ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে একযোগে কাজ করতে হবে

  • ৩-মার্চ-২০২০ ০৪:১৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশে একসময় ফুটবল খেলার বেশ প্রচলন ছিল। প্রত্যন্তগ্রামে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হতো। হাজার হাজার দর্শক খেলা উপভোগ করতো। জাতীয় পর্যায়েও ফুটবল খেলা হতো এবং সেই খেলা বিটিভির মাধ্যমে সারা দেশে দর্শক আগ্রহের সঙ্গে দেখতো। সারা বাংলার জনপ্রিয় এই খেলাটি এখন স্তমিত হয়ে পড়েছে। বলা যায়, ফুটবলের গৌরবউজ্জ্বল দিনের মৃত্যুঘটে। তবে ফুটবল বিশ^কাপ এলে সাড়া পড়ে যায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। অধীর অপেক্ষা নিয়ে দর্শক গভীর রাত জেগেও খেলা উপভোগ করে। বাড়িতে বাড়িতে লক্ষ্য করা যায় প্রিয় টিমের পতাকা সমর্থকদের বাড়িতে টানানো রয়েছে। দিনের বেলা খেলা অনুষ্ঠিত হলে অনেকে কাজকর্ম ফেলে রেখেও খেলা দেখতে বসে যায়। এ থেকে কারোরই বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, এদেশের মানুষের কাছে ফুটবল কতো প্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য যা করণীয় সেটার প্রতি গুরুত্ব না দেওয়াতেই খেলাটি তার জনপ্রিয়তা হারায়। 

এর মাঝেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ধীরে ধীরে দেশের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সব বয়সী দর্শক ক্রিকেট পালগ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ক্রমশ পরাশক্তির অভিধায় সিক্ত হয়। এতে সারাবিশে^ বাংলাদেশের ক্রিকেট টাইগারদের গৌরব প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ফুটবলের যে ঐতিহ্য আমাদের ছিল, সেটা আমরা ধরে রাখতে পারিনি। ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বশীলদের মনোযোগের অভাবেই এটা ঘটেছে। যে ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার দরকার ছিল ফুটবলকে সেটা আদৌও দেওয়া হয়নি। ব¯ুÍত ফুটবল নিজের ঘরেই ম্রিয়মান হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নাম কিভাবে করবে? নিজের ঘরে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা না গেলে তো আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লড়াই করা সম্ভবপর নয়। তবে লক্ষ্য করা যায়, রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের ফুটবলকে উত্তুঙ্গে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। গ্রাম-গঞ্জে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে দূর পথ হেঁটে এসেও বহু দর্শক এ খেলা উপভোগ করতো। সেই খেলার এমন অবনতিশীল অবস্থা পূনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ফুটবলকে আরো এগিয়ে নিতে পরমার্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। 

প্রধানমন্ত্রী গত শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল অনূর্ধ্ব-১৭ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল অনূর্ধ্ব-১৭ এর ফাইনাল খেলা উপভোগ শেষে বলেন, ‘আমাদের শিশু-কিশোররা অত্যন্ত মেধাবী এবং আমরা এই মেধা বিকাশের সুযোগই করে দিতে চাই। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতি থেকে তাদের দূরে রেখে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোর এবং তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়, তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে এবং মনও যথেষ্ট উদার হয়। সবচেয়ে বড়ো কথা হলো দেশের জন্য গৌরব বয়ে নিয়ে আসতে পারে।’
বিশ^নেতা প্রধানমন্ত্রী ঠিক কথাটিই বলেছেন। খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চ্চায় লিপ্ত থাকলে কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়ায় না। তাকে সুপথে পরিচালিত করে খেলা এবং সংস্কৃত চর্চা। প্রধানমন্ত্রী ফুটবলকে আরো এগিয়ে নিয়ে এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনায় যে তাগিদ দিয়েছেন, তা দায়িত্বশীলদেরকে নিশ্চয় কর্মদ্দীপ্ত করে তুলেবে। তারা ফুটবলকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবেন। তবে অনেকদিন ধরেই একটি বিষয় সবার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটি হলো  বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনকে নিয়ে। তার ব্যর্থতার কারণে দেশে ফুটবলের এই করুণ দশা। তাকে অপসারণ করে নতুন কাউকে নিয়োগ দিয়ে ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাতে হবে বলে আমরা মনে করি। কাজী সালাহউদ্দিনকে স্বপদে রেখে ফুটবলের মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। এটা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ভেবে দেখতে হবে বলে আমরা মনে করি। একটা সময় ফুটবল শহর ছাড়াও গ্রাম-গঞ্জে ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সেটির অবস্থান কেন ধরে রাখা গেল না তা কিন্তু বিশাল প্রশ্ন।  ক্রিকেট খেলায় যেভাবে ভালো ভালো ক্রিকেটার তৈরি হয়েছে। এবং এটা করতে নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু ফুটবল খেলায় এই নিখুঁত পরিকল্পনা কতটা রয়েছে, তা, সবারই অজানা। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, ক্রিকেট খেলার যেমন বাংলাদেশসহ সারাবিশে^ই জনপ্রিয় একটি খেলা, তেমনি, ফুটবল খেলাও জনপ্রিয়। ফুটবল কতটা জনপ্রিয় তা তো অনুভব করা যায় বিশ^কাপ ফুটবল শুরু হলে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে ফুটবল খেলায় আকৃষ্ট করার জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে হবে এবং নিয়মিত খেলার আয়োজন করতে হবে। যেভাবে ক্রিকেটকে সরকার পৃষ্ঠপোষতা দিচ্ছে, ঠিক একই ধরনের সহযোগিতা- পেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যেতে। আশা করা যায়, ফুটবল অল্প সময়েই জনিপ্রয়তার শিখরে উঠে আসবে। সবার একযোগে কাজের ফলে বাংলাদেশের ফুটবল তার হারানো সোনালি দিন খুঁজে পাবে। ফিরে আসবে ফুটবলের হারানো ঐতিহ্য।

Ads
Ads