অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় হোক

  • ১৯-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:২৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ বহুদেশকে ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে উদীয়মান দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। যারা একসময় বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির সমালোচনায় খই ফুটিয়েছে, চরম অপমানাকর শব্দ চয়ন করেছে,  হতাশা ব্যক্ত করেছে  তারাই আজ উচ্চকণ্ঠে বলতে বাধ্য হচ্ছে সাবাস বাংলাদেশ। কারণ আর কিছুই নয়, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমাদের দেশ পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের  যে যাত্রা শুরু করেছে তাতে এই প্রশংসা সঙ্গত বলেই আমরা  মনে করি।

আমরা সিঙ্গাপুরের মতো দেশকে অর্থনৈতিক দিয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার মহাসড়কে। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি যা সিঙ্গাপুরকেও  টেক্কা দিচ্ছে। বলা যেতে পারে আমাদের অর্থনীতি সুদৃঢ় টেকসই একই সাথে  মজবুত। এটি সম্ভব হয়েছে, বিশ^নেতা-রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায়। দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রপরিচালনার কারণেই দেশ আজ বিশ^ দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমে দেশের এই যে অবস্থান তা ধরে রাখতে হবে। আমরা পিছনের দিকে ফিরে তাকাতে গেলে দেখতে পাই এক ভঙ্গুর অর্থনীতির চেহারার বিবর্ণ বাংলাদেশ। এইতো মাত্র কয়েক বছর আগের কথা  যখন  বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় ছিল তখন নানাভাবে নানা অজুহাতে দেশ ক্রমাগত পেছনের দিকে চলেছে। ভুতের মতো পিছনে চলার এই অবস্থা থেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা। বিগত জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের আমলে জঙ্গিবাদের উত্থানে দেশের ভাবমূর্তি তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তারা ক্ষমতায় বসে প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে জায়েজ করে। এসময় দেশ দুনীর্তিতে বিশ^চ্যাম্পিয়ন হয়। দল দুটির মন্ত্রী-এমপি নেতা, পাতিনেতা উপনেতারা বিভিন্নভাবে লুঠতরাজে মেতে ওঠে। জন্ম নেয় হাওয়া ভবন। যা সরকারের প্যারালাল হয়ে পকারন্তে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানায়। রাতারাতি তারা টাকার কুমিরে পরিণত হয়। সর্বত্রই তখন নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করে। কলকারখানা বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলেও সরকারের প্রভাবশালী এবং হাওয়া ভবনের আশীর্বাদপুষ্টদের ঘরে বিদ্যুত ঠিকই আলোকিত হয়েছে।  বিদ্যুৎ একবার গেলে ৮/৯ ঘণ্টা পর্যন্ত তার দেখা মেলেনি। তখন বলা হতো বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মাঝে আসে।এমনও দেখা গেছে কোনো কোনো স্থানে ১-২ সপ্তাহ বিদ্যুৎ থাকেনি। বিএনপি ক্ষমতায় বসে একটুও নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি। গোটা দেশই বলা চলে অন্ধকারে ডুবে থেকেছে। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দেশকে উদ্ধার করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, আবার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিশ্চিত হওয়ায় মিলকারখানা সব সচল। মিলকারখানা সচল থাকায় দেশের উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনি রফতানি পরিস্থিতি সন্তোষজনক। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নতি ঘটেছে, এতে মানুষের জীবনযাত্রার মানও বাড়েছে পাশাপাশি তাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বিদ্যুৎ সংকট না থাকায় নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি হচ্ছে।  

একটি দেশে যদি প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না থাকে, সরবরাহে ঘাটতি থাকে, তাহলে অর্থনীতির ওপর তার বিরুপ প্রভাব পড়ে।এই খারাপ প্রভাব যা বিএনপি-জামায়াতের জামানায় আমরা দেখেছি।  কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেই পরিস্থিতির এতটাই উন্নতি হয়েছে যে মানুষ লোডশেডিং শব্দটি  ভুলে গেছে। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। দেশকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টা তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে তীব্র ছিল বলেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। আগামীতে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি যে আরও বেগবান হবে তা কঠোর সমালোচকরাও স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন।  গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এখন সিঙ্গাপুরের চেয়েও শক্তিশালী। ব্যাংকে টাকার কোনো সমস্যা নেই। টাকা আছে বলেই সেবা খাত, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বাস্তব অবস্থার ইঙ্গিত মেলে।   

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও চলতি সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এমন সাহসী বক্তব্য দিয়েছেন। এসময় বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে সিঙ্গাপুরের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে আছে। সিঙ্গাপুর ছোট দেশ, জনসংখ্যাও খুব কম। সেখানে শৃঙ্খলা আছে। সিঙ্গাপুরে বিরোধী দল বা অন্য কোনো কিছু নেই। একটা পত্রিকা, সরকার দ্বারা চলে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে পত্রিকা চলার সুযোগে সেখানকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো অনেক সহজ। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বলেন, এখানে প্রতিনিয়ত অগ্নিসন্ত্রাস, খুনখারাবি, অত্যাচারা মোকাবিলা করে উন্নয়নের সড়কে যেতে হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ আয়তনে ছোট কিন্তু জনসংখ্যা অনেক । তারপরেও আমরা সফলতার দিকে এগিয়ে চলেছি।  দেশে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে  সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিষয়ে ভারত বা পাকিস্তানের চিন্তাবিদ, অর্থনীতিবিদরা যা বলছেন, সেটা শুনলে বোঝা যাবে বাংলাদেশ কোথায় আছে। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।’  দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির ওপর যে গুরত্ব দিয়েছেন তা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা মনে করি। দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার যে প্রয়াস চলছে তার বাস্তবরূপ অচিরেই দেখা যাবে বলেও আমরা মনে করি। 

দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য দুর্নীতি বড় বাধা। দুর্নীতির বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রী  জেহাদ  ঘোষণা করেছেন। ইতোমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরেশোরে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে দুর্নীতিবাজরা বেজায় নাখোশ। আমরা আশা করবো প্রতিটি দুর্নীতিবাজ সে ছোট হোক, আর বড় হোক সকলেই যেন শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আসে। কোনোভাবেই দুনীর্তিবাজরা যেন রেহাই না পায় ।  দুর্নীতির মোড়কে যারা আমাদের জাতিকে কলঙ্কিত করতে চায় তাদেরকে   কোনোভাবে বা কোনো অজুহাতে  রেহাই দেওয়া যাবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে আমাদের জয়লাভ করতেই হবে এর কোনো বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতির অবস্থা আরও মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির বাস্তব চিত্র অত্যন্ত মনোগ্রাহীভাবে তুলে ধরেছেন। অথচ দেশের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং জ্ঞানপাপী আছেন যাদের কাছে সব উন্নয়নই কেবলই ফাঁকা বুলি বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশে জাতির কাছে অস্পষ্ট নয়। তারা আমাদেরকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এরা আমাদের স্বাধীনতাকে পছন্দ করে না । তাই তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আমরা  উন্নয়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পরামর্শ দিই। এজন্য সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি জানাই। যারা মিথ্যাচার করে আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদের পরিচয় জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানাই। কারণ, অতীত অভিজ্ঞতা বলে প্রচার ছাড়া কোনো উন্নয়নই জনগণের কানে পৌঁছে না। খারাপ বিষয়টি জনগণ দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারলেও ভাল জিনিসটা অতি দ্রুতই ভুলে যায়। আমরা  এ বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি। স্বনির্ভর অর্থনীতির বলিষ্ঠ প্রবক্তা দেশরতœ শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকা-ের আমরা গর্বিত অংশীদার।

Ads
Ads