ইউক্রেনের বিধ্বস্ত বিমানে আমার থাকা উচিৎ ছিল: আইআরজিসি প্রধান

  • ১৩-জানুয়ারী-২০২০ ০১:৪৪ অপরাহ্ন
Ads

:: আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

ইউক্রেনের বিধ্বস্ত যাত্রীবাহী বিমান দেখার চেয়ে নিজের মৃত্যু ভালো ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি।

বিমানটি ভুল করে ভূপাতিত করার দায় স্বীকারের পর এই মন্তব্য করলেন ইরানি এই কমান্ডার। তবে, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তে কানাডার আরো ৮ কর্মকর্তাকে ইরান ভিসা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের বিপ্লবী বাহিনী রেভ্যুলশনারি গার্ডসের অমার্জনীয় ভুলের মাসুল, জীবন দিয়ে গুনেছেন ১৭৬ বিমান আরোহী। ইউক্রেনের বিমানটির আরোহীদের মধ্যে ৮৩ জনই ছিলেন ইরানি। আর ৬৩ জন কানাডার নাগরিক।

এ ঘটনায় এরই মধ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সব দায় কাঁধে নিয়েছে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী আইআরজিসি।

ইরানের আইআরজিসি'র কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামি বলেন, আমরা আমেরিকার সাথে যুদ্ধে ছিলাম এখনও আছি। আমরা এই রাষ্ট্রের সৈন্য। আমি সত্যিই বলছি ওই বিমানে আমার থাকা উচিৎ ছিল। এমন দুঃখজনক ঘটনা দেখার থেকে ওই দুর্ঘটনায় আমার মৃত্যু হলে বেশি ভাল হত। আমি আমার পুরো জীবনে এতটা লজ্জিত কখনও হইনি, কখনওই না। এখন যেকোন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

তবে এমন বড় ভুলের জন্য ইরান সরকারের উপর ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তারা বলেন, আমাদের সরকার যেভাবে প্রথম ৩ দিন সত্য লুকিয়েছে এবং সবকিছু অস্বীকার করেছে তাতে নিহতদের স্বজনদের কষ্ট আরও বেড়েছে। এটা চিন্তা করে আমাদের আরো কষ্ট হচ্ছে এবং বেশি খারাপ লাগছে।

বিমান ভূপাতিত করার স্বীকারোক্তি দেয়ার পর এখনও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ইরানে। রোববার আরও জোরদার হয় বিক্ষোভ। ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামলাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। হঠাৎ গণবিক্ষোভে চাপে পড়েছে ইরান প্রশাসন।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা না করার আহ্বান জানিয়ে আবারও টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা অথবা আটক করা হয়েছে। পুরো বিশ্ব সেটা দেখছে।

আর বিমান ভূপাতিত করার কারণে ইরানের কাছে জবাব আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিহত যাত্রীদের জন্য ন্যায়বিচার চাইবেন বলে জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

বাগদাদে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানে ইউক্রেনের বোয়িং-সেভেন থ্রি সেভেন যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন।

Ads
Ads