ইভিএমে ভোট হবে স্বচ্ছ যা প্রমাণিত

  • ৩০-জানুয়ারী-২০২০ ০৪:১৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করা হবে। বিএনপি শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। প্রচার-প্রচারণায় ইভিএম বাতিলের দাবি তোলার পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিও দিয়েছে বিএনপি। অথচ নির্বাচন কমিশন ইভিএম মেশিন পরীক্ষায় ডাকলেও বিএনপি আসেনি। এই ইভিএম মেশিন পাসওয়ার্ড প্রোটেকটেড। আর ভোটের দিন সকাল ৭টার আগে খোলাই যাবে না। আর এই মেশিনে কারিগরি সহায়তা দেবেন সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি নিরস্ত্র সদস্য। যারা দায়িত্ব পালন করবেন সব ভোটকেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, ভোটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে না। কিন্তু ইভিএম পরিচালনায় দায়িত্বরত নিরস্ত্র সেনা সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী সব পদক্ষেপ নিতে পারবে। এক্ষেত্রে সেনাক্যাম্প স্থাপন অথবা প্রশাসনিক সুবিধাদানকারী ডিভিশনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। ইভিএমবিষয়ক এক বিশেষ পরিপত্র জারি করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির উপ-সচিব আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন কেন্দ্রে অবস্থানরত কারিগরি সহায়তা দেওয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিরস্ত্র থাকবেন। রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ক্ষেত্রমতে প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রে অবস্থানকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও টহল কাজে নিয়োজিত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সহায়তায় উক্ত সশস্ত্র বাহিনীর কারিগরি সদস্যদের যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর কারিগরি সদস্যরা মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন। উল্লেখিত ব্যবস্থা ছাড়াও যে কোনো প্রকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধ এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানকল্পে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সবশেষ পন্থা হিসেবে সেনাক্যাম্প স্থাপন করে অথবা প্রশাসনিক সুবিধাদানকারী ডিভিশনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে পারবেন।’

পরিপত্রটি দুই সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। যার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিবকেও। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগও পরিপত্র জারি করে এমনটি বলেছিল। আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে তিন ব্যাটালিয়ন সেনা ভোটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে তারা ক্যান্টনমেন্টেই প্রস্তুত অবস্থায় ছিলেন। সে নির্বাচনে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে ভোটের মাঠে নামতে হয়নি তাদের।
বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ইভিএম ব্যবহার না করতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে। সেদিন নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে আমীর খসরু সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনে কি ঘটেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশ হয়েছে। সেটি নিয়ে আজ কথা বলেছি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের চেয়েও অনেক বেশি খারাপ হয়েছে এই নির্বাচন। নির্বাচন ব্যবস্থা অধিকতর খারাপের দিকে যাচ্ছে। উন্নতি তো দূরের কথা অবনতির দিকে যাচ্ছে, ফলে আস্থাহীনতা বাড়ছে।’ অথচ মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশিরা পর্যন্ত ইভিএম মেশিন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কারণ এটি থাকবে সুরক্ষিত। 

নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার বাস্তবায়ন করছে ইসির এনআইডি বিভাগ। তারা বলছে, ভোটের দিন ইভিএম মেশিন ছিনতাই হলেও কোনো সমস্যা নেই। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ছাড়া এই মেশিন ছিনতাইকারীরা হ্যান্ডেল করতে পারবে না। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম। ব্রিগেডিয়ার সাইদুল বলেন, রংপুরে ২০১৭ সালে প্রথমবার ইভিএম ব্যবহার হয়। পরে বিভিন্ন সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে মেশিনটি খোলা সম্ভব নয়। কারণ এটি পাসওয়ার্ড প্রোটেকটেড। আর ভোটের দিন সকাল ৭টার আগে খোলা যাবে না। অনুমোদিত কর্মকর্তা ছাড়া এটি খোলা সম্ভব নয়। ফলে মেশিন ছিনতাই হওয়ার সম্ভাবনা নেই, মেশিন ছিনতাই হলেও সমস্যা নেই। যে রিজার্ভ মেশিন থাকবে তা দিয়ে ভোট কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো। এছাড়া সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ছাড়া এই মেশিন ছিনতাইকারীরা হ্যান্ডেল করতে পারবে না। তিনি বলেন, ইভিএম মেশিন খোলার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ব্যক্তির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, বিধায় কেন্দ্র দখল করেও কোনো লাভ নেই। কারণ এক ব্যক্তি আরেকজনের ভোট দিতে পারবেন না। কেউ দ্বিতীবার ভোট দিতে চাইলে মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলে দেবে আপনি আগে ভোট দিয়েছেন, যেটি পোলিং এজেন্টও দেখতে পারবেন। 

এনাইডি মহাপরিচালক বলেন, ‘২০১১ সালে যে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করেছিলাম সেখানে একজন ব্যক্তিকে ভেরিফাই করার ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু নতুন ইভিএম যেটি ব্যবহার করছি তাতে যেকোনো ব্যক্তিকে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে সার্ভারের মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব। চিহ্নিত করার জন্য যে কয়েকটি পর্যায় রয়েছে তার মধ্যে একজন ব্যক্তিকে চারভাবে চিহ্নিত করতে পারি। চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ইভিএমে একটি থাকে কন্ট্রোল ইউনিট আরেকটি ব্যালট ইউনিট। সব প্রকার সফটওয়্যার আপগ্রেড করেছি। সফটওয়্যার বাংলাদেশে তৈরি। তিনি আরও বলেন, ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণের শুরুতে এজেন্টদের আমরা দেখিয়ে দেই মেশিনে শূন্য ভোট দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। ভোট কোন মার্কায় দেওয়া হচ্ছে, মেশিন ঠিক আছে কিনা। তারপর আমরা ভোট গ্রহণ শুরু করি। ভোটের সব কিছু কিন্তু পোলিং কার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। যেকোনো তথ্য যাচাই করতে চাইলে তা করা সম্ভব।’ সুতরাং কাল ঢাকায় ইভিএম মেশিনে ভোট হবে, স্বচ্ছ, এটা প্রমাণিত।

Ads
Ads