সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা: কি ভাবছে জবি শিক্ষার্থীরা?

  • ১৩-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০২:১৮ অপরাহ্ন
Ads

:: রেজওয়ান ইসলাম, জবি প্রতিনিধি ::

আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২০-২১) থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে একযোগে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিতে নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্তে পৌছেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরী কমিশন (ইউজিসি)। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত  নিয়ে ভালো খারাপ দুটি দিক বিবেচনা করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন ভোরের পাতার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদক রেজওয়ান ইসলাম।  

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে অনেকেই স্বাগত জানিয়ে বলছেন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে এটা শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সকলের জন্যই সুবিধা জনক হবে কারণ এতে করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের টাকা ও সময় দুটোই কম লাগবে। এব্যাপারে ১৪ তম ব্যাচের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হোসাইন বলেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়েরই জন্য সুবিধাজনক হবে এবং বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার যে হয়রানি সেটা অনেক কমে যাবে বলে আমি মনে করি। এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. আল আমিন।

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষাটাকে পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ভাবেই নিচ্ছেন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। অনেকে মনে করছেন যে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে ভাল মানের শিক্ষার্থী কমে যাবে পূর্বের তুলনায়। এব্যাপারে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা জানান  যেহেতু জবিতে আবাসন ব্যবস্থা নেই ফলে অনেক শিক্ষার্থী অনেক সময় চান্স পাওয়া সত্বেও এখানে ভর্তি হতে চান না, আবার সমন্বিত হলে আগ্রহ আরও অনেক কমে যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।

আর্থিক ও সময়ের দিক দিয়ে লাভবান হওয়া গেলেও এক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাসের তীব্র একটা সম্ভাবনা থেকেই যায় বলে ধারণা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। কেননা যেহেতু একযোগে অনেক গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সেকারণে প্রশ্ন গুলো বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হবে এর মধ্যে কোনভাবে প্রশ্ন ফাস হয়ে গেলে সঠিক মেধাবীরা চান্স না পাওয়ার  আশংকা প্রকাশ করেন অনেকে।

সমন্বিত ভর্তির ব্যাপারে অনেকে বলছেন, যেহেতু সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মাত্র পরীক্ষা হবে তাহলে কেউ যদি অনাকাঙ্খিত কারনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে তাহলে তার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। এব্যাপারে ১৩তম ব্যাচের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী আহমেদ আমিন সিফাত ভোরের পাতাকে জানান, “একটি পরীক্ষা কখনোই ভর্তি পরীক্ষার সময়ে সব কিছুর পরিমাপক হতে পারে না, বিভিন্ন কারণে একটি পরীক্ষা খারাপ হতেই পারে। পছন্দমত জায়গায় পড়তে না পারা, আর যত যাই বলি না কেন প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরও একটা চাহিদা থাকে, একেক বিশ্ববিদ্যালয় একেকটি প্যাটার্ন অনুযায়ী চলে কিন্তু সমন্বিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তাদের স্বকীয়তা হারাবে বলে আমি মনে করি।”

অনেক শিক্ষার্থী ধারণা করছেন হুট করেই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়াটা উচিত হয়নি। এটা নিয়ে পর্যাপ্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তারপরেই এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া  উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন ভালো দিক থেকে এটার খারাপ দিকটাই বেশি, এতে করে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন যেমন হবে তেমনি অনিবার্য কারণে কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে অনেক স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে ।

Ads
Ads