করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কঠোরভাবে অনুসরণ জরুরি

  • ৪-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:২৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন। যে কোনো উপায়ে এই রোগ  ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন। অল্প কয়েকদিন হলো চীনে করোনাভাইরাস রোগটির উৎপত্তি ঘটে।  ইতোমধ্যে এই রোগে বেশ কিছু সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চীনের বাইরেও এ রোগ ধরা পড়েছে। ফলে চীনে যাতায়াত করাটা ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।  চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। সেইসাথে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক। আমাদের দেশের অনেক বড় বড় প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন শত শত চীনা নাগরিক। এ কারণে চীনে হরহামেশাই বাংলাদেশি ও  চীনা নাগরিকদের যাতায়াত করতে হয়। ফলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বিস্তারের বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষের মনেও আতঙ্ক রয়েছে, আমরা মনে করি এই আতঙ্ক একেবারে অমূলকও নয়। যার কারণেই প্রধানমন্ত্রী রোগটি প্রতিরোধে যা যা করণীয় সেটি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ দেওয়ার অল্প কিছুদিন আগেও আরও কয়েকটি নির্দেশনা জারি করেন।    

গত সোমবার করোনাভাইরাস আমাদের দেশে কোনোভাবেই বিস্তার ঘটাতে না পারে এ লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট কতগুলো নির্দেশনা জারি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যথাযথভাবে পালন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি প্রত্যাশা, দায়িত্বশীল মহল কোনো ধরনের গাফিলতির নজির স্থাপন করবেন না।  গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, চীন থেকে যারা দেশে ফিরবেন, তাদের অবশ্যই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আরও নির্দেশ, বাংলাদেশে কর্মরত চীনের উহানের নাগরিকদের মধ্যে যারা দেশে গেছেন, তাদের আপাতত ফিরতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিটও নবায়ন করা হবে না।’

উল্লেখ্য, চীন থেকে ফেরা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের  আশকোনার হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। যার সংখ্যা ৩১২ জন। তাদের থাকা-খাওয়াসহ সবকিছু ব্যবস্থা সরকারিভাবে করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে তাদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে দায়িত্বশীলরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গণমাধ্যম আরও জানায়, উহানে আরও ১৭১ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদেরও দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে তাদের আনতে দেশ থেকে বিমান পাঠানো সম্ভব হবে না। কারণ যে বিমান চীনে পাঠানো হয়েছিল, সেই বিমানের পাইলট ও ক্রুদের সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশ ভিসা দিতে চাইছে না। এ কারণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চার্টার্ড বিমান নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দূতাবাসকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মনে যে আতঙ্ক, সেই আতঙ্ক থেকে স্বস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে নজরদারিরও প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি। মোট কথা হলো, করোনাভাইরাস এ মুহূর্তে গোটা বিশ্বের জন্য মহাআতঙ্ক হয়ে উঠেছে। এ রোগটি মহামারি আকার ধারণ করে কি-না এ নিয়েও আতঙ্ক বিরাজ করছে বিশ^জুড়ে। এ রোগটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন চীনের নাগরিকরা। সেখানে ইতোমধ্যে ব্যাপক সংখ্যক  মানুষ মারা গেছেন আবার আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার।   চীনা সরকার রোগটি থেকে রোগীরা কিভাবে নিরাময় পেতে পারেন তার জন্য আমেরিকার চিকিৎসক ও গবেষকদের চীন তাদের প্রবেশের অনুমতিও দিয়েছে। আশা করা যায় আমেরিকার চিকিৎসক ও গবেষকরা করোনাভাইরাসের প্রতিশেধক বের করে ফেলতে পারবেন অল্প সময়েই। 

বাংলাদেশের নাগরিকদের রোগটি নিয়ে অতি-আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার এটি রোধে যে পদক্ষেপসমূহ নিয়েছে তাতে এটি ঠেকিয়ে  দেওয়া অসম্ভব নয়। 
গণমাধ্যম থেকে আরও জানা যায়, চীনফেরতদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে যে আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তাদের দেহে করোনাভাইরাসের কোনো অস্বিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে সাতজনকে আশকোনা হজ ক্যাম্পের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, হজ ক্যাম্প থেকে তিনটি পরিবারের শিশুসহ আটজনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। হজ ক্যাম্পে থাকা একজনের শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় তাকেও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।চীন থেকে ফেরার পরে সন্দেহজনক হিসেবে যে ক’জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাদের শরীরেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, রোগটি রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পালনে সংশ্লিষ্টরা কোনো ধরনের গাফিলতি করবেন না। তারা যদি গা ছাড়া ভাব দেখান, তাহলে তাদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য আমরা দায়িত্বশীলদের অনুরোধ করবো। সামান্য ভুলে বা অবহেলা যে বিপদ ডেকে আনতে পারে  তা জীবন দিয়ে শোধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিষয়টি মাথায় রেখে ভবিষৎ কর্মপন্থা নির্ণয় করবেন যা দেশবাসী প্রত্যাশা করে। 

Ads
Ads