যত দোষ সম্রাটের বাকি সবাই ধোয়া তুলসী

  • ২১-Dec-২০১৯ ০৮:১৮ অপরাহ্ন
Ads

:: নঈম নিজাম ::

আজকের লেখা শুরু করছি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে। নতুন কমিটিতে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। অনেকে বলছেন, নতুন বোতলে পুরনো মদ। কেউ বলছেন, কারও পদোন্নতি হয়েছে। বাকিরা বহাল। তবে নতুন একজনকে চোখে পড়েছে। তিনি শাজাহান খান। প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন। সবাইকে অভিনন্দন। ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, ছয় দফা, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ দীর্ঘ পথ পরিক্রমার এই দলটি এখন সুসময় অতিক্রম করছে। আবার দেখেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর নিষ্ঠুর রাজনীতির নেতিবাচক কঠোরতম সময়ও। ইতিহাস বলে, ক্ষমতা ও পদপদবি ক্ষণস্থায়ী।

আজ আছে কাল নেই। কিন্তু অবস্থান পাওয়ার পর কেউ তা মনে রাখে না। রাজনৈতিক দলগুলো সরকারে একরকম। বিরোধী দলে আরেকরকম। এই ছোট্ট জীবনে দেখেছি বিরোধী দলের চেনা মানুষগুলো ক্ষমতার মসনদে এসে সব ভুলে যায়। তারা অনেক কিছু মনে রাখতে পারেন না। নতুনকে ঘিরেই সামনে চলেন। এই পথচলায় আওয়ামী লীগের এই তিন মেয়াদে ক্ষমতার অনেক বছর চলে গেছে। ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া শিশুটির বয়স এখন ১২ বছর। আর ছয় বছর পর এই শিশু নিজেকে পরিপূর্ণ যুবক মনে করবে। চোখের সামনের ঘটনাগুলোই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর ২০০৯ সালে যার বয়স ১০ বছর ছিল আজ সে পরিপূর্ণ যুবক। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে। অতীত নয়, তার চোখের সামনের বর্তমানই গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে মনে রেখেই আগামীর রাজনীতি পরিচালিত হবে। বর্তমান কমিটি নতুন প্রজন্মের সেই চ্যালেঞ্জ কতটা অনুধাবন করতে পারবে সময় বলে দেবে। আগাম কিছু বলতে চাই না। সময় গণনা শুরু হয়ে গেছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। শুনতে হয়। অনেক ধরনের মানুষ আসেন। অনেকে ফোন করেন। সব ফোন ধরা হয় না। সেদিন ছাত্রলীগের এক নেতা এলেন অফিসে। বললেন, ভাই কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতে চাই। বললাম, বল, সমস্যা নেই। ছেলেটি এবার বলল, সম্রাট ভাইকে দেখতে গিয়েছিলাম হাসপাতালে। সাধারণ ওয়ার্ডে তাকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছে। জেলখানায়ও থাকেন সাধারণ কয়েদির মাঝে। দীর্ঘদিন রিমান্ডে ছিলেন। শরীর-মন ভেঙে গেছে। আমি বললাম, সমস্যা কী? অপরাধ করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। আইন সবার জন্য সমান। সম্রাট হোক আর সাধারণ প্রজা হোক, সবাইকে এক চোখে দেখাই আইনের কাজ। ছেলেটি এবার বলল, অপরাধ করলে শাস্তি পাবে ঠিক আছে। আপনার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করছি না। কিন্তু ইসমাইল হোসেন সম্রাট ছিলেন যুবলীগের নগর সভাপতি। দল বিরোধী দলে থাকার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ছাত্রলীগেরও নেতা ছিলেন। সেই সম্রাটকে কেন পদপদবি দিয়ে সামনে আনা হলো? উত্তর দিতে পারলাম না। ছেলেটি আবার বলল, তখন হয়তো রাজপথের জন্য প্রয়োজন ছিল। এখন অন্য হিসাব। দল সরকারে আসার পর ক্যাসিনো কান্ড তো এক দিনে হয়নি। কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটি বেচাকেনাও হঠাৎ হয়নি। দীর্ঘ সময় লেগেছে। দল কি তা টের পায়নি? পেলে কেন ব্যবস্থা নিল না? আর সম্রাটদের যারা সৃষ্টি করেছেন তাদের কি বিচারের আওতায় আনা হবে? নাকি তারা সবাই ধোয়া তুলসী পাতা? গত ১০ বছর ঢাকায় বড় বড় শোডাউনের নেতৃত্বে সম্রাটকে কেন প্রশ্রয় দেওয়া হতো? ছেলেটির দিকে তাকালাম। বুঝতে চাইলাম কী বলতে চাইছে। সে আবার বলল, সম্রাটরা বিরোধী দলে থাকতে রাজপথ নিয়ন্ত্রণে আনতেও অনেক খারাপ কাজ করে। পুলিশের খাতায়ও তাদের নাম আসে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে। দল সরকারে এলে তারকা নেতাদের পাল্লায় পড়ে সম্রাটরা ক্যাসিনো কান্ড ঘটায়। ভাগবাটোয়ারা পাঠায় নেতাদের। শুধু মাসিক বখরা না, ভোটের সময়ও অনেক সিনিয়র নেতা সম্রাটের কাছ থেকে খরচ নিয়েছেন। বিস্ময় চোখ নিয়ে তাকালাম! বলে কী। ছেলেটি বলল, শুনেছি কমপক্ষে ৬০ নেতাকে সম্রাট ভোটের সময় খরচ পাঠিয়েছেন। এর মাঝে ভালো ইমেজের নেতাই বেশি। অনেকে এখন প্রভাবশালী সুশীল মন্ত্রী। এ ছাড়া আরেক দল নেতা নিয়মিত ক্যাসিনোপাড়া থেকে অর্থ নিতেন। এসব কথা শুনতে ভালো লাগল না। ছেলেটিকে বিদায় দিলাম। মনটা খারাপ হয়ে গেল।

Ads
Ads