বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা চাকুরীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন: রাষ্ট্রপতি

  • ১১-জানুয়ারী-২০২০ ০২:২৬ অপরাহ্ন
Ads

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

:: রেজওয়ান ইসলাম, জবি প্রতিনিধি ::

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা বক্তব্য প্রদান করেন এমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক । বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাগত বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান ও ধন্যবাদ বক্তব্য দেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, এক শ্রেণীর শিক্ষক রয়েছেন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরীকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন। তারা সান্ধ্যকালীন কোর্স ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে সপ্তাহব্যাপী ব্যস্ত সময় পার করেন। এ সমস্ত কাজের ব্যাপারে তারা খুবই আন্তরিক। যত অনীহা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে। তবে এ শিক্ষকগণ সিলেবাস শেষ করার ক্ষেত্রে খুবই সিরিয়াস। তাই তারা একসাথে তিন থেকে চার ঘন্টা একসাথে ক্লাস নিয়ে থাকেন। শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তনে তিনি এ কথা বলেন।এসময় তিনি আরোও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেক সময় ছুটি দিনে ছাত্রছাত্রীদের ডেকে এনে কয়েকঘন্টা ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীরা কতটুকু বুঝল বা মাথায় নিতে পারল সে ব্যাপারে তাদের কোন দায়দায়িত্ব নেই। সেমিষ্টার ও সিলেবাস শেষ করেছেন এ সাফল্যে তারা গর্ববোধ করেন। এ বিষয়টি কঠোরভাবে দেখতে হবে। প্রধান নির্বাহি হিসাবে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ও বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্যক্রম সঠিকভাবে চলছে কিনা তাও ঠিকমতো দেখভাল করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন,আপনার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চালিকা শক্তি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি নিজস্ব আইন। তাই আপনারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্যগন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। আর আপনারা নিজেরাই যদি অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পরেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কি হবে? তাই এব্যাপাওে নিজেকে সর্তখ থাকতে হবে অন্যদেরও সর্তক করতে হবে।

এসময় তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন,শিক্ষকতা অত্যন্ত মর্যাদাশীল পেশা। আপনারা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন তারা মেধাবী ও বিশেষ গুনে গুনান্বিত। তাই আপনারা চাইলে অন্য যে কোন লোভনীয় চাকুরী বা পদ পদবী জোগাড় করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে শিক্ষকতা পেশা হিসাবে নিয়েছেন। তাই কোন ধরনের লোভ লালসা ও মোহের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে পেশার প্রতি মর্যাদাশীল থাকবেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আরও বলেন, তিনি জীবনে অনেক পরীক্ষায় ফেল করেছেন, তবে কখনো পাস করার জন্য নকলের মতো অনৈতিক পথ অবলম্বন করেননি। এমনকি পাশের কাউকে জিজ্ঞেসও করেননি। এটা তার জীবনের অহংকার এবং এটা নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন।

আক্ষেপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কিন্তু আজ শুনি শিক্ষকরা ছাত্রদের কাছে নকল সাপ্লাই করে। অনেক জায়গায় শোনা যায় অভিভাবকরা নকল সাপ্লাই করে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। এদের কী শাস্তি হতে পারে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। পরীক্ষায় নকল প্রবণতা ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের কারণে দেশ ও জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

রাষ্ট্রপতি জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। ফুটওভার না উঠে যত্রতত্র রাস্তা ক্রস করা ঠিক না। যেখানে ব্যবস্থা নেই সেখানে অন্য কথা। সবাইকে নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। বিদেশিরা এসে আমাদের চাল-চলন দেখে মনে করেন আমরা  শৃংখল জাতি ।

সমাবর্তন বক্তা ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক বলেন, এখানকের সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দেশে বিদেশে বিভিন্ন কর্মকান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দূত হিসেবে তাদের অর্জিত দক্ষতা দেখাবে। তার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারিত হবে। আমি আশা রাখছি ভালো ভালো শিক্ষক সংগ্রহ অব্যাহত রেখে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় অল্প সময়েই সম্মানসহ বৈশ্বিক স্বীকৃতির পর্যায়ে পৌছাতে সক্ষম হবে।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, আমাদের শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। আমাদের জীবনব্যাপী শিক্ষা প্রচলন শিখতে হবে। যখন য্ব বিষয় আসবে সেই বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গীবাদ থেকেও দূরে থাকার কথা বলেন তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সর্বদা সদয় নির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উপাচার্য ড. মীজানুর বলেন, ১৫ বছর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন অগ্রগতি মূল্যায়নের যথেষ্ট সময় নয়। তারপরেও আমাদের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাল অবস্থানে ঠাই পাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলে অনেক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অনেক এগিয়ে আছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে ৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটের ১৮ হাজার ৩১৭ জন নিবন্ধিত সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার ৮৭৭ জন স্নাতক, ৪ হাজার ৮২৯ জন স্নাতকোত্তর, ১১ জন এমফিল, ৬ জন পিএইচডি এবং ১ হাজার ৫৭৪ জন সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

Ads
Ads