সত্য তুলে ধরায় ভারতীয় সাংবাদিককে ধন্যবাদ 

  • ১৭-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশ যে এগিয়ে চলেছে সে বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশেষ নিবন্ধ ফিচার ছেপে আমাদের অগ্রগতিকে তুুলে ধরেছে। যা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এই অগ্রগতির খবর সারা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। দিন যতোই এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা ততোই বাড়ছে। রাজনৈতিক মুক্তির পর অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটতে চলেছে। আমরা অতিদ্রুত অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশকেই পেছনে ফেলে বাংলাদেশ সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে আমাদের প্রবৃদ্ধি।  

বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি ভারত। সেই দেশকে ছাপিয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। বাস্তবতা হলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নতির দিক দিয়ে ভারত এখন বাংলাদেশের পেছনের কাতারে। দেশের এই অভাবনীয় অগ্রগতি, সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার কারিগর হলেন বিশ্বনেতা, রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরন্তরভাবে তিনি কাজের মাধ্যমে দেশকে আজ এই পর্যায়ে তুলে এনেছেন। ফলে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো বাংলাদেশের ক্রমাগত সাফল্যে অভিভূত। 
অন্যদিকে ভারতকে পশ্চাতে ফেলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে  ভারতীয় গণমাধ্যম, সাংবাদিকরা এখন অনেকটাই সোচ্চার। যা তারা বিভিন্ন সংবাদে এবং কলামে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।যা সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মাইলফলক। 

সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উদ্ভট একটি কথা বলে ফেঁসে গেছেন। তিনি বলেছিলেন,‘ভারত যদি নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে অর্ধেক বাংলাদেশ খালি হয়ে যাবে, এই অর্ধেক বাংলাদেশি ভারত চলে আসবে।’ এটা যে কতোটা রাজনৈতিক অদূরর্দশিতা তা ভারতের স্বরাষ্ট্র  প্রতিমন্ত্রীর চিন্তায় আসেনি। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা বিভিন্ন উৎসবে একটি সেøাগান ব্যবহার করে থাকি আর সেটি হচ্ছে ‘ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।  এখানে সবাই মিলেমিশে একাত্মা হয়ে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে।  ভারতের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি পেলে কেউ জীবনমানের উন্নতির লোভে ভারতে চলে যাবে এটা ভাবাও বোকামি। কারণ বাংলাদেশ ভারত থেকে কোনো দিক দিয়েই পিছিয়ে নেই বরং এগিয়ে রয়েছে। ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার যেখানে ৫ শতাংশের নিচে,  সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি মানেই জনগণের জীবনমানের উন্নয়নকে নির্দিষ্ট করে। এই যে অর্থনৈতিক পার্থক্য এটাই দুটি দেশের বাস্তবচিত্র বুঝিয়ে দিতে সক্ষম। অন্যকোনো হিসেবে না গেলেও চলে। ভারতীয় সাংবাদিক- লেখক করণ  থাপর এক নিবন্ধে বিষয়টি বেশ সরসভাবে তুলে ধরেছেন, তিনি তার প্রবন্ধে দেখিয়েছেন অর্থনৈতিক, জীবনমানসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। সেটি তিনি তার লেখায় স্বীকার করে নিয়েছেন। থাপর বর্তমানে সিএনএন-আইবিএন ও ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দ্য ওয়ার’র সঙ্গেও যুক্ত আছেন।এছাড়াও  তিনি দ্য ডেভিলস  অ্যাডভোকেট:দ্য আনটোল্ড স্টোরি  নামক বিখ্যাত বইয়ের লেখক। গত শনিবার হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত তার বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি বেশ কৌতূহলউদ্দীপক। তিনি হেনরি কিসিঞ্জারের প্রসঙ্গ টেনেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তখন ক্ষমতায়। ওই সময়টাতে কিসিঞ্জার বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করেছিলেন। কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে দাম্ভিক কিসিঞ্জারের এমন মন্তব্যে চারিদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।  যদিও বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি ছিল না। ছিল যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি স্বাধীন দেশ। বর্বর পাকিস্তানিদের সঙ্গে ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে বীর বাঙালি। ৩০ লাখ শহীদ ও লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের  স্বাধীনতা। রক্ত দিয়ে  লিখেছি বাংলাদেশের নাম। একসাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশটি পেয়েছি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে দেখলেন বর্বর পাকিস্তানিদের ধ্বংসযজ্ঞ। সেই ধ্বংসযজ্ঞের উপর দাঁড়িয়ে তিনি দেশ পুনর্গঠনের কাজে মনোনিবেশ করেন। কত দ্রুত এই ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন মুছে ফেলে দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা যায়, তিনি সেই লক্ষ্যে বাংলার এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ছুটে বেড়ালেন। 
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে আমেরিকা সরাসরি বর্বর পাকিস্তানির পক্ষাবলম্বন করে। অস্ত্রশস্ত্রসহ নানা দিক দিয়ে সাহায্য করেছে ঘাতকদের। সেই আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার যদি বলেন, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি সেটা কি মেনে নেওয়া যায়?  তবে বঙ্গবন্ধুকে ছোট করার জন্য বিএনপি-জামায়াত প্রসঙ্গটি বার বার সামনে এনেছে। ভারতীয় সাংবাদিক তার নিবন্ধে গুরত্বের সঙ্গে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি যে হারে সামনের দিকে অগ্রসরমান তাতে আমরা ভারতে শুধু হিংসা এবং আগামী দুই বা তিন বছরের মধ্যে তা অর্জন করার আশা করতে পারি। আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে, আর বাংলাদেশ ৮ শতাংশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ এই স্বীকারোক্তির মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায়। পরিষ্কার হয়ে যায় বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। দেশের চলমান অগ্রগতি থামবার নয়। যেসব বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, তা আলোর মুখ দেখলে কয়েক ধাপ বদলে যাবে বাংলাদেশ। জীবনযাত্রার মান আরও বদলে যাবে। অর্থনৈতিকভাবে দৃঢ় অবস্থানে দাঁড়াবে দেশ। 

পরিশেষে, আমরা বলতে চাই, ভারত আমাদের বন্ধুদেশ। সুখ-দুঃখে ভারতের পাশে যেমন বাংলাদেশ থাকতে চায়, তেমনি ভারতও থাকবে বলে আমরা গভীরভাবে প্রত্যাশা করি। ফলে ভারতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অনাকাক্সিক্ষত কোনো বক্তব্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্কে চিড় ধরাবেন এমন আচরণ বা কথামালা আমাদের প্রত্যাশিত নয়। সত্য তুলে ধরার জন্য ভারতীয় বিশিষ্ট সাংবাদিক করণ থাপরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। তিনি প্রকৃত সত্যটি তার সাহসী কলমে তুলে ধরেছেন। আমাদের  অগ্রগতির চিত্র তাকে বিস্মিত করেছে।তবে এই বিস্ময় কোনোভাবেই অতিরঞ্জিত নয়। এই মহাসত্যটি বিশ্ববাসীর সাথে তিনিও উপলব্ধি করেছেন এজন্য তাকে আরও একবার ধন্যবাদ।  

Ads
Ads