নগরবাসীকে ডেঙ্গু নিয়ে যেন দুশ্চিন্তা করতে না হয়

  • ২৯-ফেব্রুয়ারী-২০২০ ০৫:০২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ঢাকায় রাজধানীবাসীকে বহু বিড়ম্বনার মধ্যদিয়ে চলতে হয়। ঘর থেকে বের হলেই নানা বিড়ম্বনা জাপটে ধরে। এ অবস্থা কবে শেষ হবে তা কেউ জানে বলে মনে হয় না। কিন্তু নগরবাসী চায় শান্তিতে বসবাস করতে। কিছুদিন আগে এডিস মশায় গোটা রাজধানীবাসীকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল। এডিস মশার তা-ব তথা ডেঙ্গুতে বহুলোক মারাও গিয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দ্রুতি ছড়িয়ে পড়ে। আগামীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কতটা ভয়াবহ হবে সে চিন্তায় নরবাসী আতঙ্কে রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নতুন দুই মেয়র ও কাউন্সিলদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন। মশা ও ডেঙ্গুর কারণে যেন নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ না করে সে ব্যাপারে আগে থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানে তিনি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সতর্কতামূলক বক্তব্যে বলেন, ‘মশা আপনার ভোট যেন খেয়ে না ফেলে সেটা নিশ্চয়ই আপনাদের দেখতে হবে। মশা ক্ষুদ্র হলেও অনেক শক্তিশালী। এটা মাথায় রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য কতটা প্রাণিধানযোগ্য তা বলে শেষ করা যাবে না। দুই মেয়রই নৌকা মার্কা নিয়ে জয়ী হয়েছেন। জনগণ নৌকা মার্কাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। আমরা মনে করি, ঢাকার দুই সিটির নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গভীরভাবে উপলদ্ধি করবেন। গত বছর নগরজুড়ে এডিস মশা তথা ডেঙ্গু কী ভয়ানক রূপ নিয়েছিল তা সবার জানা আছে। এটি সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ডেঙ্গু জ¦রে ঢাকার বাইরেও মানুষ মারা যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলো- ডেঙ্গুর প্রকোপ তীব্র হওয়ার আগে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মশা নিধনে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা ছিল অকার্যকর। এটা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা জেনেও ব্যবহার করেছে। কার্যকর ওধুষ আনার ব্যাপারে গড়িমসি করেছে। যখন ডেঙ্গু জ¦রে মানুষ মরতে শুরু করলো, তখন তাদের হুশ হয়। এবং সরকারের মন্ত্রীরা যখন ডেঙ্গু জ¦রের ভয়াবহতা নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন তখনো দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও দায়িত্বশীলদের হুশ হয়নি। 

২০১৯ সালে রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে পাঠিয়ে, এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে বড় ধরনের নাড়া দিয়ে গেছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। সে বছর ডেঙ্গুর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো ছিল অন্য বছরের তুলনায় খানিকটা আলাদা। ফলে চিকিৎসকরা শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। কিন্তু ঘরে ঘরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আতঙ্ক। সামান্য জ্বরেই মানুষ রক্ত পরীক্ষার জন্য ভিড় করতে থাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে। হাসপাতালে রোগী সামাল দিতে রাত দিন পরিশ্রম করে যেতে হয় চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের। মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকার দুই মেয়র। মশার ওষুধ কেনার বিষয়টি গড়ায় আদালতে। এ নিয়ে আক্ষেপ করে হাইকোর্টের একজন বিচারক বলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশে মশা মারতে আদালতকে রুল দিতে হয় না। পরিস্থিতি সামাল দিতে লন্ডনে সফররত প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে সক্রিয় হওয়ার এবং মশার বংশ বিস্তার রোধে বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। সে বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ এক হাজারেরও বেশি রোগী।  প্রায় ৩শ’ মানুষের মৃত্যুর তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের বিতর্কিত ডেথ রিভিউ প্রক্রিয়া শেষে ডেঙ্গুতে ১৩৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্ষা মওসুম শেষে ডেঙ্গুর মওসুমও শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হাচ্ছিল। কিন্তু ঢাকা থেকে ডেঙ্গু সেবার গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ায় তারপরও প্রতিদিন বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। 

সে বছর দুই রকমের মশা ডেঙ্গুর বাহক হিসেবে কাজ করে বলে আগামীতে সারা বছরই কম বেশি ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইডিসিসিআরের পরিচালক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা বেশি হওয়া উচিত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আগামী সিজন আসার আগেই আমরা যত বেশি কাজ করত পারব, তত ভালো। বছরজুড়ে কার্যক্রমে ঢিলে দেওয়ার কোনো উপায় নেই।’ অবশেষে আমরা বলতে চাই, নতুন দুই মেয়র এসব বক্তব্য উপলদ্ধি করে মশা ও ডেঙ্গুর ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। যাতে সামনে নগরবাসীকে আর ডেঙ্গু নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে না হয়।

Ads
Ads