বাস্তবায়ন হোক জয়ের স্বপ্ন

  • ১৩-জানুয়ারী-২০২০ ০৪:২০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

এইতো সেদিনের কথা চাকরির পরীক্ষার জন্য হাতে আবেদনপত্র লিখে তা পোস্টের জন্য পোস্ট অফিসে কয়েক দফায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট জানতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হতো। এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলার তথ্য নিতে কেটে যেত কয়েক দিন। ভ্রমণ বা যাত্রার উদ্দেশে টিকিট কিনেও দেখা যেত একই যাত্রীর কাছে একই টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়া সব ক্ষেত্রেই নানাবিধ সমস্যায় ভুগতে হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল, তা বাস্তবায়ন করে। ধীরে ধীরে বড় শহর পেরিয়ে ইন্টারনেটের আওতায় এখন সব জেলা। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হওয়ার কারণেই এই খাতে সব অসাধ্য আজ বাংলাদেশের জন্য সহজ হয়ে উঠেছে। আর সমস্ত খাতের কাজ সহজতর হয়েছে। গত এক দশকে ১০ কোটির বেশি মানুষের ইন্টারনেটের আওতায় এসেছে। এখন তিনি ১৬ কোটি মানুষকেই ইন্টারনেটের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। 

ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা যখন আরম্ভ হয়েছিল তখন অনলাইন তো দূরের কথা ইন্টারনেট কানেকশনেরই অভাব ছিল। মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট অ্যাকসেস পেত, এখন সেটা প্রায় ৬০ শতাংশে চলে এসেছে। গত ১০ বছরে ১০ কোটির বেশি মানুষ অনলাইনে এসেছে। এখন, সব জায়গায় তাদের ওয়াইফাইয়ের আওতায় রাখার দাবি আপামর জনসাধারণের বিশেষ করে তরুণদের। এই দাবি করার আগেই আওয়ামী লীগ সরকার সেটা করবে বলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল। সরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের টেলিযোগাযোগ বিভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ওয়াইফাই জোন করে দিয়েছে। ‘এই কাজ চলমান থাকবে এবং সারা দেশেই আমরা ইন্টারনেট আনছি, ইউনিয়ন পর্যন্ত আমরা ফাইবার নিয়ে যাচ্ছি’ বলেও জানিয়েছেন দৃঢ় প্রত্যয়ী জয়। ২০১৮ সালে ডাক ও টেলিযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘ইনস্টলেশন অব অপটিক্যাল ফাইবার কেবল নেটওয়ার্ক অ্যাট গভর্নমেন্ট কলেজ, ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ৫৮৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। আমরা জেনেছি, পর্যায়ক্রমে বেসরকারি কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং এরপর স্কুলসহ অন্যান্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ওয়াইফাই চালু করা হবে। প্রথম এক বছর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ১০ এমবিপিএস বা প্রয়োজনে তার অধিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হবে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। ৫৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭, বরিশাল বিভাগে ৪৫, খুলনা বিভাগে ৮৩, রাজশাহী বিভাগে ৮৫, রংপুর বিভাগে ৫৬ ও সিলেট বিভাগের ৩৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যার নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের রূপকার ছিলেন, যার মাতা শেখ হাসিনা দেশের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বিশ্বের কাছে রোল মডেল করে তুলে ধরেছেন, সেই সজীব ওয়াজেদ জয় দৃঢ় প্রত্যয় বাস্তবায়ন করে দেখাবেনÑ এটাই স্বাভাবিক। এবং তিনি সফলও হবেন। 

Ads
Ads