শান্তি ও সম্প্রীতির মানবধর্ম গড়বে সোনার বাংলা

  • ২৫-Dec-২০১৯ ০৫:০৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা কামনা করে গতকাল সারা বিশ্বে পালিত হয়েছে বড়দিন। গির্জায় গির্জায় বিশ্ববাসীর কল্যাণে হয়েছে প্রার্থনা। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বড় উৎসবে যিশুখ্রিস্টকে স্মরণ করে হিংসা-বিদ্বেষ, অন্যায়-অত্যাচার ও পাপাচারে নিমজ্জিত মানুষকে সুপথ দানের কথা বলা হয় বিশেষ প্রার্থনায়। বাংলাদেশের রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসাহ, উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়েছে বড়দিন। অসাম্প্রদায়িক এই দেশে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষই আনন্দে মেতেছিলেন। 

দুই সহস্রাধিক বছর আগে এই দিনে জেরুজালেমের বেথেলহেমে আবির্ভূত হয়েছিলেন যিশুখ্রিস্ট। তিনি সারাজীবন আর্তমানবতার সেবা, ত্যাগ ও শান্তির আদর্শ প্রচার করেছেন। শাসকের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষ নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি শাসকের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে ক্রুশবিদ্ধ হন। প্রতি বছরই যিশুর জন্মদিন বড়দিনে খ্রিস্টান সমাজ আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। এদিন বিশ্ববাসীকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে যিশুর আদর্শ তাদের প্রেরণা দেয়। তারা স্বপ্ন দেখে যিশুর বাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামীতে এক আনন্দময় ও পাপমুক্ত বিশ্ব গড়ে উঠবে। বড়দিনের উৎসব পালনের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ প্রথাগত নিয়ম থাকলেও পৃথিবীর নানা দেশে আঞ্চলিক সংস্কৃতি এই উৎসবকে প্রভাবিত করেছে। বড়দিনের উৎসবে অন্য দেশের মতো সান্তাক্লজের উপস্থিতি আমাদের দেশেও দেখা যায়। শিশুদের প্রিয় এই উপহারদাতার নাম বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। তবে তার ভাব-আচরণ সর্বত্র প্রায় এক রকম। তিনি শিশুদের ভালোবাসেন এবং বড়দিনের উৎসবের সময় তাদের নানা রকম উপহার দেন।

গত মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খ্রিস্টান পরিবারে কেক তৈরি করা হয়, রাখা হয় বিশেষ খাবারের আয়োজন। অনেক স্থানে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসরের আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেছেন অনেকে, চলে উপহার বিনিময়। বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। 

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে জাতিতে জাতিতে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ অশান্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যিশুখ্রিস্টের শিক্ষা ও আদর্শ খুবই প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি বাংলাদেশ।

প্রত্যেক ধর্মেরই মূল বাণী মানবতা। বড়দিন উপলক্ষে যে প্রেম, প্রীতি ও শান্তির বাণী প্রচার করা হয়, তার মূলেও রয়েছে মানবতা। কোনো ধর্মই এই বোধ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। মহামানব যিশু যে প্রেম, শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী প্রচার করেছেন তার যথার্থ প্রতিফলন সবার জীবনে ঘটলে বড়দিনের উৎসব সবার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। দেশের সব মানুষ মানবধর্মে উদ্ভাসিত হয়ে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় শপথ নিতে হবে। তাহলেই আমরা সার্থক সোনার বাংলা দ্রুত গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। 

Ads
Ads