পাপিয়াসহ সব অপরাধীর শাস্তি দিতে হবে

  • ২৮-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৪:১৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

হাতের মুঠোয় ক্ষমতা পেয়ে কেউ সেটিকে জনগণের সেবায় কাজে লাগান, আবার কেউ নিজের স্বার্থে ক্ষমতার বেপরোয়া ব্যবহার করে; বিত্ত-বৈভবের মালিক হন। যারা ক্ষমতা হাতে পেয়ে দিক-বিদ্বিগশূন্য হয়ে পড়ে, তাদেরকে আগে থেকে দমন করা না গেলে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখিন হয়। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্য এসব ভেবেই দলে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। দলের যারা পদ-পদবি পেয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলকে ভাঙ্গিয়ে যারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনে নেমেছে তাদের আর রক্ষা নেই। ইতোমধ্যে যুবলীগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেন প্রধানমন্ত্রী। নানা অভিযোগের ভিত্তিতে সংগঠনটির সভাপতিকে সরিয়ে দিয়ে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। সংগঠনটির অন্য অপরাধীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়। 

বর্তমানে যুবমহিলা লীগের এক আঞ্চলিক নেত্রীর অবৈধ কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে পড়ায় তা নিয়ে গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই প্রেক্ষিতে মহিলা যুবলীগের সঙ্গে জড়িত কেউ অপরাধ কর্মকাণ্ড জড়িত কি না তা দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী দেশকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে  চলেছেন। দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার দক্ষ রাষ্ট্রপরিচালায় দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সারা বিশ্বে। অনেক দেশ নিজেদের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে উন্নয়নের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। দেশের যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, নারীর উন্নয়ন, ন্যায় বিচার এর মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রধানমন্ত্রী সফল নেতৃত্বে যখন ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করছে; তখন দলের বিভিন্ন সংগঠনের মুষ্টিমেয় ব্যক্তির কারণে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। দল এবং সংগঠনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সঠিক কাজটিই করেছেন। 

নরসিংদী   যুব   মহিলা   লীগের সাধারণ   সম্পাদক  শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউর অপকর্মের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সারা দেশে এই  সংগঠনের  আর  কারা  অপকর্মে   জড়িত,   তাদের খুঁজে   বের   করার   নির্দেশ   দিয়েছেন   প্রধানমন্ত্রী। গত বুধবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংগঠনটির  সভাপতি   নাজমা   আক্তার   ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল দেখা করলে এই নির্দেশ দেন তিনি। মাদক-অস্ত্র চোরাচালান, জমি দখল ও হোটেলে নারীদের দিয়ে   যৌন   বাণিজ্যসহ   বিভিন্ন   অপকর্মের অভিযোগে শনিবার ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ওরফেসুমন   চৌধুরী   এবং   তাদের   দুই   সহযোগীকে গ্রেফতার   করে   র‌্যাব। ইতোমধ্যে পাপিয়াকে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রিমান্ডের নানা জিজ্ঞসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। 

গণমাধ্যমগুলো বহিষ্কৃত নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউকে নিয়ে যেসব খবর পরিবেশ করছে, তাতে, যে কারোর মাথা গুলিয়ে যাওয়ার কথা। বহু মেয়েকে চাকরির লোভে ফেলে এবং নিখুঁতভাবে এসব মেয়েকে ফাঁদে আটকে দেহ ব্যবসায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আরো ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে জড়িত পাপিয়া। প্রশ্ন হলো এসব অনৈতিক ও ভয়ঙ্কর অপরাধের খবর এতদিন কিভাবে চাপা থাকল। আইনশৃক্সক্ষলারক্ষাকারী বাহিনীর গোচরভূত হয়নি কেন? তারা কি এ ব্যাপারে আগে থেকে কিছুই আঁচ করতে পারেনি বা জেনেও না জানার অভিনয় করেছে? এটা আজ সবারই প্রশ্ন। গণমাধ্যমগুলো খবর থেকে জানা যায়, পাপিয়ার উত্থানে দলেরই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারসাজি রয়েছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই নেত্রী তার অপরাধযজ্ঞ  চালিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছে। যারা এই নেত্রীর অপরাধযজ্ঞের উৎসাহদাতা তাদের কোনোভাবেই ছাড় যেন না দেওয়া হয়, এটি খেয়াল রাখতে হবে। পাপিয়ার যেসব গডফাদার-গডমাদার রয়েছে তাদেরকেও দ্রুত আইনের আশ্রয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। অপরাধকারীকে যারা অপরাধে উৎসাহ দেয়, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তারাও অনেক বড় অপরাধী। 

বিশ^নেতা-রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে গড়ে তোলায় এবং দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে নিরন্তরভাবে যেখানে কাজ করে যাচ্ছেন: অথচ কতিপয় ব্যক্তির কারণে সরকারের ভামমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসতে পারে না। আমরা ইতোমধ্যে অপরাধীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর মনোভাবের পরিচয় পেয়েছি। যুবলীগের প্রাক্তন সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে  যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। সংগঠন ও দলকে ভাঙ্গিয়ে এরা হেন কোনো অপকর্ম নেই যে করেনি। এভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে সম্রাট ও খালেদ। ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের সভাপতির পদ ব্যবহার করে কত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে, সে প্রশ্ন এখনো সবার মনে রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা পেয়েছে যুবলীগের মুষ্টিমেয়ে ব্যক্তি অপরাধ জগতের হর্তকর্তা হওয়ার সুযোগ পায়। যুব মহিলা লীগের পাপিয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনার নজির খুঁজে পাওয়া যায়। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাবের পরিচয় অব্যাহত রাখতে হবে। কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না। দলের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে দলের মধ্যে যেসব অপরাধীরা রয়েছে, তাদেরকে দল থেকে বের করে দলকে ক্লিন ইমেজে দাঁড় করাতে হবে।

Ads
Ads