বছর শেষ, ফাইলের কাজও শেষ

  • ২-জানুয়ারী-২০২০ ০৫:৩১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বছরের শেষ দিনে বাকি থাকা সব ফাইলের কাজ শেষ করে নব উদ্যমে নতুন বছরের কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও জনগণের প্রতি তার ভালোবাসাই এই কাজে উদ্যোমতা জুগিয়েছে। তিনি দেশকে কোনোভাবেই পিছিয়ে রাখতে চান না। এমনই একজন প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট। বঙ্গবন্ধুকন্যার এই কর্মস্পৃহাই আমাদেরকে মধ্যম আয়ের দেশ উপহার দিয়েছে। অচিরেই আমরা উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাবো বলে আশা করতেই পারি। তার এই কর্মস্পৃহা সকল দফতরের সব স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য অনুসরণীয়। 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রচুর ফাইল থাকে। বছরের শেষ দিনে আট বক্স ফাইল ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি সব ফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে ক্লিয়ার করে দিয়েছেন। পুরাতন বছরের সব কাজ নতুন বছর শুরুর আগেই শেষ করেছেন। অথচ অনেক দফতরে ফাইল জিম্মি করে রাখার সংবাদ অহরহ দেখতে পাই আমরা। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ভাসিত কোনো কর্মকর্তা এমন কাজ করতে পারেন না। দেশের লোক তাদের কাছে সেবা প্রত্যাশা করেন। আর তাদের সেবা সময় মতো দিতে পারলে দেশের অগ্রগতিতে সুবাতাস নেমে আসে। তাই সময়ের কাজ সময়েই সম্পন্ন করে দেশ এগিয়ে নিতে হবে। 

সময়ের কাটায় ভেসে একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকের শেষ বর্ষে পা রেখেছে নতুন বছর। বর্ষ পরিক্রমায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি পালক। নতুন বছর মানে নবযাত্রা। শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার অপার বারতার এই বিশেষ বছরে রয়েছে বিশেষ প্রত্যয়; পুরানো বছরকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত আহŸান। পুরানো বছরের সংশয়, সংকট, উদ্বেগ কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবনার আশায় নতুন করে দিনযাপন শুরু হয়েছে নতুন উদ্দীপনায়। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশও পা ফেলেছে উনপঞ্চাশ বর্ষে। পুরানো বছর যেমনই কাটুক, নতুন বছর যেন ভালো কাটে সেই কামনা থাকে সবার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোঝেন সবার কথা। তিনি এদেশ থেকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত করেছেন। যুদ্ধাপরাধীরাও চিহ্নিত হচ্ছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। সমাজের বেড়াজাল থেকে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও অপরাজনীতি বিনাশ করেছেন। অপশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন। 

বিদায়ী বছরে যারা পদ্মাসেতু নিয়ে গুজব ছড়িয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে রেণুসহ অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, নিশ্চয় তাদের বিচার হবে, যেমন বিচার হয়েছে বিদায়ী বছরে পুড়িয়ে হত্যা করা ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার খুনীদের। রায় হয়েছে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলা এবং স্কুলশিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়াকে জাবালে নূর বাসের চাপায় হত্যা মামলার। বরগুনার রিফাত হত্যাকাÐ খোলসাসহ বুয়েটে নির্মম হত্যার শিকার আবরার ফাহাদের খুনিদের বিচার সম্পন্ন হবে বলে আশা করেন বাংলার জনতা। আর সে আশা পূরণের পথেই সরকার সকল তৎপরতা ও নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে বছরের শেষ দিনে পুরাতন সব ফাইলকে ওকে করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

Ads
Ads