আওয়ামী লীগ অমলিন সব সময়

  • ২১-Dec-২০১৯ ০৫:০৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

নীতি আদর্শের অনুকরণীয় রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার চেতনায় ভাস্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গত শুক্রবার বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয় এর ২১তম জাতীয় সম্মেলন। শনিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ফের দায়িত্ব পেয়েছেন ওবায়দুল কাদের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রাণ পাওয়া রাজনৈতিক দলটিকে দমিয়ে রাখার জন্য ও নিশ্চিহ্ন করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করেও টিকতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে যথার্থই বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি।’

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণের মাধ্যমে দলটি অসাম্প্রদায়িক বৈশিষ্ট্যম-িত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নামকরণ হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। এখন দলটি প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পার করছে। এ পর্যন্ত দলের ২১টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। ১৯৪৯ সালে ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে প্রথম জাতীয় সম্মেলনে প্রতিনিধি ছিলেন প্রায় ৩০০ জন। উদ্বোধনী ভাষণ দেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। পরে প্রতিনিধিদের সমর্থনে ৪০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৫৩ সালে ৩, ৪ ও ৫ জুলাই ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। সর্বশেষ দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এবারও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের কাণ্ডারি অপরিবর্তিত। 

আওয়ামী লীগ দেশের জন্য কাজ করে বলেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সব থেকে বড় ষড়যন্ত্রের শিকার হয় দলটি। এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। ভাগ্যের জোড়ে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। এরপর বহুবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার কঠিন ষড়যন্ত্র করা হয়। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে কালিমা লেপনের চেষ্টাও করে। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই তারা অসফল হয়। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা পাকিস্তান আমল থেকেই। জাতির পিতার হাতে গড়া বলেই এই দলকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি। যারা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের শ্রদ্ধা করি। আওয়ামী লীগের জন্ম মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এ দল ক্ষমতার মসনদে থেকে গঠিত কোনো দল নয়, জনগণের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা দল।’ আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, মানুষকে কিছু দিয়েছে। অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু কাজ করে গেছেন। ‘নীতিহীন নেতৃত্ব সাময়িকভাবে দলকে হয়ত চাঙ্গা করতে পারে, কিন্তু পরে এর ক্ষতি অনেক বেশি।’ আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীর এই কথাকে সব সময় মাথায় নিয়েই পথ চলে।

Ads
Ads