এক অঙ্কের ঘরে সুদহার, সাদুবাদ আমাদেরও

  • ২৯-Dec-২০১৯ ০৪:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটা কাঠামোর মধ্যে এনে সুদহার নির্ধারণ করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে কার্যকরের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে।

২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিনিয়োগবান্ধব এই সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদন খাত এগিয়ে যাবে। কারণ ব্যবসায় খরচ অবশ্যই কমবে। বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবেন। ফলে শিল্পায়নের দ্রুত প্রসার ঘটবে। মুক্ত বাজার অর্থনীতির এই যুগে পাল্লা দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও শিল্পখাতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। এর আগে সুদের মাশুল গুণতে গিয়ে পিছলে পড়তেন তারা। ব্যবসায় খরচ কমানো না গেলে বিদ্যমান বাস্তবতায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে উৎসাহ পাবে না বলে বহুবার কথা বলেন । একই সঙ্গে এক অঙ্কে সুদের হার নামিয়ে আনার দাবিও জানায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্ত এলো।

তবে ৯ শতাংশ সুদহার যেন দীর্ঘমেয়াদি হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত টেকসইকরণে ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠনেরও প্রয়োজনীয়তা ভেবে দেখতে হবে। আবার সব ব্যাংক যেন সমানতালে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে এবং কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই ব্যবসায়ীরা ঋণ পায়, সেদিকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর নজরদারি করতে হবে। অন্যদিকে ব্যবসায় খরচ কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও যেন তার ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। 

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর যেমন করতে হবে, পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসায় যেন ধস না নামে, তাও যেন টিকে থাকে।’ ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেই কেবল চলবে না,  সেটাকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এমন যেন না হয়, কিছু ব্যাংক সিদ্ধান্ত মানছে, আবার কিছু ব্যাংক দেখা যাচ্ছে সিদ্ধান্ত মেনে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ দিচ্ছে না, অথবা উৎপাদন খাত বাদ রেখে খুচরা ব্যবসায় ঋণ চলে যাচ্ছে। তাই ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্সশিট নিয়মিত দেখার পাশাপাশি কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এসব দিক বিবেচনায় এবং দেশের শিল্পায়নের স্বার্থে ব্যাংক ঋণ যেন উৎপাদন খাতে যায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পায়, সেটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরাও। সাদুবাদ জানাই আমরাও।

Ads
Ads