বাংলাকে জামায়াত মুক্ত করতে হবে 

  • ১১-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:২১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

একাত্তরের ঘাতক ও স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে মহান জাতীয় সংসদে। এই দাবি একদম যথার্থ। প্রশ্ন হলো বর্বর পাকিস্তানের দোসর জামায়াত যারা আমাদের মহান স্বাধীনতার বিরোফধতা করেছে। কেবল বিরোধিতা নয় তারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে, আবার হানাদার পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে। এসময় আমাদের মা-বোনকে তারা গণিমতের মাল বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা রাজাকার আল শামস, আল বদর তৈরি করে স্বাধীনতা প্রিয় মানুষদেরকে হত্যা করেছে। স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে তারা আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সেই ঘৃণীত ঘাতকের দল কিভাবে বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পায়, তা আমাদের বোধগম্য নয়? পৃথিবীর কোনো দেশে স্বাধীনতার শত্রুরা সেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, এমন নজির বা দৃষ্টান্ত নেই। দুঃখজনক হলেও সত্যি সেই নজির বাংলার মাটিতে তৈরি হয়। এটা যে বাঙালি জাতির জন্য কতটা লজ্জার, কলঙ্কের এবং বেদনার তা, মুক্তিযুদ্ধে বিশ^াসী প্রতিটি বাঙালির মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন। 

জামায়াতকে নিষিদ্ধের যে দাবি জাতীয় সংসদে উঠেছে, এর সঙ্গে আমরাও একাত্মতা ঘোষণা করছি। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গত সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি তোলেন। জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। জাতির দুর্ভাগ্য এখনো জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি। অবশ্যই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী দেশের মানুষের মনের কথাটিই পড়েছেন তাই সেটি বলতে পেরেছেন। এখনো কেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তা নিয়ে দেশের মানুষের মনে হাজারো প্রশ্ন রয়েছে। আমরা আশা করবো অবিলম্বে দলটি নিষিদ্ধ করে দেশের মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতি সম্মান দেখানো হবে।  এই দলটি একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি। জাতির জনকের মৃত্যুর পরে জিয়াউর রহমানকে সিঁড়ি বানিয়ে দেশে ক্রমাগত হায়েনার রূপ ধরে ভয়ঙ্কর বিভীষিকা হিসাবে উদয় হয়।  একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে স্বাধীনতার পতাকাকে খামচে ধরে। বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়ে জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদারিত্ব পায়। জাতীয় পতাকা শোভিত গাড়িতে চড়ার সুযোগ পায় চিহ্নিত রাজাকার জামায়াত নেতারা।  এযে কতটা মর্মপীড়া আর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে তা জানে একমাত্র স্বাধীনতায় বিশ^াসী মানুষের দল। জিয়াউর রহমান, এরশাদ, বেগম খালেদাÑ এই তিন ব্যক্তি জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দানবে পরিণত করেছে। এই দানব দলটি ইসলামকে ব্যবহার করে দেশে অশান্তির আগুন ছড়িয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে পেট্রোল বোমা মেরে শত শত মানুষ হত্যা করেছে। 

বর্বর পাকিস্তানের দোসর জামায়াত আজও আমাদের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি। ’৭১-র ভূমিকার জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। উপরন্তু সেদিন তারা যেটি করেছে সেটি সঠিক ছিল বলে সাফাই গেয়েছে। তারপরে দলটির নেতাকর্মীরা মুক্তবাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে? রাজনীতি করছে? এ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারীদের জন্য কত বড় আঘাত, তা সহজেই অনুমান করা যায়। 

জামায়াতের বাড় বাড়ন্ত অবস্থার জন্য খুনি জিয়া, এরশাদ, খালেদার ভূমিকা ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এই তিন ব্যক্তিই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাস যার সাক্ষী। তবে আমরা বলতে চাই- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল জাতীয় সংসদে জামায়াতকে নিষিদ্ধের যে দাবি সরবভাবে উত্থাপন করেছেন  দ্রুত তার বাস্তবায়ন  হোক। 

এ ব্যাপারে আর কালবিলম্ব করা উচিত হবে না। যদিও বর্তমানে দলটির কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু অতি-ভয়ঙ্কর এই দানব দলটি গোপনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে তা গভীরভাবে তলিয়ে দেখা উচিত। অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকার বলেছেন, জামায়াত সামনের দিনগুলোতে ভয়ঙ্কর কিছু একটা করার জন্য সর্বনাশা পরিকল্পনা আঁটছে।  ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে বাংলাদেশের ওপর চরম আঘাত হানতে চায়। তাদের লক্ষ্য কেবল সরকার নয় দেশটাকে তারা তাদের কাক্সিক্ষত রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না তাদের কাক্সিক্ষত রাষ্ট্রটি হচ্ছে পাকিস্তান।  ফলে আর দেরি না করে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হোক। বাংলাদেশের মাটিতে যেন জামায়াতপন্থি ব্যক্তির অস্তিত্ব না থাকে সেই ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিতে হবে। পরিশেষে আমরা বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। তারাই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে গণমানুষের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে। আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ এ দানবকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে না। যতই কঠিন হোক জামায়াতকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে। নিষিদ্ধ করতে হবে।

Ads
Ads