পেঁয়াজের ঝাঁজ কমবে কবে?

  • ২-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:২৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

পেঁয়াজের বাজার বারবার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় ভোক্তাদের কষ্ট বাড়ছে। ২৫০ টাকার পেঁয়াজ সাম্প্রতিক সময়ে ১০০ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু হঠাৎ করেই চলতি সপ্তাহে ৫০ টাকা বেড়েছে কেজিতে। বাজারের এই অস্থিতিশীল অবস্থার দ্রুত অবসান হওয়া জরুরি। কয়েক মাস ধরে পেঁয়াজের ঝাঁঝ চড়া থাকায় অনেক মানুষই পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন অথবা কম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি করবে না তার গন্ধ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থির হয়ে ওঠে দেশের পেঁয়াজের বাজার। কীভাবে তার দাম বাড়তে থাকে তা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারও দেখতে পেয়েছেন। এই সময় সরকারের নানা ধরনের হুঁশিয়ারি বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজে আসেনি। সব রেকর্ড ভঙ্গ করে পেঁয়াজের কেজি হয় ২৫০ টাকা। এ দামেই অতীতে কেই পেঁয়াজ কিনেছেন এমন নজির নেই। এ জন্য দায় কার এমন প্রশ্ন উঠলেও দায়ীদের চিহ্নিত করে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটই দায়ী এমন কথা বাজারে চাউর হলেও, দায়িত্বশীদের কতর্ব্যে অবহেলা বিষয়ে কোন জবাবদিহি ছিল না। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও শুনা যায়নি। ভারত  যে কোনো সময় বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের চিন্তা-ভাবনা থাকা উচিত ছিল। এবং ভারতের বিকল্প দেশ চিহ্নিত করে রাখাও ছিল তাদের দায়িত্ব। আমরা লক্ষ্য করলাম-  পেঁয়াজের দাম চড়িয়ে চক্রটি ভোক্তাদের পকেট থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। যখন এমন ঘটনা ঘটে গেল  তখনই দায়িত্বশীলদের টনক নড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিসর, তুরস্ক, মিয়ানমার থেকে  পেঁয়াজ আমাদানির তোড়জোড় শুরু হয়। তারপরেও পেঁয়াজের বাজার যে স্বাভাবিক হয়েছে এটা ভাবার অবকাশ নেই।  

পেঁয়াজের বাজার কিছুটা নাগালের মধ্যে আসে যখন দেশে নতুন  পেঁয়াজ উঠতে শুরু করে। দাম চড়া দেখে অনেক কৃষক  পেঁয়াজ পুষ্ট হওয়ার আগেই আগেই গাছশুদ্ধ তুলে বেচতে শুরু করে। অতীতে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। দেশীয় নতুন  পেঁয়াজ বাজারে আসায় এর দাম ১০০ টাকায় নেমে আসে। তারপরেও অনেক ভোক্তার পক্ষে এ দামে পেঁয়াজ কিনে খাওয়া সম্ভব হয়নি। কারণে দেশে এত টাকায়  পেঁয়াজ কিনে খাওয়ার সঙ্গতি অনেকেরই নেই।  যে  পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা ছিল, সেটি ২৫০ টাকায় উঠে যাওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলেছে তা অস্বীকারের উপায় নেই।  আর এ জন্য যে সরকারের দায়িত্বশীলরা অনেকটা দায়ী তা স্পষ্ট। সারা বছরই অসৎ ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেট অতিমুনাফার লোভে ইচ্ছেমতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এবার  পেঁয়াজ  নিয়ে অসাধু ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেট যা করলো তা দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের মনে থাকবে। 

সামনেই রোজা আসছে। এখনই ভোক্তাদের আশঙ্কা, রোজার মাসে পেঁয়াজের বাজার কোথায় গিয়ে ঠেকবে? সরকার এর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি-না, সেই চিন্তা মানুষের ভেতরে ক্রিয়ারত। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন রমজান মাসের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে খুবদ্রুতই বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যতই আমদানি বা সরবরাহ থাকুক না কেন তারপরেও মালের দাম বাড়তি কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয়। অর্থনীতির পাঠ, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে এবং চাহিদার বেশি পণ্য বাজারে থাকলে পণ্যের দাম বাড়ে না। কিন্তু আমাদের দেশে অর্থনীতির এই আপ্তবাক্য যথেষ্ট নয়। বাজারে কাড়ি কাড়ি মাল থাকার পরেও দাম হু হু করে বেড়ে যায়, যা কোনোভাইে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এক্ষত্রে আমাদের পরামর্শ, অসাধু ব্যবসায়ীদের উপর কড়া নজদারির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। সেই সাথে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোন কারণ ছাড়াই পণ্যের দাম বাড়ানো প্রতিযোগিতাকে রুখতে হলে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের বিকল্প নেই। সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকা- যাতে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চালাতে না পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। রোজার মাসে যাতে কোনোভাবেই  পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায় সে ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।  বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রোজার মাসে নিত্যপণ্যে ভোক্তা এবং রোজাদারদের কাছে  পেঁয়াজের চাহিদা ব্যপক।  এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিমুনাফা লুটতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকাটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত বলে আমরা মনে করি।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, নতুনভাবে আবার  পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বৃদ্ধির ঘটনায় ভোক্তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ লাঘবে  পেঁয়াজের দাম কি উপায়ে কমিয়ে আনা যায় তা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। পেঁয়াজের দামের যে উঠা-নামা অব্যাহত রয়েছে তার দ্রুত অবসানের স্বার্থে বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি করে সরকারের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা প্রত্যাশা করি এবিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। 

Ads
Ads