আচরণবিধি মেনে চলা প্রার্থীদের কর্তব্য

  • ৫-জানুয়ারী-২০২০ ০৬:০২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন কাছে এগিয়ে আসছে। নির্বাচনের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। দুই সিটি মিলে মেয়র পদে ১৩ জনের সঙ্গে সহস্রাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের আর বাকি সপ্তাহখানেক। মনোনীত সব প্রার্থীই গুছিয়ে উঠেছেন। এখন অপেক্ষার পালা। সময় এলেই মাঠে নামবেন প্রচার প্রচারণায়। আচরণ বিধি মেনে প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগের পর অনুষ্ঠিত হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন, এমনটাই আশা করছেন রাজধানীবাসী। 

নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আচরণবিধি ঠিক করে দেয় নির্বাচন কমিশন। বিধি না মানলে প্রার্থী বা তার সমর্থকের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদ- বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দ-ের বিধান রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রার্থিতা বাতিলসহ নিবন্ধিত দলকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করারও বিধান করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থী বা দল প্রচারণায় সমান অধিকার ভোগ করবে। প্রার্থী বা তার দল, এমনকি তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান বা প্রদানে অঙ্গীকার করতে পারবেন না। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনো ব্যক্তি প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার করতে পারবে না। নির্বাচনের আগে প্রার্থী সরকারি সার্কিট হাউজ, ডাক বাংলো বা রেস্ট হাউজে অবস্থান করতে পারবেন না। প্রার্থীর পক্ষে বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিপক্ষে প্রচারণার স্থান হিসেবে সরকারি কার্যালয় বা কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করতে পারবেন না। ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় প্রার্থী বা তার দল বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি পথসভা বা ঘরোয়া সভা ছাড়া অন্য কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। পথসভা করতে চাইলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে। প্রার্থী প্রচারণায় দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ৪৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে সাদা-কালো পোস্টার ব্যবহার করতে হবে। পোস্টারে প্রার্থী নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হলে দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টার বা লিফলেটে ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচনী এলাকায় কোনো দেয়াল বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতি থানায় একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারবেন না। আর কাউন্সিলর প্রার্থী ৩০ হাজার ভোটারের জন্য একটি ক্যাম্প এবং সর্বোচ্চ তিনটি ক্যাম্প বা অফিস ব্যবহার করতে পারবেন। প্রার্থী বা তার দল বা অন্য কোনো ব্যক্তি ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহনে করে মিছিল, মশাল মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না। প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের যাতায়াতের জন্য প্রার্থী কোনো যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো প্রার্থীর পক্ষে রংয়ের কালি, চুন বা কেমিক্যাল দিয়ে দেয়াল বা যানবাহনে লিখন, মুদ্রণ, ছাপচিত্র করে নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারবেন না। প্রার্থীর প্রচারণায় গেট, তোরণ বা ঘের নির্মাণ করা যাবে না। ৩৬ বর্গমিটারের বেশি স্থান নিয়ে ক্যাম্প বা অফিস নির্মাণ করা যাবে না।

প্রার্থীর ছবি বা প্রতীক চিহ্ন সম্বলিত শার্ট, জ্যাকেট বা ফতোয়া ব্যবহার করা যাবে না।  মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। একটি ওয়ার্ডে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে একের অধিক মাইক্রোফোন বা বেশি মাত্রার শব্দের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে মাইক ব্যবহার করা যাবে। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তবে ওই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল ভোট প্রদান করতে পারবেন। নির্বাচনের কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, যানবাহন বা অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচনের আগে প্রার্থী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকল্প অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় স্থায়ী বা অস্থায়ী বিলবোর্ড বা অন্য কোনো কাঠামো স্থাপন ও ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না।

এই সব নিয়মই জনগুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের হাঙ্গামা যেন না হয়, সেজন্যই এই আচরণবিধি করা হয়েছে। ফলে প্রত্যেক প্রার্থীরই উচিৎ হবে, আচরণ বিধি মেনে তিনি যে এলাকার জননেতৃত্বে আসতে চাইছেন, সেই এলাকার জনসাধারণকে শান্তিতে রাখা। যদিও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ই বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে জনসমাগম ঘটিয়ে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ ওঠাও দুঃখজনক। কারণ তারা নির্বাচনের আগেই যদি নিয়ম ভাঙেন, তাহলে জনপ্রতিনিধি হয়ে কতটা নিয়মের মধ্যে থাকবেন। এমন যে কাউকে তাৎক্ষণিক আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বাকি দিনগুলোতে নির্বাচন কর্মকর্তারা কঠোর হবেন। 

একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়ে রাজধানীর হাল ধরবেন আজকের প্রার্থী। আমরা এমন নেতাকেই দেখতে চাই। 

Ads
Ads