মধ্যপ্রাচ্যের দূত সম্মেলন: প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত নির্দেশনা

  • ১৫-জানুয়ারী-২০২০ ০৪:০৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের বেশিটাই আসে প্রবাসীদের কাছ থেকে। তারা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে যে টাকা দেশে পাঠান; সেটা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আর সবারই জানা থাকার কথা যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের দেশের লাখ লাখ কর্মী  কর্মরত রয়েছেন। বলা চলে বিশ্বের অন্যদেশগুলোর তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যেই আমাদের দেশের বেশি মানুষ কাজ করছে। ফলে এই দেশগুলো তথা মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় থেকে নিবিড়তর হওয়া প্রয়োজন রয়েছে। আর এটা উপলব্ধি করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। বর্তমানে অবশ্য মধ্যপ্রাচ্য একটি টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে।

কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই চলমান রয়েছে। বিশেষ করে ইরাক-আমেরিকা যুদ্ধের ফলে মধ্যপাচ্য আরও সংকটময় হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ইরান-আমেরিকার মধ্যে যে বৈরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সময় আর একটি যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বলে অনেকেরই আশঙ্কা। শেষ পর্যন্ত হয়তো কোনো যুদ্ধ লাগবে না। উভয়পক্ষ সংযম ধারণ করবে বলে সবারই আশা। বিশ্বের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও  স্থিতিশীলতা প্রয়োজনা। এটা বিশ্বনেতাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। 

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক পুরনো। বলা যায়- ঐতিহাসিক। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। তবে গত সোমবার  মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ দিয়ে তিনি আবুধাবিতে মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে  সেই বার্তাটি দিয়েছেন। ওইদিন সন্ধ্যায় আবুধাবির হোটেল শাংরি-লায় মধ্যপ্রাচ্যের ৯টি দেশে নিযুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অবশ্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই। যারা অস্ত্র বানায় তারা অস্ত্র বিক্রির একটি বাজার তৈরি করে। দেখা যায়, মুসলিম দেশের জনগণই তার শিকার হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে বিশ্বনেতাদের একজন। তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার ফলেই বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। সারা বিশ্বে উন্নতির রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোরও উচিত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো। এটা তাদের নিজেদের স্বার্থে করা উচিত। উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উত্তর উত্তর আরও ঘনিষ্ঠতা লাভ করলে পাস্পরিক লাভের উজ্জ্বল নজির তৈরি হবে। মুসলিম দেশগুলোতে অফুরন্ত তেল রয়েছে। এই তেল বাংলাদেশের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দিনদিন দেশে যে পরিমাণ কলকারখানা তৈরি হচ্ছে, তাতে আগামীতে আরও তেলের প্রয়োজন পড়বে। একটি দেশের উন্নতিলাভে তেলের ভূমিকা বিশাল। অন্যদিকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানবসম্পদ রয়েছে। এই মানবসম্পদ ধার করে মুসলিম দেশগুলো নিজেদের উন্নতি আরও ত্বরান্বিত করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দিয়ে তার সময়োচিত কাজটিই করেছেন। তার গভীর দূরদৃষ্টির নজির স্থাপন করেছেন। তার নেতৃত্বে দেশ বিশ্বের মাঝে যে গৌরবের আসন প্রতিষ্ঠা করেছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কারণ বিশ্বনেতারাই তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। 

পরিশেষে আমরা বলবো, মধ্যপ্রচ্যের মুসলিম বাংলাদেশের যেসব রাষ্ট্রদূত কর্মরত রয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন বলে আশা করা যায়। দেশের স্বার্থ সমুজ্জ্বল করে তোলার ক্ষেত্রে তাদেরও রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। তবে পরিতাপের বিষয় হলো বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের যেসব রাষ্ট্রদূত রয়েছেন, অনেক সময় তারা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ব্যাপারে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন না। বাংলাদেশের যেসব মানুষ বিদেশে বসবাস করেন তাদের বিপদে-আপদে রাষ্ট্রদূতকে যথাযথ ভূমিকা নিতে দেখা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ তারা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। পরিশেষে আবারও আমাদের বক্তব্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা এখনই দেশ্বের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজে নেমে পড়বেন।

Ads
Ads