এগিয়ে যাও বাংলার দামাল ছেলেরা

  • ৭-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৩:৫০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সিনিয়ররা যা পারেননি তাই করে দেখাল আমাদের আগামী ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় যুবারা। তাদের হাত ধরে এসেছে এক কাঙ্খিত লগ্ন। এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক বিশ্বকাপে আমরা কাপ থেকে হাত ছোঁয়া দূরত্বে। আর একটিমাত্র ধাপ পাড়ি দিতে পারলেই সেই কাঙ্খিত কাপ বাংলার মাটিতে লুটাবে। কোটি বাঙালির স্বপ্নসাধ বাস্তবায়িত হবে। কল্পনার শিরোপা বাস্তবে ধরা দেবে। যদিও এটি আজ কোন আবেগ নয় একটি বাস্তব সত্য। আর সেই সত্যটা ধরা দিয়েছে বাংলার দামাল যুবকদের হাত ধরে। আমাদের তৌফিক, হৃদয়, রকিবুল, জুনিয়র তামিম, জয় আর আকবার আলী বাহিনী জাতির সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দক্ষিণ আফ্রিকায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। জাতিকে তারা একটি সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিতে চান। আর আমরা সেই মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। আজ কোনো আবেগ নয় কেবলই বাস্তবতার নিরিখে সেটি পাওয়ার অপেক্ষা। ফাইনালে ওঠা আমাদের জুনিয়ররা যে ক্রীড়া নৈপুন্য দেখিয়েছেন তাতে এই মহেন্দ্রক্ষণ এখন কোন অসম্ভব কিছু নয়। যে কাজটি বড়দের কাছে অধরা রয়ে গেছে সেটি এখন এই তরুণ তুর্কিদের হাত ধরে আসার অপেক্ষায়। অতীতে না পারার অনেক কাহিনী আমাদের জানা আছে। কেন বার বার আমাদের স্বপ্ন ভেঙেছে তার ইতিহাসও আমাদের জানা আছে। ২০০৬ এ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও সফল হতে পারেনি সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। ব্যর্থ হয়েছেন ২০১৬ সালে  মিরাজ-জাকিররা। সে বছর  দেশের মাটিতেও সফলতা পায়নি তারা। সেই অসফল এবং ব্যর্থ কানা গোলির প্রাচীর ভেঙে আকবর আলীরা আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। জয়ের কাছাকাছি থেকে তারা আমাদেরকে নতুনভাবে আনন্দে সামিল করতে চায়। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশের যুবারা। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আকাক্সক্ষা আর স্বপ্ন পূরণ করলো ছোট যুবারা। 

দারুণ জয়ের এই ঘটনায় গোটা বিশ্বের ক্রিকেটমোদীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বাংলার এই যুবা টাইগাররা তাদের বিজয়কেতন ঊর্ধ্বে তুলে রেখে আগামীতে আরো সাফল্য বয়ে আনবে, অনেকটা নিশ্চিত হয়ে বলা যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন পুরোপুরি টিম বাংলাদেশে রূপ নিয়েছে। ক্রিকেটের পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তিল তিল করে টাইগাররা নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। বিশ্বের শক্তিশালী ক্রিকেট দলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম বড় টাইগারা। এবং এ ক্ষেত্রে বিজয়ও ছিনিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পায়ের তলার মাটি অনেক শক্ত, বিষয়টি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সমঝদাররা ছাড়াও বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটাররাও স্বীকার করে থাকেন। আজকের এই অবস্থানে আসার পিছনে খেলোয়াড়দের নৈপুন্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উৎসাহ, ক্রিকেটারদের প্রতি তার ভালোবাসা অনুরাগ যা দেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছে।  দেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে তিনি সবসময় প্রণোদনা ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন। হার জিত বড় কথা নয়, যে অবস্থায় হোক না কেন প্রধানমন্ত্রীর আর্শিবাদ থেকে ক্রিকেটারা কখনো বঞ্চিত হননি। যা অতীতে কখনোই দেখা যায়নি। তিনি ক্রীড়ানুরাগী বিধায় ক্রিকেটকে ভালোবাসেন। ক্রিকেটারদের খেলায় উৎসাহ দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে তিনি ক্রিকেটারদের অতি আপনজনে পরিণত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতা ও মমতা নিয়ে বাংলাদেশের টাইগাররা মাঠে যেভাবে লড়ে যাচ্ছেন তা অভূতপূর্ব। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার এই সমর্থ তৈরিতে ও যুবাদের ইতিহাস সৃষ্টির পেছনেও রয়েছে বিশ্বনেতা, রাষ্ট্রনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গভীর অনুপ্রেরণা। 

আমাদের যুব টাইগাররা খেলায় আগামীতে আরো ভালো করবে, বিশ্বের অন্য যুবা ক্রিকেটারদের বুক কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এবং এই সঙ্গে এও মনে করি আর আমরা উচ্চারণ করতে চাই যে, বাংলাদেশের যুবা ক্রিকেটাররা ক্রমান্বয়ে বড় ক্রিকেটার হয়ে উঠার পথের প্রতিটি ধাপে সাফল্য বজায় রাখবে। এ জন্য তাদের আত্মশক্তিকে আরো বাড়িয়ে দিতে হবে। মনের জোরকে বাড়িয়ে খেলায় চরম সাফল্য নিয়ে আসতে হবে।মোট কথা হলো বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যুবাদের ইতিহাস সৃষ্টির বিষয়টি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, স্বপ্নটা ছিল খুবই নিকটবর্তী। তবে তা ছিল নিজস্ব জ্যোতির্ময় আড়ালে ডাকা! আইসিসি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল-বারবার এভাবেই এসে ধাক্কা খাচ্ছিল ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার অদম্য ইচ্ছেটা। আহত হচ্ছিল টাইগারদের মন, আর হদয়ে রক্তক্ষরণ চলছিল সমর্থকদের। অবশেষে কাক্সিক্ষত সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ‘বাংলাদেশ’ এখন চ্যাম্পিয়ন শীপের লড়াইয়ে নামবে। 

বড়দের ছেঁড়া-ছেঁড়া আক্ষেপই পূরণ করল ছোটরা। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন আকবর-জয়রা। মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে কিউইদের ২১১ রান তারা ৩৫ বল হাতে রেখেই টপকে যায়। এর আগে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব থাকলেও এবারই প্রথম আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে নামবে বাংলাদেশ। বিশ্বজয় থেকে আর মাত্র একটি সিঁড়ি দূরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের যুবারা। আগামীকাল বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারাতে পারলেই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরবে বাংলাদেশ। আগামীকালের খেলার দিকে গভীর আগ্রেহে তাকিয়ে বাংলাদেশ। এদিন টাইগার যুবারা শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটি অর্জন করবে এমন প্রত্যাশায় আমাদের হৃদয় আবেগময় হয়ে পড়েছে। সাবাস, এগিয়ে যাও বাংলার দামাল ছেলেরা। তোমারা সাফল্যর আলোকিত পথে এগিয়ে যাও-জন্ম নিক এক নতুন ইতিহাস।  

Ads
Ads