প্রাণের মানুষ শেখ হাসিনার ছুটি চান না জনগণ

  • ২২-Dec-২০১৯ ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাঙালির জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা, একে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই জাতির পিতা তার সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য তিনি আজীবন জেল, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশমাতৃকার প্রশ্নে জাগ্রত করে তোলেন এবং সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রাণ পাওয়া সেই দল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির পিতাকে। এরপর ২৯ বছর এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধীরা। তাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যত সংগ্রাম আওয়ামী লীগই করেছে এবং আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এদেশে এখন দারিদ্র্য কমে বিশ শতাংশে নেমে এসেছে। অচিরেই শূন্যের কোঠায় নিতে চলছে প্রচেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী তার দক্ষ পরিচালনায় এমন একটি সোনার বাংলা গড়ে দিতে পিতার পথেই হাঁটছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে, অনেকেই ক্ষমতায় আসার পরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটা পেরেছে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এবং জাতির যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এর নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলরকে এটা মাথায় রাখতে হবে জাতির পিতার সেই আদর্শ নিয়েই আমরা দেশকে গড়ে তুলবো।’ 

বাংলার জনগণকে জাতির পিতার স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনকালে জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে দেওয়া হয়নি। তাকে হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা। সেই স্বপ্ন পূরণই এখন প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই তার সরকার কাজ করে বিগত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। লক্ষ্য আরও অনেক দূর যেতে হবে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীকে নেতৃত্বে দেখা গেছে আবারও। এই কমিটিতে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে।

সম্মেলনে এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন ৭জন। এর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আটবার, আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১০জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এ ছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ তিনবার, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও ওবায়দুল কাদের দুইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও আবদুল জলিল একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

যদিও প্রধানমন্ত্রী নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার বয়সের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘ ‘আমি চাচ্ছিলাম, আমাকে একটু ছুটি দেবেন। আপনাদের ভাবতে হবে আমার বয়স হয়ে গেছে। আমার বয়স এখন ৭৩। এবারও আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।’ কিন্তু তাকে ছুটি দিয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে আড়ালে রাখতে চান না বাংলার আপামর জনগণ। তাকে পাশে পেলেই সবার স্বস্তি, সবার শান্তি। তিনি এভাবেই বাঙালির প্রাণের মানুষ হয়ে বেঁচে থাকুন হাজার বছর।

Ads
Ads