পরিশুদ্ধ হতে হবে পুলিশকেও

  • ৭-জানুয়ারী-২০২০ ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

দেশের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে, তাদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে দেশের সব স্তরকে কালিমামুক্ত রাখতে একে একে সবখানে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। জনসাধারণের সব ধরনের সেবা নিশ্চিৎ করতে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নজরদারি আরও বাড়িয়েছেন। শান্তিশৃঙ্খলা বাহিনীকে জননিরাপত্তায় আরও সুকৌশলী করে তোলা হয়েছে। তারা ২৪ ঘণ্টা তাদের কাজ বিনা বাধায় যেন করে যেতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে তিনি বাহিনীর ভেতরেও নজর দিতে বলেছেন। 

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা নির্লোভ থেকে সততার সঙ্গে কোনো প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে দেশের জন্য কাজ করেছেন। বেশ কিছু দৃষ্টান্ত থেকেই এই ‘নির্লোভ, প্রলোভনে সাড়া না দেওয়া’র কথাগুলো বলেছি। পুলিশের কর্তব্যপরায়ণতাকে কতিপয় দৃষ্টান্ত কিছুটা হলেও মলিন ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে জাতির কাছে। অথচ ওই কয়েকটি পীড়াদায়ক দৃষ্টান্ত বাদ দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এই বিভাগের সব সদস্য ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যদিয়ে অতিবাহিত করেন। একজন কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ সদস্য ঘুম, খাওয়া ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলোও দায়িত্বেরই অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন। 

ক্যাসিনোকা-ে গ্রেফতার রাঘব বোয়ালদের অনেকেই টাকার বিনিময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পকেট করতে চেয়েছিলেন। ইচ্ছে করলে পকেট হয়ে গিয়ে পকেট ভরে তুলতে পারতেন তারা। কিন্তু কোনোভাবেই নীতিকে বিসর্জন দেননি দায়িত্বরতরা। বরং দেশ ও জাতির মহাশত্রুদের আটক করে আইনের মাধ্যমে তুলে দিয়েছেন লাল দালানে। আগামী দিনগুলোতেও তারা আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে আমরা মনে করি। তারা আরও বেশি জনবান্ধব হবেন। মানুষ পুলিশের ইউনিফর্ম দেখে যেন ভাবতে পারে, ‘ওই তো আমাদের বন্ধু দাঁড়িয়ে আছে, এপথে আমি নিরাপদ। ওই বন্ধু পাহারায় আছে, বাড়িতে ঘুমিয়ে আমি নিরাপদ। ওই যে বন্ধুদের অফিস, ওখানে জানালেই আমার সমস্যার সমাধান হবে।’ আর এমন অবস্থায় পৌঁছতে হলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ঠিক যেমনটি বলেছেন, তেমনটি করতে হবে। তিনি বলেছেন, ‘আমি আশা করবো, আপনারা নিজেদের ঘর থেকেই এ অভিযান শুরু করবেন। কিছু সংখ্যক লোকের জন্য যাতে পুরো পুলিশ বাহিনীর দুর্নাম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।...দুর্নীতির কারণে একটি দেশ পিছিয়ে পড়ে। আমাদের দেশ ও সমাজ থেকে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতি দূর করতে হবে।’

‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, অরগানাইজড ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, সাইবার ক্রাইমসহ নানা অপরাধের বিস্তার ঘটছে। এসব বৈশ্বিক অপরাধ এখন আর কোনো একক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।’ কথাগুলো বলার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অতিগুরত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন, যা হয়তো জানলেও এভাবে তুলে ধরা হয়নি। সেটা হলো, বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতির। কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে। পুলিশকে বিশেষ করে। পরিবর্তনশীল অপরাধের পরিবর্তনের আগেই কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে তা আগে থেকেই ভেবে তার প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। বলা যেতে পারে অপরাধের ভ্যাকসিন অপরাধ জন্মানোর আগেই পুশ করতে হবে। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। বাস্তব জগতের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও অপরাধ দমনে সচেতন থাকতে হবে। অসাধু চক্র প্রায়শই ইন্টারনেটভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোসহ হ্যাকিং এর মতো অপরাধ সংগঠন করছে যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

সংঘবদ্ধ অপরাধীরা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব অপরাধ দমনে পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের প্রতি পুলিশকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। দেশের সংবিধানের আলোকে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যরা আরও বেশি মনোযোগী হবেন। তাদের খোলা চোখ, অন্ধ করে দেবে অপরাধের চোখ। 
 

Ads
Ads