জয়ের ধারা বজায় থাকুক

  • ১২-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:২১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বিশ্ব জয় করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল গতকাল বুধবার দেশের মাটিতে পা রেখেছে। তাদের এই বীরোচিত ফেরাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। বিকেলের রোদকে গায়ে মেখে তাদের বহনকারী বিমানটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে। দেশের এই বীরদের বহনকারী বিমানটি যদিও সকালে ঢাকার মাটি স্পর্শের কথা ছিল। বিশ্ববিজয়ী আকবর আলীদের অভ্যর্থনা জানাতে এদিন বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ ক্রীড়ামোদী বাঙালিরা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে আকবর আলীর দল বিশ^রেকর্ড গড়েছে। যাতে ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল থেকে উজ্জলতর হয়েছে। এই বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন। জয়ের পর পরই তৃণমূল থেকে যোগ্য ক্রিকেট খেলোয়াড়দের বাছাই করার তাগিদ তিনি যেমন দিয়েছেন, পাশাপাশি এই সব বীরদের নাসিংয়ের জন্য বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন। যা বিসিবি সভাপতির কণ্ঠে ঝরেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো জ¦লবে এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।   ক্রিকেট এখন আমদের জাতীয় খেলায় রূপ নিয়েছে। পাড়া-মহল্লায় এখন ক্রিকেটের যে অধ্যাবশায় এবং রমরমা অবস্থা তা এক কথায় অভাবনীয়। আমাদের দেশের অলিতে-গলিতে অনেক প্রতিভা রয়েছে যাদেরকে নাসিং করলে ক্রিকেট আরও সমৃদ্ধ হবে। এক কথায় খেলোয়াড়ের অভাব থাকবে না। তৃণমূলের এই সব প্রতিভা পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি প্রতিভা জন্মে গ্রামে আর তার লালন করে শহর। আমরা শহরকে সেই দায়িত্ব নিতে সুপারিশ করছি, যার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। একই সঙ্গে আমরা মনে করি স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রান্তিক অবস্থান থেকে প্রকৃত প্রতিভাবানদের তুলে আনা গেলে নতুন নতুন সাকিব, জয়, আকবর আলী আমাদের দলে যুক্ত হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর এ পরামর্শ সময়োপযোগী বলে আমরা বিশ্বাস করি।  

ভারতকে হারিয়ে আকবর আলীরা বিজয়ী হয়ে সারা দেশে আনন্দের বন্যায় ভাসিয়েছেন। খেলোয়াড়দের পরিবারেও আজ বাঁধভাঙা আনন্দ উচ্ছ্বাস। সারা দেশের প্রবাহমান আনন্দকে স্থায়ীরূপ দিতে হলে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের প্রত্যেকের প্রতি দায়িত্বশীলদের বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এদের বেশিরভাগই প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসেছে। যেখানে নিয়মিত আহার এবং বাসস্থানের অভাব রয়েছে। নিজেদের অভাব না তাড়াতে পারলে তাদের কাছ থেকে মনপ্রাণ উজাড় করা ক্রীড়াশৈলী আশা করা বৃথা। তাই নজর দিতে হবে এদের দিকে। তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য আদায় করতে হলে তাদেরকে আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

সুযোগ এবং পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রতিভাবানরা হারিয়ে যায়। আমরা আজকের এই তরুণ তুর্কীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানাই। এইসব খেলোয়াড়রা আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদেরকে কোনভাবেই হারিয়ে দিতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শমত তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পরিচর্যার অভাবে কেউ যেন হারিয়ে না যায়। একমাত্র  পরিচর্যায় পারে একজন ক্রীড়াবিদকে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে দিতে। এদের প্রতি যতœশীল হলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন আমরা আইসিসি বিশ্বকাপ আমাদের ঘরে আনতে সক্ষম হব। যার আলামত গত রোববার দক্ষিণ আফ্রিকায় এই তরুণ তুর্কিরা দেখালেন।
বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল ভারতকে হারিয়ে দেওয়ায় দেশের মানুষের সঙ্গে সরকার খুশি ভাগ করে নিয়েছে। তাইতো ট্রফি জয়ের পরপরই আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দল সকলেই উষ্ণ অভিনন্দন জানাতে দেরী করেনি। তবে সবচেয়ে আনন্দ এবং আবেগ প্রকাশ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কথায়। তিনি বলেছেন  ‘মুজিব বর্ষের এটি সেরা উপহার।’  

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও আকবর আলীদের বিজয়ে আবেগাপ্লুত। দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য স্থানের নামও ঘোষণা করেছেন। তিনি আমাদের ঐতিহাসিক স্থান সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা বলেছেন। এমনকি জাতীয় সংসদে কেউ কেউ বিজয়ীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। এ জাতীয় মন্তব্যে অনুমান করতে কষ্ট হয় না, ক্রিকেটমোদীর মতোই আনন্দিত সরকার এবং সরকারের দায়িত্বশীলরা। 
বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্রমশ উন্নতি করার পেছনে বর্তমান সরকারের অবদান অনিস্বীকার্য। খেলার মান বৃদ্ধিতে সরকারের উৎসাহ সারা দেশে এবং বিশ্বে প্রমাণিত। তার প্রমাণ, খেলোয়াড়দের নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘটনা। খেলোয়াড়দের ব্যাপারে সরকারের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে বলেও আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের ক্রিকেটাররা খেলার মাধ্যমে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে অনেক মানুষ বাংলাদেশের নাম জানেন ক্রিকেটের বদৌলতে। আমরা নিজেরাও অনেক দেশের নাম জানি খেলাধুলার কারণেই। আমাদের দামাল ছেলেরা ক্রিকেটের মাধ্যমে বিশ্বজয় করে ঘরে ফিরেছে; তাদেরকে যথাযোগ্য সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে কোনো গাফলতি না হয়, তার দিকেও নজর রাখা উচিত। সরকারসহ সবার পক্ষ থেকে তাদের উৎসাহ দেওয়া হলে সামনের দিনগুলোতে নতুন নতুন বিজয় ছিনিয়ে আনতে সাহায্য করবে। এই উৎসাহ এবং প্রেরণা টনিকের মত কাজ করবে যা বলাই বাহুল্য। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই আকবর আলীর দল বিশ্বমাত করে অভাবনীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। 
সঙ্গতকারণেই তাদের প্রতি দেশের ক্রিকেটমোদীদের আরো প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। তারা সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে বলেও দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে আমাদের। তাদের চলার পথে যে বিজয় সূচিত হয়েছে, তার ধারা বজায় থাকুক। কবির কথায় বলতে চাই, ...এদিন আজি কোন ভোরে গো খুলে দিল দ্বার/আজি প্রাতে সূর্য ওঠা সফল হলো কার/এই আকুল আবেদনের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমরা বলছি, তোমাদের সাফল্যে আজ আমরা আবেগ আপ্লুত আর গর্বিত।

Ads
Ads