'ঘরে বসে ভোট দেওয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে'

  • ২-মার্চ-২০২০ ০২:২৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ভোটদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন বরে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে ভোট দেয়ার পদ্ধতি চালু করা যায় কি না এ ব্যাপারে ভাবতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এতে ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

সোমবার (২ মার্চ) বিকালে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। 

ভোটদানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার জন্য ধারাবাহিক গবেষণা করতে হবে। এই পদ্ধতিকে স্ট্যান্ডারাইজড তথা সার্বিক ত্রুটিমুক্ত করতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে যাতে মানুষ ঘরে বসেই অনলাইনে তার নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন এবং তার ভোটটি কোথায় গেল তা যেন নিশ্চিত হতে পারেন। কোন কেন্দ্রে মোট কত ভোট পড়েছে এবং কারা কারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তাদের ছবি ও আইডি নম্বরসহ অনলাইনে তালিকা প্রকাশ করা যায় কি না সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে। এতে করে ভোটারের সংখ্যা ও উপস্থিতি নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয় থাকবে না এবং যিনি ভোট দেবেন তাকে ভোট গ্রহণের একটি কনফারমেশন স্লিপ দেয়া যায় কি না সে ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির কল্যাণেই বিশ্বের অনেক দেশ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে গেছে। এখন প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করা দুরূহ ব্যাপার। নেতিবাচক ধারণা কিংবা অজ্ঞতার কারণে প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে আমাদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হবে এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পরপর দুইবার বিনামূল্যে সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন বিএনপি সরকার অজ্ঞতার কারণে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে এই  নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে প্রায় একযুগ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। এর প্রভাব আমরা উপলব্ধি করেছি। এ রকম ভুল আর করতে চাই না। যে প্রযুক্তির দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে তা অবশ্যই গ্রহণ করবো।’

আনিসুল হক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, রাশিয়া, ফ্রান্স, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, কাজাখস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চালু করলেও বাংলাদেশের কেউ কেউ পুরোপুরিভাবে না জেনেই ইভিএম-এর বিষয়ে নেতিবাচক ধারণ পোষণ করছেন। বাস্তবতা হলো ১৯৭৫ এর পর বাংলাদেশের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছিল তা সম্পূর্ণ দূর করতে হলে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের বিকল্প নেই।’

রোহিঙ্গা বা অন্য কোনো দেশের নাগরিক যেন অবৈধভাবে ভোটার হতে না পারে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সজাগ থাকার তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেছে তার বিশ্বস্ততা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে একটি আস্থা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হবে, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আগামীতেও জনগণের এই আস্থা ধরে রাখা। কোনো অবস্থাতেই যাতে এক ব্যক্তি দুই জায়গায় ভোটার হতে না পারে সে বিষয়ে কমিশনকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে। প্রয়োজনে এসব অপরাধের কঠোর শাস্তির বিধি-বিধান করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।’

অনুষ্ঠানে এ বছর জাতীয় নির্বাচন পদকপ্রাপ্ত তিনজন নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে পদক তুলে দেন আনিসুল হক। একই সময় কয়েকজন নতুন ভোটারের হাতে জাতীয় পরিচয়ের স্মার্ট কার্ড তুলে দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব  মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

Ads
Ads