আদমদীঘিতে সাজনে গাছে ব্যাপক ফুল ফুটেছে, আগাম গাছ বিক্রি হচ্ছে

  • ৪-মার্চ-২০২০ ০৪:১৯ অপরাহ্ন
Ads

:: আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ::

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদর ও সান্তাহার পৌর শহরের সাজনে গাছের ডালে ডালে ব্যাপক ফুল ফুটেছে। গাছে গাছে ব্যাপক ফুল দেখে এবার সাজনে ডাটার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাম্পার ফলনের আশায় বাড়ি বাড়ি ও বাগানে বাগানে গিয়ে আগাম গাছের সাজনে কিনছেন মৌসুমি সাজনে ব্যাবসায়ীরা।

আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ  না হলে এবার গত কয়েক বছরের চেয়ে সাজনে বেশী উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ব্যাবসায়ীরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আগাম গাছ কেনা মৌসুমি ব্যাবসায়ীরা। এবার আদমদীঘি উপজেলা সদর ও সান্তাহার পৌর শহর এবং এর আশেপাশে গ্রামে- গ্রামে সবখানে গাছে গাছে  প্রচুর পরিমানে সাজনে ডাটার ফুল ফুটেছে। স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে সাজনে ডাটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মুখোরচক ও পুষ্টিগুনে ভরপুর সজনে ডাটা স্থানীয় ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী করা হয়ে থাকে। বাজারে অন্যান্য সবজির চেয়ে সাজনের দাম বেশি। তবে এবার গাছে গছে যেভাবে ফুল ফটেছে তাতে গত বারের চেয়ে এবার দাম একটু কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনে ডাটা পুষ্টি গুণ ও স্বাদে বেশী হওয়ায় যে কোন বয়সের মানুষ সাজনে খেতে ভালবাসেন। 

চিকিৎসকদের মতে সাজনে সবজি তে ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ আয়রণসহ প্রটিন ও শর্করা জাতীয় খাদ্য রয়েছে। এ ছাড়া ভিটামিন এ, বি, সি সমৃদ্ধ সাজনে ডাটা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শরীরের পুষ্টির জন্য গর্ভবতী ও প্রসুতি মায়েদের ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে বলে সাজনে ডাটা ঔষধী সবজি হিসাবেও ব্যাপক সমৃদ্ধ। এছাড়া গাছের ছাল এবং পাতা রক্ত আমাশায় পেটের পিড়া ও উর্চ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা রাখে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সাজনে ডাটা প্রধানত দুই প্রজাতির। এর মধ্যে এক প্রজাতির বছরে তিন থেকে চার বার পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে এর নাম রাইখজ্ঞন। সাজনে গাছ যে কোন পতিত জমি, পুকুর পাড়, রাস্তার বা বাধের ধারে আঙ্গিনা এমন কি শহরের যে কোন ফাঁকা জায়গায় লাগানো যায়। এর কোন বীজ বা চারার প্রয়োজন হয় না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুতে রাখলেই সজনে গাছ জম্মায়। সাজনে গাছের কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।

অযন্তে অবহেলায় প্রকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠে গাছ। বড় ও মাঝারি ধরনের একটি গাছে  ছয় থেকে আট মণ পর্যন্ত সজনে পাওয়া য়ায়। বিনা খরছে অধিক আয় হওয়ায় অনেকেই ব্যানিজ্যিক ভাবে সাজনে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আদমদীঘি উপজেলার মাটি, পানি ও আবহাওয়া সাজনে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এই উপজেলা সদর ও সান্তাহার পৌর শহর ও এর আশে পাশের সর্বত্রই প্রচুর পরিমানে সাজনে গাছ আছে। এই সব গাছ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার টন সজনে উৎপাদন হয়। 

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, এই উপজেলায় মাটি ও আবহাওয়া সাজনে চাষে উপযোগী। এখানে ব্যানিজ্যিক ভাবে সাজনে চাষ করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।  ফলে অনেকে আম, জাম, কাঠাল, লিচু বাগানের মত এখন সাজনে গাছের বাগান করতে শুরু করেছে অনেকে।

Ads
Ads