জনস্বার্থে জনবান্ধব পুলিশ কাম্য

  • ৯-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকাই সর্বাগ্রে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। এই দায়িত্ব পালন করা নিয়ে নানা সমালোচনাও রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের জননিরাপত্তায় পুলিশের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই, যা আমরা বিশ্বাস করতে চাই। গত শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ডিএমপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে। আমরা সেসব আলাপন এবং পরামর্শকে স্বাগত জানাই।  রাজধানীবাসীর নিরাপত্তায় ডিএমপির রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। প্রতিটি পুলিশ সদস্য রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সুচারুভাবে কতর্ব্য পালন করে আসছেন। তবে কখনো কখনো দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে যান যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে গেলে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। এতে ডিএমপির সদস্যদের কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। তবে আমরা মনে করি তাদের সার্বক্ষণিক একটা চিন্তাই থাকবে নিজেদেরকে জনবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আর একটি বিষয় হলো- রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার ছন্দপতন ঘটলে তার প্রভাব গিয়ে সারাদেশের উপর পড়ে। যে কারণে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা সুন্দরভাবে বজায় রাখা এবং নগরবাসীর নিরপত্তাবিধানে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে সবিশেষ সচেতন থাকতে হবে। 

কোনো মহল রাজধানীর নিরাপত্তা বিঘিœত করতে চাইলে তা কঠোর হাতে দমন জরুরি। তবে আমরা মনে করি ডিএমপির সদস্যরা এ ক্ষেত্রে নিজেদের নিষ্ঠার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন। যে কারণে বহু দেশের রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার তুলনায় আমাদের ঢাকার জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা অনেক উন্নত। সরকার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়েছে। একটা সময় পুলিশের সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল ছিল। এখন আর সেটা বলার সুযোগ নেই। পুলিশের বেতন বৃদ্ধি, আমৃত্যু রেশন সুবিধাসহ পুলিশ সদস্যদের দাবি মিটিয়ে সরকার তাদের কাজের পরিবেশ অনেকটাই নিশ্চিত করেছে। এই বাহিনীকে আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছে। সবই করা হয়েছে দেশের এবং জনগণের স্বার্থে। ফলে এ দিকটা পুলিশকে মনে রাখতে হবে। নগরবাসীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। কোনো ভুক্তভোগী থানায় গেলে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক আচরণই সবার কাম্য। কিন্তু কখনো কখনো এর চরম ব্যত্যয় যে ঘটে না এমনটি নয়। কখনো কখনো ব্যত্যয় ঘটে থাকে। এ ব্যাপারে পুলিশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সজাগ থাকবেন বলে আমরা আশা করি। 

উন্নত বিশ্বে পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসাবেই দেখা হয়। আর তার কারণও রয়েছে। যেকোনো বিপদে পুলিশ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। বিপদে পুলিশের কাছে যাওয়া মানেই সেসব দেশে বিপদমুক্ত হওয়া। কিন্তু আমাদের দেশে পুলিশের আচরণ নিয়ে অতীতে অনেক বিতর্ক ছিল। বলা হতো বাঘে ছুলে আঠারো ঘা, আর পুলিশে ছুলে ছত্রিশ ঘা। আবার বলা হতো আকাশের যত তারা, পুলিশের ততধারা। জনগণের কাছে আমাদের দেশে পুলিশের আচরণ কাক্সিক্ষত নয়। তারা এখনো জনগণের পুলিশ হয়ে উঠতে পারেননি। এসব ঘাটতির কারণেই এই বাহিনীটি সম্পর্কে জনগণের যথেষ্ট নেতিবাচক মনোভাব দেখা যায়। কোনো কোনো সমাজ বিশেষজ্ঞ মনে করে থাকেন। নানা ঘটনার প্রেক্ষিতেই এমনটি মনে করা হয়। পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে শক্তভিত্তিদানে সরকারকেও আরও আন্তরিক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পুলিশকে সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের অতীতে যে অপবাদ ছিল বর্তমানে সে অপবাদ অনেকটাই কাটানো গেছে। সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে। পুলিশ তার স্বাধীনসত্তা নিয়ে কাজ করছে। নিজেদের কাজেরও রয়েছে যথেষ্ট জবাবদিহিতা। ফলে আমাদের পুলিশের ভাবমূর্তি আগের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা এটি অব্যাহত থাকবে। পুলিশের প্রতি রাজধানীবাসীসহ গোটা দেশের মানুষের আস্থা-বিশ^াস বাড়াতে যা টনিকের মতো কাজ করবে। গত শনিবার ডিএমপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে মূল্যবান বক্তব্য রেখেছেন তা সবারই দৃষ্টিতে পড়েছে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন যোগ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ওপর গভীর আস্থাশীল। তিনি সেই আস্থার মূল্য দিতে জানেন বলেই পুলিশকে সুচারুভাবে চালিত করছেন। ডিএমপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর যে পুলিশের প্রত্যাশা  করেছিলেন, ধীরে ধীরে আজকের পুলিশ সেই পুলিশে রূপান্তরিত হচ্ছে। আজকে পুলিশ-জনতার পুলিশ হয়েছে। পুলিশের সব ইউনিট সুন্দরভাবে কাজ করছে বলে আমাদের যে ধরনের পুলিশ প্রত্যাশা ছিল, সে ধরনের সক্ষমতায় পুলিশ পৌঁছেছে।  রাজধানীবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় ডিএমপি পুলিশ সাফল্যজনকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ইউনিটের অতীতে লোকবল কম থাকলেও বর্তমানে এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। থানা করা হয়েছে ৫০টি। একই সঙ্গে অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে তারা যেন সার্বিক পুলিশি সহযোগিতা পান সে বিষয়ে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ কারণে আমি ডিএমপি পুলিশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

জাতির জনক দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে দেশের প্রতিটি বাহিনীকে সর্বোত্তম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালান। পুলিশ বাহিনীকেও তিনি জনমানুষের পরম বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলায় মনোযোগ দেন। তার সেই পথ ধরেই বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এবং এ বাহিনীর নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছেন। পুলিশের যাবতীয় সমস্যা সমাধানকল্পে প্রধানমন্ত্রীর গভীর দৃষ্টি রয়েছে। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে কোনো ধরনের গাফিলতি যাতে না ঘটে তার প্রতি দায়িত্বশীলতার সাথে সজাগ থাকবেন। রাজধানীর উন্নত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে পুলিশকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। কোনো মহল বা দুষ্কৃতকারী যাতে জননিরাপত্তায় আঘাত হানতে না পারে সেটা মনে রাখা জরুরি এবং সে অনুযায়ীয় কাজ করে যেতে হবে।

Ads
Ads