কোরোনাভাইরাস: ব্যাংকগুলোর নমনীয়তা কাম্য

  • ২৩-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:৫১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্কটা দৃঢ়ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশটির সঙ্গে নানা পণ্যের আমদানি-রফতানির সম্পর্কটি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আকস্মিকভাবে চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বাণিজ্যে গভীর প্রভাব পড়েছে। এতে বেশ চিন্তিত ব্যবসায়ীরা।  আমদানি-রফতানি সহজ রাখার জন্য আমাদের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের নমনীয়তা ও সহযোগিতা চেয়েছেন। ব্যাংক যদি উদার মনের পরিচয় না দেয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর প্রভাব গিয়ে পড়বে গোটা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। আমরা কেউ চাইনা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও ভেবে দেখবেন বলে আমরা আশা করি। 

করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে চীনে অনেক লোক মারা গেছে। এতে আক্রান্তও বহু মানুষ। চীনের বাইরেও করোনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বই করোনার ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত। তবে আতঙ্কিত না হয়ে করোনা থেকে দ্রুত পরিত্রাণের পথ বের করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সে চেষ্টাও যে চিকিৎসক এবং গবেষকরা করছেন না তাও অবশ্য নয়। করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচানোর প্রাণান্তর চেষ্টা চিকিৎসক-গবেষকসহ সবাই মিলেই করছেন। সিঙ্গাপুরে প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। একজনের অবস্থা বেশ খারাপ। বৈশ^য়িকভাবেই করোনার হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস যাতে কোনোভাবেই ঢুকতে না পারে তার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাংকের যে নমনীয়তা এবং সহায়তা ব্যবাসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই চেয়েছে, তাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ব্যাংকের কাছে যে সহযোগিতা চেয়েছে, একে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েই সাহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এ সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম জানান, নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শিল্প থেকে কাঁচামাল ও পণ্য আমদানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।  এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নমনীয় হতে হবে। চীনের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে যাতে বিঘœ না ঘটে, সে জন্য ঋণসহায়তা ও ঋণপত্রের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনটি আপাতত কোনো আর্থিক সহায়তা চায় না।

ব্যবসায়ীরা চান, চীনের সঙ্গে যে আমদানি-রপ্তানি রয়েছে, তা যেন স্বাভাবিকভাবে চলে। চীন থেকে পণ্য আমদানির জন্য আগে যেসব ঋণপত্র খোলা হয়েছিল সেগুলো জাহাজিকরণ ও দলিলপত্র (ডকুমেন্টস) হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। নতুন ঋণপত্রও খোলা যাচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে আমদানি প্রক্রিয়া বিঘিœত হওয়ায় ব্যাংকের পেমেন্ট ওভারডিউ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় আমদানি-রফতানি কাজ যাতে কোনো ক্রমেই বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য ঋণ সহায়তা ও ঋণপত্রের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’ এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির বক্তব্য খুবই যৌক্তিক বলে আমরা মনে করি। চীনের সঙ্গে আমাদের যে বিশাল আকারের আমদানি-রফতানি, তা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় ব্যাংকগুলো তা কেন দেখবে না? কোন যুক্তিবলে ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না? আর এখন এমন একটি সময় যে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে জটিল অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে  এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির বক্তব্যকে আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী সহযোগিতায় ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা মোটেই উচিত হবে না।

সংগঠনটির সভাপতি বলেছেন, তারা ব্যাংকগুলো থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা চান না। তারা চাইছেন যে, চীনের সঙ্গে যে আমদানি-রফতানি রয়েছে হয়, তা স্বাভাবিকভাবে যেন চলে। চীন থেকে পণ্য আমদানির জন্য আগে যেসব ঋণপত্র খোলা হয়েছিল সেগুলো জাহাজিকরণ ও দলিলপত্র (ডকুমেন্টস) হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। নতুন ঋণপত্রও খোলা যাচ্ছে না। এই যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ব্যাংকগুলো সমাধানে কেন এগিয়ে আসবে না, সেটাও আমরা ভেবে পাচ্ছি না। একমাস ধরে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে আছে। ফলে এই জটিল অবস্থাকে আর প্রলম্বিত তথা দীর্ঘায়িত যেন না করা হয়। পরিশেষে আমরা বলতে চাই, চীন বিশ্বে এখন অর্থনৈতিক শীর্ষ পরাশক্তি। দেশটি আমাদের খুবই ভালো বন্ধু। আমাদের বহু উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে চীন। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেশটি শীর্ষে অবস্থান করায় আমাদের ব্যবসায়ীদেরকে দেশটি থেকে বহু ধরনের পণ্য আমদানি করতে হয়। এক্ষেত্রে যদি জটিলতা জেকে বসে তাহলে প্রথমে আমাদের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির মুখে পড়বে। ফলে আমাদের ব্যাংকগুলোকে নমনীয় হতে হবে। ব্যবসায়ী শীর্ষ সংগঠনের নেতারাও নমনীয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনুরোধকে আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ  নেওয়া হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

Ads
Ads