দিনে দিনে কমে আসছে ভোটে ভোগান্তি

  • ২৬-Dec-২০১৯ ০৫:০১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সবগুলো কেন্দ্রে এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। এর আগে ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন দুই সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণের জন্য ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে। ইভিএমে অভ্যস্থ হয়ে উঠলে ভোট প্রদানে নানা ভোগান্তি কমে আসবে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় শেষ হয়ে আসছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতি আরও উন্নত হবে এবং একদিন মানুষ এ পদ্ধতিতে ঘরে বসেই ভোট দিতে পারবে সাধারণ মানুষ- এমনটাই আশা ডিজিটাল বাংলাদেশের জনসাধারণের। যদিও ইভিএমে ভোটগ্রহণ পদ্ধতির বিরোধিতা করছে বিএনপি। গণমাধ্যমকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এটি করা হয়েছে সরকারি দলকে জেতানোর জন্য। আরেকটা বিষয় হলো ইভিএমে ভোটগ্রহণ। এটাও সরকারকে জেতানোর জন্য ইসির সিদ্ধান্ত বলা চলে। আমরা আবারও ইভিএমের বিরোধিতা করছি।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণে সাঈদ খোকন ও ঢাকা উত্তরে আনিসুল হক। তবে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এখানে উপনির্বাচন হয়, যেখানে মেয়র হয়েছিলেন আতিকুল ইসলাম। ওই ভোটে পরীক্ষামূলক কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়, যেখানে কোন প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়নি। দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে ওই নির্বাচনের আগে বিএনপি যে তাদের পূর্বাভাসে ভোট কারচুপির দাবি করেছিল তা মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। এরপর আবারও একই ধরনের উক্তি বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন ও দেশকে প্রযুক্তিতে পিছিয়ে নেওয়ার পায়তারা বলে মনে হচ্ছে। ইভিএমে আপত্তি প্রসঙ্গে এটি ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য বরং আপত্তিকর। তিনি বলেছেন, ইভিএম পদ্ধতিতে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এখানে গণতন্ত্রের কথাকে উল্লেখ করে অগণতান্ত্রিক মন্তব্য করেছেন বলেই আমরা দেখছি। কারণ প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেই দিয়েছেন, অধিকাংশরা না চাইলে তিনিও ইভিএম চাইবেন না। দেশে নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইভিএমের বিরোধিতা কতটা গণতান্ত্রিক তা প্রেক্ষাপটেই প্রতিমান।

সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ থাকে প্রথম সভা থেকে পরের পাঁচ বছর পর্যন্ত। সে হিসাব অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৬ মে। এদিকে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটের আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে। দুই সিটির নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ও বুথে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। তবে ইভিএম পরিচালনায় কারিগরি সহায়তার জন্য প্রতি কেন্দ্রে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান রাখা হবে। বঙ্গবন্ধুকন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যমআয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছে। আগামীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ নিয়ে আমরাও চাই দেশ এগিয়ে যাক। এটাই হোক সবার প্রত্যাশা।

Ads
Ads