ঢাকা-রোম সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হোক

  • ৮-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:১৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালি সফর শেষে গতকাল শনিবার দেশে ফিরেছেন। ফলপ্রসূ এই সফরের প্রভাব সামনের দিনগুলোতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দেশের কল্যাণ ও স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী বিরামহীনভাবে বিশ্ব ছুটে বেড়াচ্ছেন। দেশের ভাগ্য পাল্টে দিতে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় ও ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এতে কোনো ক্লান্তি নেই তার। ফলে দেশ আজ উন্নতির শিখরে অবস্থান করছে। 

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির গুরুত্ব অনেক। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভালো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ সফরটি ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও দৃঢ়তা দান করবে। এই সফরে ঢাকা-রোম ৯ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিটি দফাই বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুজ্জ্বল করে তুলবে। এই সফরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতালিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃৃঢ় সমর্থন আদায়। এই মানবিক সমস্যায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের শর্তহীন সমর্থনকে রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিনন্দন ও  ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা জুলুম-নির্যাতন ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা বেশ কয়েক বছর ধরে উদ্বাস্তু হয়ে এ দেশে অবস্থান করছে। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। তাদের থাকা খাওয়া, আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতিকে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত করেছে।  এসব বিষয় উপলব্ধি করাতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যে সফল হয়েছে সেটি এই ঘোষণার ভেতর দিয়েই বের হয়ে এসেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার যেমন করেছে পাশাপাশি তার তাদের স্বদেশে ফেরৎ পাঠাতে বাংলাদেশকে সমর্থন দানের কথাও ব্যক্ত করেছে। যা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় এই সমর্থন বিশেষ ভূমিকা রাখবে। 

লাখ লাখ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাকে বছরের পর বছর আশ্রয় পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক কঠিন ব্যাপার, তারপরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ তুলে ধরেছেন রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়ে। কিন্তু আমরা মনে করি- আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারকে শক্ত চাপ অব্যাহত রেখে তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। নিজ দেশের নাগরিকদের উপর গণহত্যা-নির্যাতন-ধর্ষণ চালিয়ে বর্বরতা ও পাশবিকতার পরিচয় দিয়েছে দেশটি। কোনো ধরনের টালবাহানা না করে মিয়ানমার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের যতদ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নেয়, সে ব্যাপারে ইইউ বিশেষ ভূমিকা রাখবে।  এই সফরে অর্জিত উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের মধ্যে উন্নয়ন, শ্রম ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আরও নিবিড় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ রয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক নীতির আওতায় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির গুরুত্বকে স্বীকৃতি দান। এটা অস্বীকারের কোনো পথ খোলা নেই যে, শেখ হাসিনার কর্মকুশলতার কারণেই আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রগাঢ় বন্ধুত্বে পৌঁছেছে। আগে যেখানে প্রভুভৃত্যের সম্পর্ক ছিল সেটিকে তিনি সমমর্যাদায় উন্নীত করতে সমর্থ হয়েছেন।  

আবার আন্তর্জাতিক বিশ্বে তিনি এই বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ্যযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। দেশে গরিবের হার বহু অংশে হ্রাস পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, পোশাকশিল্প, মোট কথা প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। যার স্বীকৃতি বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আদায় করে নিয়েছে। সম্প্রতি তিনি দেশকে আরও উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তোরজোড়ের সঙ্গে দুর্নীতি ও মাদকের রিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। বিশেষ করে দুর্নীতির কারণে দেশের কাক্সিক্ষত উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে দেশের ভাবমূর্তি অনেকটাই কলঙ্কিত হচ্ছিল। তাই দেশ থেকে দ্রুত দুর্নীতিকে বিদায় করতে তিনি জিরোটলারেন্স নীতি নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন। কেবল কথায় নয় তিনি তা বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলদের দুর্নীতির শিকড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশ অনুসারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলছে এবং ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছেন দেশের মানুষ। সময়োপযোগী এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায়  বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন আগে দেশের মানুষের উপর একটি জরিপ চালানো হয়, তাতে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা দাঁড়িয়েছে ৮৬ শতাংশ। অন্যদিকে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৬ শতাংশ। এই যে ব্যবধান তা প্রমাণ করে সত্যিকারভাবে মানুষের জন্য কাজ করলে দেশের মানুষ তার সমর্থন ব্যক্ত করতে দেরি করে না। আমাদের অর্থনীতির যে চাঙ্গাভাব তা আরও চাঙ্গা হবে পদ্মাসেতু চালু হলে। এই সেতু চালু হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়ে যাবে। দেশ থেকে দুর্নীতি বিনাশ করা সম্ভব হলে তার গভীর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে গোটা দেশের উপর, এই প্রভাব অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করে তুলবে। শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে দেশের অর্থনীতি। পদ্মাসেতু চালু হলে গোটা দেশের অর্থনীতির গতিকে আরও বেগবান করে তুলবে। এছাড়াও যেসব মেগা প্রজেক্ট রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। তখন প্রাচুর্য আর সম্পদের লোভে আমাদের দেশের মানুষকে বিদেশ নির্ভর হতে হবে না। এখানে একটু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, বর্তমানে আমাদের টাকার মান পাকিস্তানের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের চুয়ান্ন টাকার সমান তাদের একশ রুপি। আর এ  থেকেই প্রমাণিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চৌকষ নেতৃত্ব। 

বাংলাদেশের উন্নতিতে ইতালি সবসময় পাশে থাকার যে অঙ্গীকার করেছে তা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় এবং সফল কূটনৈতিক প্রয়াসের কারণে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের ভেতরে যে নবযুগের সূচনা হলো তা স্থায়ী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। পরস্পরের বিশ্বাস এবং সমমর্যাদার এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হোক। নতুন দিনের সৃষ্টিতে  ঢাকা-রোম সম্পর্ক সবকিছু ছাপিয়ে সর্বোচ্চতায় গিয়ে পৌঁছাক। 

Ads
Ads