মক্কায় বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল ‘আবরাজ কুদাই’

  • ৩-জানুয়ারী-২০২০ ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হোটেল হিসেবে ঘোষণা পাওয়ার অপেক্ষায় সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ৪৫ তলা আবরাজ কুদাই হোটেলটি। যেখানে মরু দুর্গের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মিলেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

আবরাজ কুদাই বর্তমানে সৌদি আরবের মক্কায় নির্মাণাধীন একটি হোটেল। এটি ২০১৭ সালে উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও ২০১৫ সালে একটি আর্থিক সমস্যার জন্য নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে এটির কাজ চলমান। আশা করা যাচ্ছে ২০২০ এই উদ্ভোধন হবে এই হোটেল টি। শেষ হয়ে গেলে এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল। এতে থাকবে ১০ হাজার রুম, ৭০ টি রেস্টুরেন্ট আর ৪ টি হেলিপ্যাড।

৪৫ তলা অট্টালিকার শুরুর ১০ তলা হবে ভবনের মূল ভিত্তির মতো। এর ওপর থেকে মাঝ বরাবর গোলাকার ভবনটির একবারে শীর্ষে থাকবে বিশালাকার একটা গম্বুজ। আয়তনের দিক থেকে আবরাজ কুদাইয়ের এই গম্বুজ হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম্বুজগুলোর একটি। গম্বুজসহ মাঝের এই গোলাকার ভবনকে চারদিকে বৃত্তের মতো ঘিরে থাকবে ১২টি আলাদা টাওয়ার।

সৌদি রাজপরিবারের সদস্য এবং তাদের অতিথিদের জন্য পাঁচটি তলা বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই হোটেল এমনভাবে তৈরি হবে যে এটি একটি আলাদা হোটেল সিটি। সম্মানিত অতিথিদের আসা যাওয়ার জন্য থাকছে একটি বিশেষ বাস স্টেশন। ফুড কোর্ট, শপিং মল, সম্মেলন কেন্দ্র এবং বিলাসবহুল সুপরিসর বলরুমসহ আধুনিক হোটেলের সব সুযোগসুবিধাই থাকবে মক্কার এই হোটেলে।

এর প্রকল্প ব্যয় আনুমানিক তিন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। হোটেলের আয়তন প্রায় এক দশমিক চার মিলিয়ন বর্গমিটার। লন্ডন ভিত্তিক সংস্থা আরিনের সঙ্গে এ হোটেল এবং এর কক্ষের অভ্যন্তরীণ নকশার জন্য চুক্তি করা হয়েছে।

আবরাজ কুদাই প্রকল্পের অর্থায়ন করছে সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়াও দেশের অন্যতম বৃহত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দ্য সৌদি বিনলাদিন গ্রুপ (এসবিএল) এর প্রধান গ্রাহক। সরকারের যেকোনো পদক্ষেপ সরাসরি এসবিএলের উপর বেশ প্রভাব ফেলে। তাই যখন তেলের দাম কমে যাওয়াতে সরকারি প্রকল্পগুলো বাতিল বা স্থগিত করতে হয়েছিল টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে। তখন এসবিএলও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এমনকি তাদের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় যখন এসবিএলের একটি ক্রেন মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে পড়েছিল। এতে তখন ১০ জন মানুষ মারা যান। ফলে এই সংস্থাটিকে পুরোপুরি রাষ্ট্রের নতুন কোনো চুক্তি গ্রহণ করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এসময় তাদের সম্ভাব্য আর্থিক পতনের জন্য কয়েক হাজার কর্মচারীকে ছাটাই করা হয়। তখন আবরাজ কুদাই সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজও বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি।

তবে এখন হোটেলটির কাজ পুরোদমে চলছে। খুব শীঘ্রই হয়তো এটি সারাবিশ্বকে তকমা লাগাতে উদ্ভোধন করা হবে।

Ads
Ads