করোনা থেকে মানুষকে, অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে

  • ১৪-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

করোনাভাইরাস যে আরো আক্রমনাত্বক হয়ে উঠেছে। তার প্রমাণ মিলছে চীনে এ ভাইরাসে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যাবৃদ্ধিতে। করোনার প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের উপর। কারণ চীনের সঙ্গে রয়েছে বহুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক। বিশ্বে চীন হলো শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশ। ফলে চীনের সঙ্গে এ মুহূর্তে গোটা বিশ্বের যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞে বহু চীনা প্রকৌশলী যুক্ত রয়েছেন। করোনার কারণে চীনে আটকা পড়েছেন পদ্মাসেতুর কাজের সঙ্গে যুক্ত অনেক প্রকৌশলী। তারা ছুটি কাটাতে নিজ দেশে গিয়েছিলেন। আর তখনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন চীনের মানুষ। এই ভাইরাসটির কারণে গোটা চীন দেশই যেন বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। রাস্তা-ঘাট প্রায় জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। 

করোনাভাইরাস যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর পর দুবার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নিদের্শনা অনুযায়ী দায়িত্বশীলরা কোনো গাফলতি করবেন না বলে সবাই মনে করে। ইতিমধ্যে চীন থেকে বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে এবং তাদের সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চীন ফেরতদের প্রথমে হজ ক্যাম্পে রাখা হয়। সেখানে তাদের নিরীক্ষা করা হয়। গণমাধ্যমে জানা যায় ইতিমধ্যে ৩১২ জনকে হজ ক্যাম্প থেকে বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যারা বাড়ি যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন, তারা পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যায় পড়লেন কি-না সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখা উচিত বলে আমরা মনে করি। 
সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত চার বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ খবরে বাংলাদেশের সবারকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তবে তারা দ্রুত আরোগ্যলাভ করুক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই কিভাবে এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় সে বিষয়ে গোটা বিশ্বকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশকেও সতর্ক থাকতে হবে কোনোভাবেই যেন এ রোগ দেশে না ছড়ায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য সেভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন। তার কঠোর নির্দেশে দেশের মানুষ আসস্থ হয়েছেন। 

গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, চীনে নতুন করে করোনায় ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল চীনের হুবেই প্রদেশ এক চরম ভীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো গত বুধবার। সেখানে একদিনেই মারা গেছে ২৪২ জন। কেবল রেকর্ড মৃত্যুই নয়, রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পর বুধবার হুবেই প্রদেশে ১৪ হাজার ৮৪০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

গণমাধ্যমের খবরে আরো বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিন প্রথমবারের মতো নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর একদিনে এত মৃত্যু এবং এত নতুন সংক্রমণের তথ্য আর আসেনি। সব মিলিয়ে বুধবার চীনে মোট ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাতে নতুন এ করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৯ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার। করোনায় যে শুধু চীনের মানুষ মারা যাচ্ছে তা নয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে জাপানে প্রথম এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এই যে উদ্ভূত পরিস্থিতি তা ধীরস্থিরভাবে সামাল দিতে হবে। বাংলাদেশের দায়িত্বশীলদেরও একই পথে হাঁটতে হবে। করোনায় একদিকে মানুষ মরছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। চীন থেকে কাউকেই বাংলাদেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এটা সঠিক বলে আমরা মনেকরি এবং করোনার কারণে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে-তা দ্রুত কেটে যাক এটাও আমাদের প্রত্যাশা। করোনার হাত থেকে যদি সহসাই মুক্তি না মিলে প্রলম্বিত হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায় পদ্মা সেতুর কাজে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা যে দুর্যোগ বয়ে এনেছে, তা ছোট খাট কোনো ঘটনা নয়। এর হাত থেকে সবাইকে নিরাপদ রাখাটাই প্রধান ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, করোনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দিক নির্দেশনা জারি করেছেন। তা অক্ষরে অক্ষরে পালিত হচ্ছে কি-না তার নজরদারি চালাতে হবে। কেউ যাতে গাফলতি দেখানোর সুযোগ না পায় তার প্রতিও নজর রাখতে হবে। এবং করোনার প্রভাব থেকে মানুষকে, অর্থনীতিকে কিভাবে বাঁচানো যায়, সেই রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে। 

Ads
Ads