বাংলাদেশের বিশ্বজয়: ক্রিকেটে যুবারাই ভরসা

  • ১০-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৫:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

সত্যিই বিশ্বজয় করলো বাংলাদেশ। হ্যাঁ। ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যুব টাইগাররা ভুবন জয় করলো। এই জয় স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। এই জয় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে নিয়ে এসেছে খুশির বার্তা। যে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল চারবার বিশ্বকাপ জয় করেছে, তাদেরকে বাংলাদেশ যুব টাইগারদের হারানো খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। তবে অসাধ্যকে সাধ্যের মধ্যে নিয়ে এসেছে যুব টাইগাররা। পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক ইতিহাস, অভিজ্ঞতা কিংবা শক্তিমত্তা- কোনোটাই বাংলাদেশ দলের পক্ষে ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখাতে পেরেছে আকবর আলীর দল। এই প্রথম বিশ্বকাপ এল বাংলাদেশে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে গত রোববার প্রতিপক্ষ ভারতের দেওয়া ১৭৮ রানের টার্গেট অতি সহজেই টপকিয়ে বাংলাদেশের যুব টাইগাররা বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এই অভূতপূর্ব বিজয়  টেনে নিয়ে যেতে হবে আইসিসির বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আমরা আশা করি এই যুব দামালরাই আগামীতে আইসিসির বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নিজেদের সাফল্যের পরিচয় তুলে ধরতে পারবেন এবং বিশ্বকে চমকে দেবেন। ক্রিকেট বিশ্ব একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখবে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জানে। প্রতিটি গিরিসংকুলপথ তারা বিচক্ষণতার সঙ্গে পাড়ি দিতে জানে। ভীষণ সাহসী যুব টাইগাররা ভবিষ্যতে ক্রিকেট বিশ্বের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। চারবার যুব বিশ্বকাপ জয়ী ভারতেকে যদি যুব টাইগাররা হারিয়ে দিতে পারে, তাহলে তারা আরো ইতিহাস সৃষ্টির ঘটনা ঘটাতে পারবে। এটা কোনো কল্পনা নয়, নিরেট বাস্তবতা।   

ছোটদের এই বিজয়ে বাংলাদেশের সিনিয়র বা জাতীয় ক্রিকেটারদের লজ্জা হওয়ার কথা। কারণ তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রমেই অনুজ্জ্বল হয়ে উঠছেন। এ ঘটনা থেকে তারা বের হয়ে আসতে পারবেন কি-না বলা শক্ত। মনে হয়, আমাদের বয়স্ক (সিনিয়র) ক্রিকেটারদের উপর ক্লান্তি ভর করেছে। তাদের কাছে আর কোনো বড় প্রাপ্তির আশা অবশিষ্ট নেই। এমনটি যদি হয়, তাহলে তিলে তিলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে উজ্জ্বল ইতিহাস ইতিহাস রচিত হয়েছে, তার ওপর ধূসর ছায়া ভর করবে। এটা আমরা কখনোই চাইতে পারি না। কারণ, ক্রিকেট-অন্তঃপ্রাণ শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের যতোটা সহযোগিতা দেওয়া হয় তা বিরল। ক্রিকেটাররা যেন আরও ভালো খেলার নজির স্থাপন করতে পারে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রয়েছে বিপুল উৎসাহ। এমন সুযোগ অন্যদেশের ক্রিকেটরাদের ভাগ্যে জোটে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের স্নেহ দিয়ে প্রতিটি ক্রিকেটারকে প্রেরণা দিয়ে আসছেন। তারা সবধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারেন তার দিকেও তীক্ষè নজর রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। 

এটা অবশ্যই সবাইকে মানতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বে যে কয়টি ক্রিকেট পরাশক্তি আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অবস্থান রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে  তাদের খেলার মান ক্রিকেটমোদীদের হতাশ করে তুলছে। মুশফিকুর রহিম ছাড়া আর কারও খেলায় তার প্রতিচ্ছবি নেই। দল হিসাবে বাংলাদেশ তার আগের অর্জন ধরে রাখতে পারছেন না। ভক্তরা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের খেলা দেখে অনেকটাই হতাশ হচ্ছেন। আবার পঞ্চপান্ডবের সময়ও শেষের দিকে। কতদিন তারা দলকে টানতে পারবেন সেটিও প্রশ্নবোধক। গতকাল বিসিবির সভাপতিকে সিনিয়রদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সামনে আরো অনেক সময় পড়ে রয়েছে। তারা বিশ্ব জয় করে ইতিহাস গড়ল, এমন আরো ইতিহাস সৃষ্টির সুযোগ তাদের সামনে রয়েছে। সেই ইতিহাস তারা যেন সৃষ্টি করতে পারেন, তার জন্য আমাদেরকে আরো মনোযোগী হতে হবে। তারেও খেলার প্রতি আরো একনিষ্ট হতে হবে। খেলাই ধ্যান-জ্ঞান এটা তাদের মধ্যে স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবেন বলে আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি। সরকারেরও উচিত হবে এবার এদের দিকে গভীর নজর দেওয়া। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এরাই ভবিষ্যৎ, এরাই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। 
আইসিসি বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো আমাদের করায়ত্ত হয়নি। তবে আমরা মনে করি সেটাও যে খুববেশি দূরে নেই। আজকের উনিশের দামাল তারুন্য নিশ্চয়ই একদিন সেই ট্রফি ছিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে- এ বিশ্বাস আমরা করতেই পারি। এটা বেশ গভীরভাবেই চিন্তা করলে বোঝা যায় যে, ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের উত্থান এবং তার ক্রমবিকাশ, তা, কিন্তু ইতিহাস সৃষ্টির পর্যায়ভুক্ত হয়ে পড়েছে। এবং এটা জোর দিয়েই বলা যায়, এর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে হয় বিশ্বনেতা, রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করার পর থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট জগৎকে আমূল পাল্টে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিভাবে আমাদের দামাল ক্রিকেটাররা ক্রিকেট বিশ্বে পরিশক্তি হতে পারে তা নিয়ে ভাবতে থাকেন তিনি। এবং এ সংক্রান্ত চিন্তা থেকে তিনি ক্রিকেটারদের উৎসাহ- প্রেরণা দিতে থাকেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটবোর্ডকে যোগ্য খেলোয়াড় গড়ে তোলায় মনোযোগ দিতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে চমকে দিয়ে  খেলার মাঠে গিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করেন। এটা অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের অনেক বড় প্রাপ্তি। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব ১৯ দল স্বপ্নের যে স্ফূলিংগ ছড়িয়েছে, তা, কোনো অযাচিত ঘটনা নয়। তাদের সাফল্য বিশ্বজয়, এই স্বপ্নসারথি সামনে তুলে ধরেছে। তারা সামনের প্রতিটি খেলায় রেকর্ড ভাঙবেন, এ বিশ্বাস এবং আস্থায় আমরা আগামীর পথ চেয়ে আছি। আমাদের বিশ্বাস, এরাই বাংলাদেশেকে এনে দেবে আইসিসি বিশ্বকাপ ট্রফি। 

Ads
Ads