অমর একুশে গ্রন্থমেলা: মুদ্রণশিল্পের সংকট দ্রত সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে

  • ৩-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:৫০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

শুরু হয়েছে প্রাণের বইমেলা। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বাংলা একাডেমি আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হলো। বইপিপাসুদের কাছে এ মেলার গুরত্ব অপরিসীম। নতুন বই কেনার জন্য পাঠকরা সবকিছুকে উপেক্ষা করে এ মেলায় ভিড় করেন। দিন যতোই যাচ্ছে বইমেলার গুরুত্ব ততই বাড়ছে। হাজার হাজার পাঠক মেলা চত্বরে বই কেনার জন্য সমাবেশ ঘটান। বলা যায়, মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাণ স্পর্শ করে যায়। সব বয়সী বইপিপাসু অপেক্ষায় থাকেন এ মেলার জন্য।

বইমেলা উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে কেবল বাংলাদেশের মধ্যেই নয়, বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে চাই। আমরা বাংলা ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চাকে যেমন প্রণোদনা দিয়ে আসছি তেমনি অনুবাদ সাহিত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৩টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, যা প্রতিটি বাংলাভাষী মানুষের জন্যই আনন্দের বিষয়।’ উল্লেখ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু রচিত এবং বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’ গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিকভাবে মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বইটি মেলায় বইপিপাসুদের জন্য মূল্যবান উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। 
পাঠক-লেখক-প্রকাশকদের কথা চিন্তা করে ক বছর আগে থেকে বাংলা একাডেমি এই বইমেলার জায়গার প্রসার ঘটিয়েছে। এতে সবাই খুশি ও আনন্দিত। দেশে প্রকাশনি সংস্থা বেড়ে যাওয়ায় একাডেমিতে জায়গার সংকুলান হচ্ছিল না। ফলে অনিবার্য হয়ে পড়েছিল স্থানের প্রসার ঘটানো। 

প্রধানমন্ত্রী তার উদ্বোধনী ভাষণে অনুবাদ সাহিত্যের ওপর  যে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা, সবারই চিন্তার প্রতিফলন বলে আমরা মনে করি। এতে বাংলাসাহিত্য বিদিশে ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে অন্যভাষার পাঠকদের কাছে পরিচিতি লাভ করার সুযোগ পাবে। বাংলাসাহিত্য এতে ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। আমরা জানি যে, বাংলাসাহিত্য অত্যন্ত উচুমানের সাহিত্যি। কিন্তু বিদেশি ভাষায় অনুবাদ কম হওয়ায় আমাদের সাহিত্য আন্তর্জাতিক পরিম-লে সেভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি। বাংলা একাডেমি এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে বলে আমরা বিশ^াস করি। দেশের বরেণ্য সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিম-লে আদরণীয় হয়ে উঠবে। কিন্তু এ উদ্যোগ এতদিন কেন নেওয়া হয়নি, তা, ভেবে আমরা বিস্মিত। পাশাপাশি আমরা এও বলতে চাই যে, বাংলাসাহিত্যের অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ভাষার সাহিত্যের শ্রেষ্ঠকর্মগুলোও বাংলাভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলা একাডেমিকেই এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে নিতে হবে এবং পালন করতে হবে। 

বই পাঠ করেই মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। জ্ঞান বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বরাবরই বলে আসছেন যে, মুদ্রণের প্রতিটি জিনিসের দাম ঊর্ধ্বগামী। এতে সল্পমূল্যে প্রকাশকরা পাঠকদের হাতে বই তুলে দিতে পারেন না। এর ফলে বই কেনার মানুষ ক্রমাগত কমে আসছে। বই ক্রয়কে সহজলভ্য করার জন্য সরকারের সবিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য এটা জরুরি বলে আমরা মনে করি। আশার কথা হলো- বর্তমানে আমাদের প্রকাশনাগুলোয় উন্নতির ছাপ লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিমবাংলার কলকাতার বই হাতে পেয়ে বাংলাদেশের পাঠকরা খুবই চমৎকৃত হতেন। এবং এরকমটি বাংলাদেশের বইয়ের ক্ষেত্রে কেন ঘটে না, তা, নিয়ে আফসোস করতেন। সেটি এখন বাংলাদেশের পাঠকদের করতে দেখা যায় না। কলকাতার মুদ্রিত সৃজনশীল বই সহ নানা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের মুদ্রিত বই পাল্লা দিতে এখন সক্ষম। বাংলাদেশের বইয়ের বাধাঁই-ছাপা-কাগজ সবদিক দিয়েই উন্নতি করেছে বলেই পাশ^বর্তী দেশের বইয়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যায়। কিন্তু কয়েক বছর আগে এটি সম্ভব ছিল না। সরকার যদি মুদ্রণশিল্পের উপকরণের দাম হ্রাসে ভূমিকা রাখে, তাহলে লেখক-পাঠক- প্রকাশক সবাই খুশি হবে। আমরা আশা করবো সরকার এ দিকটি বিবেচনায় নেবে।  দেশের বিরাজমান মুদ্রণ শিল্পের সংকট সমাধানে সরকার এগিয়ে আসলে আগামী অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার ইতিবাচক স্পষ্ট প্রভাব পড়বে এবং পাঠকবর্গসহ সবাই আন্তরিকক ধন্যবাদ জানাবে সরকারকে।

Ads
Ads