বিদায় ২০১৯, স্বাগত টুয়েন্টি-টুয়েন্টি

  • ৩১-Dec-২০১৯ ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

আমরা একটি নতুন বছরে পা রাখলাম। স্বাগত টুয়েন্টি টুয়েন্টি (২০২০) খ্রিস্টাব্দ! বিদায়ী বছরের  জ্বরা-পঙ্কিলতা কাটিয়ে অর্জনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বছরে সব অপূর্ণতা দূর করার আশা ও প্রত্যয় নিয়ে টুয়েন্টি-টুয়েন্টিতে রয়েছে ভিশন। সেই ভিশনের আশাময় মুহূর্তে আমরা দৈনিক ভোরের পাতা’র সব পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

সময়ের কাঁটায় ভেসে একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকের শেষ বর্ষে পা রাখল নতুন বছর। বর্ষ পরিক্রমায় যুক্ত হলো আরেকটি পালক। নতুন বছর মানে নবযাত্রা। শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার অপার বারতা এই বিশেষ বছরে রয়েছে বিশেষ প্রত্যয়; পুরনো বছরটি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত আহ্বান। 

পুরনো বছরের সংশয়, সংকট, উদ্বেগ কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবনার আশায় নতুন করে দিনযাপন শুরু আজ থেকে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশও পা ফেলেছে উনপঞ্চাশ বর্ষে। বাঙালি জীবনে গ্রেগরিয়ান নববর্ষ পালনের রেওয়াজ ব্রিটিশ শাসনামল থেকে অনুসৃত হয়ে আসছে বলা যায়। সম্প্রতি তা পরিসরে বেড়েছে। ইংরেজি নববর্ষ হিসেবে বাঙালির কাছে পরিচিত দিবসটি পালনের ধরন সারা পৃথিবীতে একই রকম। পশ্চিমা বিশ্বে এর আনন্দটা একটু বেশি। তবে পশ্চিমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালিও নতুন আনন্দে মেতে ওঠে তথ্যপ্রযুক্তির এই প্রাগ্রসর যুগে। বহু মানুষ এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা কার্ড, এসএমএস, ফেসবুক, টুইটার, এ্যাপল এবং ই-মেইলে হাজার হাজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুরনো বছর যেমনই কাটুক, নতুন বছর যেন ভাল কাটে সেই কামনা থাকে সবার মধ্যে।

বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে নতুন বছরে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত সমাজ, যুদ্ধাপরাধীদেরও চিহ্নিত তালিকা। সঙ্গে যেন সরে যায় সমাজের বেড়াজাল থেকে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও অপরাজনীতি। বিনাশ হোক সব অপশক্তি। বিদায়ী বছরে যারা পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়িয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে রেণুসহ অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, নিশ্চয় তাদের বিচার হবে, যেমন বিচার হয়েছে বিদায়ী বছরে পুড়িয়ে হত্যা করা ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার খুনিদের। রায় হয়েছে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলা এবং স্কুলশিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়াকে জাবালে নূর বাসের চাপায় হত্যা মামলার। বরগুনার রিফাত হত্যাকা- খোলসাসহ বুয়েটে নির্মম হত্যার শিকার আবরার ফাহাদের খুনিদের বিচার সম্পন্ন হবে বলে আশা করেন বাংলার জনতা। আর সে আশা পূরণের পথেই সরকার সকল তৎপরতা ও নির্দেশনা রয়েছে। 

গেল বছর ডেঙ্গুতে যাদের প্রাণ গিয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সঙ্গে সঙ্গে এ বছরে যারা রাজধানীর দুই সিটির দায়িত্বে আসছেন, তারা নিশ্চয় এ বিষয়ে কড়া নজরদারি করবেন। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাঙ্গনে আন্দোলনে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। যৌক্তিক চাহিদা ও দাবি নিয়ে দাঁড়ালে আন্দোলন ছাড়াই অনেক কিছু আদায় করা সম্ভব, এটা মাথায় রেখেই নতুন বছরে এগোবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়ালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য ন্যক্কারজনক বিষয়। এদিকে হাঁটবেন না তারা এমনটাই আশা সবার। আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে ৪টি বিশ^বিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছে। 

দেশবাসী প্রত্যাশা করে সমঝোতার সংস্কৃতি রচনায় রাজনৈতিক দলগুলো অগ্রসর হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিম্নমধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি আমরা। তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি যেন আর মাথাচাড়া দিতে না পারে সে বিষয়ে সকলেই সমান দৃষ্টি রাখবে। জীবনের নিরাপত্তা, সহনীয় দ্রব্যমূল্য এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও এগিয়ে নিতে সবাই মিলে কাজ করা হোক এটাই নববর্ষের প্রত্যয়। 

গেল বছরে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতি কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে, দেশ থেকে দারিদ্র্যের মুক্তি হবে এই প্রত্যাশা আমরা ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির ওপর বিশ^াস রেখে যেতেই পারি। চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে আর যা প্রয়োজন তা ভেবে অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে তৎপর রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পেঁয়াজ নিয়ে অসাদু ব্যবসায়ীরা যে অপতৎপরতা চালিয়েছিল তা অনেকটাই লাঘব হয়েছে। লবণ নিয়ে গুজব ছড়াতে চেষ্টা করলে প্রশাসন তা কয়েক ঘণ্টায় সামলে নেয়। এভাবেই এগিয়ে যাবে আমাদের নতুন বছর।

বাংলার মানুষের স্পন্দন বঙ্গবন্ধুকন্যার নির্দেশে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনায় খুশি জনতা। শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে তিনি যে সাহসী ও দুরদৃষ্টিতা দেখিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। ছাত্রলীগে অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের সরিয়ে দিয়ে, যুবলীগ থেকে সমালোচিতদের পরিবর্তন করে নেতৃত্বে আনা হয়েছে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বকে। দেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুকন্যার কোনো ছাড় নেই এটা আগেও দৃশ্যমান ছিল, আবারও তিনি তা প্রমাণ দিলেন। দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে আইনের শাসনের মজবুত ভিত আরও মজবুত করেছেন। অপরাধী, সে যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় দেননি প্রধানমন্ত্রী।

ক্রীড়াঙ্গনে সাকিব কেলেঙ্কারি যেন আর না ঘটে, সতর্কতার সঙ্গে আগেই নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু জানিয়ে নিজেদের অবস্থান ও দেশের ইমেজকে যেন তারা ধরে রাখেন এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়ামোদীদের। 

পরিশেষে দেশের সব ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রয়াস বিস্তৃত হোক। আরও বাড়ুক গড় আয়ু। শিক্ষা-দীক্ষায় ঘটুক আরও বিস্তার। যেন কোনো মানুষ আর থাকতে না পারে নিরক্ষর। স্বাধীনতার মূল্যবোধ থাকুক অক্ষুণœ। মানবতা থাকুক চির জাগরুক। 

Ads
Ads