বাড়তি চাপ থেকে রেহাই পাবে কোমলমতিরা

  • ১-জানুয়ারী-২০২০ ০৪:৩০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। এই দেশটাকে আরও উন্নত করতে বদ্ধপরিকর বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এই সরকার সঠিকভাবেই জানে উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আর সুশিক্ষিত জাতি গড়তে শিশুকাল থেকেই গড়ে তুলতে হবে আগামীর ভবিষ্যতকে। কোমলমতিদের শিক্ষাভীতি পরিমণ্ডলে না ঢুকিয়ে, চাপ কমিয়ে আনন্দের মাধ্যমে পাঠ প্রদান করতে হবে। এজন্য ব্যাগের ভার কমানোতে এতদিন নজর ছিল বর্তমান সরকারের। পরীক্ষার চাপ কমানোতেও ছিল নজরদারি। এবার জেএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিনে ও বই উৎসবে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য একটু খেয়াল করলেই আমরা খুঁজে পাই বিশ^মানের শিশুশিক্ষা বাস্তবায়নমূলক চিন্তার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পড়ালেখা শেখানোতে উৎসাহিত করেছেন। এর পরপরই গত দুই দিনে সে লক্ষ্যেই চিন্তার বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন জনের বক্তব্যের মধ্যে আমরা শুনেছি। আর সেদিকেই শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন এবং বাস্তবায়ন করবেন বলেই আমরা মনে করছি।

বর্তমান যুগে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এই নির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বতর্মান সরকার শিক্ষাকে আরও আধুনিক, উন্নত এবং বিজ্ঞানসম্মত করতে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু সাধারণ শিক্ষা নয়, কারিগরি শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে দেখেছি আমরা। প্রতিটি পরীক্ষা সময়মতো নিয়ে ফলাফলও সময়মতো প্রকাশ করা হচ্ছে। কোনো স্তরেই এখন আর সেশনজট নেই বললেই চলে। গরিব মা-বাবার ওপর যেন চাপ না পড়ে, সে জন্য বছরের শুরুতেই বই বিতরণ এই সরকারের আমলেই দৃশ্যমান। 

স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছিল। এই প্রয়াসের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা বিনামূল্যে প্রদান করার পাশাপাশি ৩৬ হাজার প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে ২৬ হাজার প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণ করেছে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করছে। এছাড়াও নতুন করে অসংখ্য স্কুল করা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরেই শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। উচ্চশিক্ষাসহ সর্বস্তরে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কোমলমতিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্কুলে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। তাদের জন্য টিফিনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষা থেকে কেউ যেন ঝরে না পড়ে, এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হচ্ছে।

কোমলমতি শিশুরা এক সময় বইয়ের ভারে ব্যাগ কাঁধে কুঁজো হয়ে হাঁটতো। এখন তারা সোজা হয়ে হাঁটে। অথচ শিক্ষার মান আগের তুলনায় বেড়েছে। অল্প সংখ্যক বাদে সব শিশু স্কুলে যেতে এবং পড়তে ভালোবাসে। যে অল্প সংখ্যক শিশু অমনোযোগী ও অনীহার মধ্যে এখনো রয়েছে, তাদের জন্য শিক্ষাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলার কথা ভাবতে হচ্ছে। আমরা সবাই শিশুকালের দিকে তাকালে দেখতে পাই, পড়ালেখা মানেই কষ্টকর একটি বিষয়, স্কুলের চার দেয়ালে বন্দিত্ব, পরীক্ষা আসলেই দিনরাত পড়ালেখা ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন পড়ালেখার এতোটাই চাপ ছিল যে, পরীক্ষা শুরুর মাসখানেক আগেই চোখ-কান বুজে শুধু পড়া আর পড়াই ছিল। ফল প্রকাশের পর সংবাদ মাধ্যম থেকে শীর্ষ রেজাল্টধারীদের কাছে শুনতে পেতাম, ‘আমি পরীক্ষার আগে ১৬ ঘণ্টা পড়তাম। তাই আমার এই ভালো ফলাফল।’ এখন আর সেদিন নেই। এখন শিক্ষার্থীরা অনেক আনন্দেই পড়ালেখা করছে। আর আগামীতে শেখ হাসিনার সরকার উন্নত দেশের মতোই উন্নত করে তুলবেন এই শিক্ষাখাতকে। খেলতে খেলতে পড়তে শিখবে আনন্দের সঙ্গে। প্রযুক্তিনির্ভর পড়ালেখায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে আমাদের সন্তানরা। ভবিষ্যতে উন্নত সোনার বাংলায় আরও উন্নত চেতনার সবল জাতি হয়ে উঠবে বাঙালি। বিশ^ দরবারে তারা রোল মডেল হবে। এদিন আসতে খুব বেশি বাকি নেই। 

Ads
Ads