ভয়াবহ ডেঙ্গুর পুনরাবৃত্তি কেউই চায় না

  • ১৬-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:৩২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজধানীতে মশার উৎপাত চলছে। মশারি ছাড়া দিনে বা রাতে ঘুমানো যায় না। মশার উৎপাতে নগরবাসী ডেঙ্গুর আশঙ্কায় উৎকণ্ঠিত প্রহর গুনছে। এডিস মশায় গত বছর অনেক মানুষ মারা গেছে।  রোগটি কেবল রাজধানীতে নয়, ঢাকার বাইরেও অনেকে মারা যান।

গত বছর ডেঙ্গুরের ভয়াবহতা সম্পর্কে যখন দায়িত্বশীলদের সতর্ক করা হয়,  সেই সতর্কবাণী মোটেই তারা কানে তোলেনি। কিন্তু ডেঙ্গুরে যখন মানুষ মরতে শুরু করলো, তখন দেখা গেল দায়িত্বশীলরা বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশসেনর হর্তকর্তাদের দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। এই দৌড়ঝাপ যদি সময় মতো করা হতো, তাহলে অকালে ডেঙ্গুর জ¦রে মরতে হতো না মানুষকে। দুর্ভাগ্যজনক হলো বাংলাদেশে যারা জনগণের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন, সেই সব দায়িত্ববান ব্যক্তিরা শীতঘুমে ঘুমিয়ে থাকেন। কোনো সমস্যা যেন তারা আগে আঁচ করতে পারেন না। গণমাধ্যমে যখন চৈ চৈ শুরু হয়, তখনই তারা শীতঘুম থেকে জেগে ওঠেন। এটা কেন হবে আমরা তা বুঝে উঠতে পারি না। অথচ উন্নত বিশে^র দিকে তাকালে আমরা কি দেখবো ? সেখানে জনসেবকরা সবসময় আগেভাগে সবকিছুর খবর রাখেন এবং করণীয় কাজটি সময় মতো করেন। ফলে সেখানে মানুষকে সারাক্ষণ আতঙ্কে ভুগতে হয় না। 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মশার যে উৎপাত বেড়েছে এবং ডেঙ্গুরের ভয়ও সবার মনে আতঙ্ক নতুন করে দানাবেধে উঠছে, এটা কীভাবে তাড়াবেন আমাদের জনসেবকরা। প্রথম কথায় আসা যাক, রাজধানীজুড়ে এত যে মশা ভো ভো করছে, তা কেন দমন করা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মহোদয় কি করছেন! এটা আমাদের জানতে বড্ড ইচ্ছে হয়। সরকার প্রধান তাকে কেন নিয়োগ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে- এটা তিনি নিশ্চয় ভালোভাবে জানেন। বিশ^নেতা-রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের সেবায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মহোদয় এমনসব উদ্ভট কথাবর্তা বলছেন, তাতে রাজধানীবাসী মোটেই আশ^স্ত হতে পারছে তার কথায়। 

গতকাল রবিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘পৃথিবীর সব জায়গাতে মশা আছে, বাংলাদেশেও আছে। তবে আমার তো মনে হয় যেন আমরা সবাই এটার জন্য কাজ করছি। আমরা সারাক্ষণই ফলোআপ করছি এটার স্ট্যাটাস জানার জন্য এবং এজন্য কাজ করা হচ্ছে’। প্রশ্ন হলো মন্ত্রী মহোদয়ের কর্মীবাহিনী যদি কাজই করেন তাহলে কেন মশার উৎপাত বন্ধ না হয়ে বাড়ছে। একি কাজের ধরণ। মশা ও ডেঙ্গুরের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি চীনের করোনা ভাইরাসের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। করোনার তুলনাটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এড়িয়ে গেলেই ভালো করতেন। 

গত বছর ডেঙ্গুরে রাজধানীসহ গোটা দেশের মানুষই যখন আতঙ্কগ্রস্ত, তখন ঢাকার দুই সিটি মেয়র স্বীকার করেন- কাজে তাদের ভুল আছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবেব মতো যখন জেকে বসতে শুরু করলো, তার আগে এ নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা হতে তাদের দেখা যায়নি। মাথা ব্যথা তখনই শুরু হলো ডেঙ্গুরে একের পর এক মানুষ মরার ঘটনায়। এবারও পরিস্থিতি সে দিকে যায় কি-না ঠাহর করা যাচ্ছে না। তবে আমরা আশাবাদী দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে নিয়ে। তিনি এমন একজন সহৃদয়বান ব্যক্তি যিনি রাজধানীর মৌলিক সমস্যার সমাধানসহ মশা- ডেঙ্গুরের বিরুদ্ধে সত্যিকারের লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন। নির্বাচনের পরে তিনি এখনো দায়িত্ব বুঝে পাননি। বুঝে পেলে তার প্রতিশ্রুতি তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন এ প্রত্যাশা আমাদের এবং নগরবাসীর রয়েছে বলে আমরা মনে করি। অন্যদিকে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামকে তার কর্মদক্ষতা বাড়ানো উচিত।

তবে কথা হলো, রাজধানীতে মশা ও ডেঙ্গুর এর উৎপত্তিস্থলের ব্যাপারে কতটা নজর রয়েছে দায়িত্ববানদের। নোংরা রাজধানী হিসেবে ঢাকা সিটির বেশ বদনাম রয়েছে। একটি পরিচ্ছন্ন রাজধানী গড়ে তোলার ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী  তাজুল ইসলাম কি উদ্যোগ নিয়েছেন? তার মন্ত্রীত্বের বয়সে পরিচ্ছন্ন রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষে তার উদ্যোগগুলো কী কী আমাদের খুব জানতে ইচ্ছে করছে। বড় বড় কথা বলে রাজধানীবাসীকে আর ভোলানো যাবে না। জাতির জনকের কন্যা যেভাবে মানুষের সেবায় প্রতিটি মুহূর্ত নিজেকে উৎসর্গ করে চলছেন। তার আদর্শকে অনুসরণ করলে রাজধানীর কোনো সমস্যা স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে মশা ও ডেঙ্গুরের প্রকোপ থেকে বাঁচা সম্ভব। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, আপনি ভাবুন কত দ্রুততার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করা যায়। রাজধানী হলো একটি দেশের হৃদপিণ্ড। এই হৃদপিণ্ডকে ঘোষে মেজে পরিচ্ছন্ন রাখলে সরকারের সুনাম বাড়বে। রাজধানীজুড়ে নোংরা অবস্থার দ্রুত অবসান না করা গেলে মশা তাড়ানো সম্ভব হবে না। এবং মশা থেকে  ডেঙ্গুর যে ভয়-আতঙ্ক নগরবাসীর মধ্যে চেপে বসেছে, এ থেকে সরকার মুক্তিলাভের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।

Ads
Ads