উন্নয়নের কারিগর শেখ হাসিনা

  • ২৭-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:০৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

এককালের পশ্চাৎপদ দারিদ্র্য বাংলাদেশ আজ উন্নতির মহাসড়কে চলতে শুরু করেছে। উন্নয়নে দেশটি এখন বিশ্বের মহাবিস্ময়। কেমন করে বদলে গেল বাংলাদেশ তা এখন অর্থনীতিবিদদের কাছে মহাজিজ্ঞাস্য। কিন্তু সত্যি হচ্ছে বাংলাদেশ এখন আর অতীতের মতো ভুখা নাঙা দেশের পরিচয় বহন করে না। বরং উন্নয়নের মডেল হিসাবে সে বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের মূল কারিগর হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। ধনী-দরিদ্র্যের ব্যবধান কমেছে। তারপরেও আমাদের সমাজে  ধনী-দারিদ্র্যের ব্যবধান রয়েছে, সম্প্রতি তিনি তা, হ্রাসের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ সঠিকভাবে কার্যকর হবে এ প্রত্যাশা আমাদের। কারণ, দেশে ধনী-দারিদ্র্যের ব্যবধান কমিয়ে আনতে না পারলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অনেকটাই হোঁচট খাবে। 

অন্যদিকে ২০৪২ সালের মধ্যে ৯.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির টার্গেট ধরা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের চিত্র আমূল পাল্টে যাবে। বিশ্বদরবারে দেশ আরো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। বর্তমানে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে; এগুলোর কাজ শেষ হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পারদ উঁচু থেকে আরেি উঁচুতে উঠবে। বিশেষ করে স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে গোটা দেশের অর্থনীতির ওপর তার ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা  প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে বর্তমানে সরকার দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান চালাচ্ছে, এই শুদ্ধি অভিযান ঠিক মতো পরিচালিত হলে প্রবৃদ্ধির গতি আরো বেড়ে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে দুর্নীতি অক্টোপাশের মতো জেঁকে বসেছে। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। এটাকে অপসারণ করা গেলে মানুষ সঠিক সেবা লাভ করবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলবে। গত মঙ্গলবার  ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়তে ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। দারিদ্র্য নির্মূল করা, মাথাপিছু আয় সাড়ে ১২ হাজার ডলারে উন্নীত করা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করাসহ ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থায় শিল্পায়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এ পরিকল্পনায়। শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার অনুমোদন দেওয়া হয়।’ 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনকের প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি বদ্ধপরিকর। এতে কোনো বাধা আসলে সেটাকে তিনি অতিক্রম করে যাওয়ার সাহস রাখেন। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দেশকে পশ্চাৎমুখী করে তোলে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি বাসা বাঁধে। বস্তুত দেশের উন্নতি না ঘটিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় বানায়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা টাকার পাহাড়ের ওপরে ঘুমালেও দেশের মানুষ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকে। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে দেশের মানুষের ভাগ্য- উন্নয়নে মন দেন। দেশের মানুষ যাতে অনাহারে দিন না কাটায় সেই সংকল্প নিয়েই কাজ করতে থাকেন। তার সেই দৃঢ় সংকল্পের ফলেই দেশের মানুষকে এখন আর অনাহারে দিন কাটাতে হয় না। যেসব মানুষের থাকার একটু ঠাঁই ছিল না, বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যবস্থা করেছেন। দেশে এক সময় প্রচুর ভিক্ষুক দেখা যেত, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় অনেক ভিক্ষুককে ভিক্ষা করতে দেখা যেত, এখন ভিক্ষুকদের চোখেই পড়ে না। 

সর্বক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি সবারই চোখে পড়ে। মহাসড়কগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। এতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মানুষকে আগের মতো বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। সড়ক ছাড়াও রেলপথ উন্নতি করা হচ্ছে। রেলপথ ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। বিএনপি সরকার রেলপথকে ছোট করে এনেছিল। বহু  রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ আধুনিক বিশ্বে মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরামদায়ক হচ্ছে রেলপথ। প্রধানমন্ত্রী এটা উপলব্ধি করেই রেলপথ পুরো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন এবং রেলমন্ত্রীকে সেভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব জেলায় রেলপথ ছিল না, সেসব জেলায় রেলপথ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে দ্রুতগতির ট্রেন চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোটকথা একটি দেশের স্বার্থক উন্নয়ন ঘটে তখনি, যখন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। উন্নত যোগাগোগ ব্যবস্থা ছাড়া দেশের উন্নয়ন ঘটানো কল্পনাও করা যায় না। ফলে, প্রধানমন্ত্রী যোগযোগ ব্যবস্থার চিত্র আমূল পাল্টে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যেভাবে কাজ করছেন, তাতে দেশের জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, ৯.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির টার্গেট অবশ্যই পূর্ণ হবে। তবে এটা বাস্তবায়নে আরো যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো যাবে না। ৯.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির টার্গেটে পৌঁছাতে পারলে বিশে^র বুকে বাংলাদেশ, অন্যএক উন্নত এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

Ads
Ads