথম নয়। অভিশংসন প্রতিবেদনটি পাস হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিশংসিত হবেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং ১৮৬৮ সালে অ্যান্ড্রু জনসন অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে তাঁদের কেউই অপসারিত হননি। আর ১৯৭৪ সালে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জেরে আনা অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন রিচার্ড নিক্সন। ফলে তিনিও সেই অর্থে অভিশংসিত হননি।