ইতিহাসের সাক্ষী হলো নতুন প্রজন্ম

  • ১১-জানুয়ারী-২০২০ ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

মুক্তিসংগ্রামে বাঙালির বিজয়ের পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যেদিন দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সেই দিনেই শুরু হয়েছে তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষের’ ক্ষণগণনা। স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতার জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা শুরুর এই মুহূর্তও  ‘ঐতিহাসিক ক্ষণ’ এর মর্যাদা পাবে বলে মনে করছেন সুধীজনেরা। সেই উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকে এদিন ঢাকার তেজগাঁওয়ের প্যারেড স্কয়ারে ছুটে এসেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা বয়সী মানুষ। স্বাধীন বাংলাদেশের সুচনা লগ্নে, বিজয়ের কিছু দিন পর এই স্থানেই বঙ্গবন্ধু বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে হাজির হয়েছিলেন। ফলে অনুষ্ঠানে তার ফিরে আসার একটা আবহ তৈরি হয়। উপস্থিত জনতার অনেকের হাতে ছিল আয়োজক কমিটির আমন্ত্রণপত্র। অনেকে আবার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের কপি হাতে করে এসেছিলেন। আর ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে উপস্থিতির মধ্যে যারপরনাই আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। যাদের বুক গর্বে টান হয়ে ছিল, আর চোখ বলছিল আগামীর এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের কথাও।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে লাল-সবুজের স্বাধীন একটি পতাকা দিতেই জন্ম যেন তার। বোধ হওয়ার পর থেকেই যিনি সমাজে নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায়দের জন্য কথা বলে গেছেন। জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার থেকেছেন। বঙ্গবন্ধুকে দেখেননি যারা তাদের সংখ্যাই বেশি ছিল বিশেষ এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে। তারা যুদ্ধও দেখে নাই। রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে শুনে শুনে এবং বই পুস্তকে পড়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠেছে। সেই ভালোবাসা থেকেই স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে পথ হাঁটছে। আর ঐতিহাসিক মুহূর্ত তাই তাদের কাছে অন্যরকম বোধের জন্ম দিয়েছে। 

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। আগামী ১৭মার্চ তার জন্মশতবার্ষিকীতে শুরু হবে বছরব্যাপী ‘মুজিববর্ষের’ কর্মসূচি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে পাকিস্তানি সেনারা আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ওই রাতেই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর শুরু হয় বর্বর হামলা। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলেও তখনো পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন সদ্য স্বাধীন দেশের মানুষ।

চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার মুক্তি দিলে যুদ্ধে বিজয়ের ২৪ দিন পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি নিজের স্বপ্নের স্বাধীন দেশে পা রাখেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। কাক্সিক্ষত সেই মানুষটির বাংলার মাটিতে পা রাখার মধ্য দিয়েই সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল। এই দিনটিতেই মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন শুরু হয়। দিনটিতে বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, তাদের পরিবারের সদস্য, সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, দুই হাজারের বেশি আমন্ত্রিত অতিথি এবং দশ হাজারের বেশি নিবন্ধিত দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটির সঙ্গে বাস্তবায়ন কমিটিও কাজ করছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগের গত সরকারের ১০ জন মন্ত্রী, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, ঢাকার দুই মেয়র, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুজন সাবেক গভর্নর, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতিনিধি এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীকে রাখা হয়েছে কমিটিতে। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। জন্মবার্ষিকী উদযাপনে জনগণের সামনে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম উপস্থাপন এবং ত্বরান্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ নির্মাণের জন্য পরিসেবাগুলো তুলে ধরা হবে। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচি থাকবে। এ উদযাপনে সর্বস্তরের জণগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। এসবের মধ্য থেকে আমাদের নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে গভীরভাবে জানতে পারবে বলে আমরা মনে করি। 

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করে তুললেন, নতুন এই প্রজন্মকে ইতিহাস উপহার দিলেন। এমন একটি প্রচ্ছদ তৈরির জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ জনতা। এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে; সেটা বঙ্গবন্ধুর জীবনীনির্ভর। ফলে নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে শিশুরা তার সম্পর্কে জেনে তাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারবে। তরুণরা আরও উদ্দীপ্ত হবে।

Ads
Ads