ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব আসুক ঢাকা সিটিতে

  • ২৪-Dec-২০১৯ ০৪:৫২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এ তফসিল অনুসারে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামী ৩১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২ জানুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নরুল হুদার এই তফসিল ঘোষণার পরপরই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বড় সব দলে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। বাসা থেকে শুরু করে চায়ের দোকানেও চলছে মেয়র প্রার্থী ও মনোনয়ন নিয়ে কথাবার্তা। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানের পর এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে সবার চোখ ক্লিন ইমেজের দিকে। সবাই বুঝতে পেরেছেন, ক্লিন ইমেজের নেতাদের হাতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগ বরাবরই স্বচ্ছ নেতৃত্বে বিশ^াসী। তাই এর গায়ে লাগেনি কালিমা। যুবলীগে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও বর্তমানে তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতায় রয়েছে। তাই ক্ষমতাসীন এই দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন তা জনগণের মনঃপূত হবে বলেই সবার আস্থা ও বিশ^াস আছে। তবে বিএনপিতে দেখা দিয়েছে একক প্রার্থী মনোনয়নের চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে জাতীয় পার্টিতে জিএম কাদেরের নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। এমন এক অবস্থায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলো থেকে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে একটা সংকট তৈরি হয়েছে। আর সেই জন্যই আগে থেকেই সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে সব স্তরে।

বারবার আমরা দেখেছি, নির্বাচন আসলেই পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে বিএনপি। তাই ভোটের বিষয়ে যেমনটা পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি, ঠিক তেমন ভোটপূর্ব নিরাপত্তারও ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। কোনো ধরনের গুজব, বিশৃঙ্খল পরিবেশ যেন কোনোভাবেই সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকে নিশ্চয়ই আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ভোটার ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র এক হাজার ১২৪টি এবং ভোটকক্ষ পাঁচ হাজার ৯৯৮টি। আর ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। সম্ভাব্য  ভোটকেন্দ্র এক হাজার ৩৪৯টি এবং ভোটকক্ষ সাত হাজার ৫১৬টি। ডিএনসিসিতে কাউন্সিলর পদ নারীদের জন্য ১৮টি সংরক্ষিতসহ মোট ৭২টি। আর ডিএসসিসিতে কাউন্সিলর পদ নারীদের জন্য ২৫টি সংরক্ষিতসহ মোট ১০০টি।’ তফসিল ঘোষণার সময় সিইসি জানান, এ দুই সিটির নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ও বুথে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী থাকবে না। পুলিশ, বিজিবি থাকবে। তবে ইভিএম পরিচালনায় কারিগরি সহায়তার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুজন করে সেনা সদস্য থাকবেন।

ইতোমধ্যে দলীয় প্রতীকের মেয়র প্রার্থীদের প্রত্যয়নের ক্ষমতা কার, তা জানাতে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারীর মধ্য থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রার্থী মনোনয়নে তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি, নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি তফসিল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জমা দিতে বলা হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে পারবে। তবে কোনো স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আগে সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে থাকলে তার জন্য ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা প্রয়োজন হবে না।

নির্বাচনের যে কোনো আগাম প্রচার কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সব ধরনের আগাম প্রচার-প্রচারণা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও সিটি বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য দুই সিটিতে ৪৩জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্তও হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকেই আমরা জয়ী হিসেবে দেখতে চাই। আর সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

Ads
Ads