মোদির সফর: অমীমাংসিত সমস্যার জট খুলুক 

  • ২-মার্চ-২০২০ ০৪:২৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হবে আগামী ১৭ মার্চ। এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রনায়ক আসবেন। তারা এসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে ঝলমল করে তুলবেন। বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসার সুযোগ পেয়ে বিদেশি রাষ্ট্রনায়করা নিজেদেরকে গৌরাম্বিত ও ভাগ্যবান মনে করবেন। রাষ্ট্রনায়কদের তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মৌদিও রয়েছেন। তিনিও আসবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে তার আসা নিয়ে এদেশের একশ্রেণির ব্যক্তি উষ্মাপ্রকাশ করছেন। এই উষ্মাপ্রকাশকারী কারা, তা সবাই ভালোভাবেই জানেন। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতাকারীরা ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে চায়। তারা ভারতের ‘নাগরিকত্ব আইনের ধোঁয়া তুলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আসাকে ঠেকিয়ে দিতে চায়। ‘নাগরিকত্ব আইন ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের মাথা ব্যাথার কোনো কারণ নেই। রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ‘নাগরিকত্ব আইন ভারতের একেবারেই নিজস্ব এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো বাস্তবভিত্তিক কারণ নেই।

কিন্তু দেশে ভারতবিরোধী মহল এটিকে ইস্যু করে নানা কথাবার্তা বলে যাচ্ছে। তাদের এসব কর্মকা- এবার থামানো উচিত বলে আমরা মনে করি। ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়া লোকজন যে পাকিস্তানপন্থি। পাকিস্তানের নামে কারা আবেগ-উগরে দেন, গদগদ হন, আবেগে ভেসে বেড়ান, সেটাও এদেশের মানুষ ভালো করে জানে। ফলে তাদের বিরোধীতায় তেমন কিছু আসবে-যাবে বলে আমরা মনে করি না। 

ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশি এবং বৃহত্তম বন্ধুরাষ্ট্র, যারা আমাদের মহান স্বাধীনতার সময় আশ্রয়, খাদ্য, অস্ত্র দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। ভারতের সহযোগিতা ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তো। যুদ্ধ শেষে দেশ পুর্নগঠনে তারা আমাদের পাশে দাড়িয়েছে। বর্তমানেও তারা সে ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট, নিবিড়, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সব সময়ের চেয়ে উত্তম সময় পার করছে। এই সম্পর্ক যা এদেশের পাকিস্তানপন্থি ব্যক্তি ও মহলকে নাখোশ করে তুলেছে। এদেশে বিএনপি-জামায়াত ঘেষা ব্যক্তিরা সবসময় ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগা-া চালিয়ে যেতে অভ্যস্ত। এটাও যে ভারত সরকার জানে না তাও অবশ্য নয়। তারা জানে বাংলাদেশে কারা তাদের প্রকৃত বন্ধু। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসার ব্যাপারে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছেন। তিনি জানেন বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাঙালির জাতির জনক। বাংলাদেশের স্থপতি, অবিসংবাদিত নেতা- তার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে তিনি ভাগ্যবান ব্যক্তিদের একজন বলে মনে করছেন। এবং বিশ্ব নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে চমৎকার সম্পর্ক। বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশ একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছে। আমাদের অগ্রযাত্রায় ভারতের সমর্থন ও সহযোগিতা কৃতজ্ঞচিত্তে  এদেশবাসী স্মরণ  করে।   যেসব ব্যক্তি বা মহল নরেন্দ্র মোদির সফরের ব্যাপারে আপত্তি তুলছেন, তাদের ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি গত রোববার বলেন, ‘অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে। আমরা আমাদের নিয়মে মেহমানদারি করব, সম্মান দেব। তবে আমরা এটুকু আশা করব, মেহমানরা বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা এবং জনগণের ইচ্ছার ব্যাপারে একটা ভালো অবস্থান নেবেন।’ আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের রেশ ধরে আমরা বলব যে, ভারতের সঙ্গে যদিও আমাদের কিছু বিষয়ে এখনো অমিমাংসিত রয়েছে। সেগুলো দ্রুত সমাধানে ভারত সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ভারতের সঙ্গে বহু বিষয়ে আমাদের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর ভিত্তিতেই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুই দেশের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ট। 

রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট ও দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ অল্প কিছুদিনের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এখন আমাদের দেশ উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি। প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের চিহ্নকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দেশে দুর্নীতি-অপশাসন-গণতন্ত্রহীনতা একটি দেশকে পেছন দিকে নিয়ে যায়। শেখ হাসিনা সরকার দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করে তুলেছেন। খুনি জিয়া, এরশাদ, খালেদা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পেয়ে দেশকে পেছনের কাতারে নিয়ে গিয়েছিল। দেশকে দুর্নীতি, অপশাসন উপহার দিয়েছে  আর গণতন্ত্রের মুখোশে ঢেকে ফেলেছিল। এই ভয়ানক অবস্থা থেকে জাতির জনকের সুযোগ্যকন্যা শেখ হাসিনা, বাংলাদেশকে গৌরবের উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। গণতন্ত্রের ভিত্তিমূল দৃঢ়করণের পাশাপাশি দুর্নীতি আর অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। জণগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সবসময় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, এই মর্মমূল প্রতিফলিত করার জন্য জাতির জনকের কন্যা রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অন্যন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। দেশ থেকে দুর্নীতিকে চিরতরে বিনাশ করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সেভাবে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একচুলও ছাড় দিচ্ছেন না তিনি। কেউ ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করবে, এমন নজির যেন বাংলার মাটিতে আর না ঘটে তার দিকে তীক্ষè নজর রেখেছেন। রাষ্ট্র হিসেবে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। দীর্ঘদিন ধরে তারা গণতন্ত্রের চর্চা করে আসছে। ভারতের গণতন্ত্র থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। বিশে^র মধ্যে ভারত এখন পরাশক্তির কাতারে রয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি সবদিক দিয়েই ভারতের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। ফলে এমন একটি দেশ বাংলাদেশের পরমবন্ধু। এ জন্য আমরাও গৌরাম্বিত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন, তার প্রতি আমাদের লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।

পরিশেষে বলতে চাই, নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবারও অনুভব করতে পারবেন, এদেশের মানুষ কতটা ভালোবাসে তাকে। তিনি জাতির জনকের কন্যার পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছেন। আমাদের প্রতিটি অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, এটা অব্যহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য তার আরো যা করণীয় সেটা তিনি করবেন বলেও আমরা বিশ্বাস করি এবং প্রত্যাশা করি।      

Ads
Ads