শেকৃবি ছাত্রলীগ সহ সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ বানোয়াট

  • ৩-মার্চ-২০২০ ০২:২৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আবাসিক হলের সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান দস্তগীরকে কক্ষে আটকে রাতভর পেটানোর অভিযোগ ওঠে গতকাল সোমবার। এ নিয়ে কয়েকেটি জাতীয় পর্যায়ের দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুদ্রনাথ টুটন দস্তগীরের এ দাবিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। সেইসাথে দস্তগীরের আবাসিক হল নবাব সিরাজ উদ্ দৌলা হলের সিসি ক্যামেরার ধারনকৃত সোমবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত যাতায়াতের ফুটেজ সাংবাদিকদের হস্তান্তর করেন। তাতে দস্তগীরকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেখা যায়।

রুদ্রনাথ টুটন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২ মার্চ ভোরে মিটিংয়ে দস্তগীরকে মারার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। সেই মিটিংয়ে সহ সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান দস্তগীরকে কোনো প্রকার মারামারি, হাতাহাতি ও আক্রমণ করা হয়নি। সে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে স্বেচ্ছায় এ নাটক করেছে। এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। এইসব নাটকীয়তার মাধ্যমে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে চাচ্ছে।

এ সময় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী দস্তগীরের অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। তারা কুমিল্লা আঞ্চলিক গ্রুপের মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বলে সাংবাকিদের জানায়। রুদ্রনাথ টুটন ও তার অনুসারীরা আবাসিক হলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এবং কল রেকর্ড সাংবাদিকদেরকে দেখায়। তাতে একাধিকবার দস্তগীরকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে দেখা যায়।

টুটন দাবি করেন, দস্তগীরের অভিযোগ অনুযায়ী লাঠি দিয়ে তিন চারজন রাতভর পেটালে সে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারত না। সে রাজনৈতিক ফায়দা লুঠতেই এসব নাটক সাজিয়েছে।

এ সময় টুটন বলেন, এই নাটকীয় ও বানোয়াট অভিযোগের মাধ্যমে মুস্তাফিজুর ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করেছে। তাই তাকে শেকৃবি ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানাই। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সহ সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, তরিকুল ইসলাম সাদিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে মুস্তাফিজুর রহমান দস্তগীর তার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, রবিবার রাতে  রুমে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে ১৬ ব্যাচের উজ্জ্বল আমাকে প্রথমে পেটে লাথি মারে। এরপর ১৭ ব্যাচের তাশরীফ, শেকৃবি ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক মামুন হোসাইন ও সাকিব এবং ১৮ ব্যাচের রাকিব আমাকে কাঠ দিয়ে মারধর করে মুখ, হাত ও পেটে মারাত্মকভাবে আহত করে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোরে আমার শরীরে শুধু জখম ছিল। তখন চলাচল করতে পারছি। কিন্তু বেলা দশটার পর পেটে ব্যথা উঠলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী  মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হই।

শেকৃবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভিক্টিম আমাকে ফোনে অভিযোগ জানিয়েছে। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে উপাচার্য স্যারকে অবহিত করব। 

Ads
Ads