ওবায়দুল কাদেরর দিকে চেয়ে আছেন চসিকের বিদ্রোহীরা

  • ৫-মার্চ-২০২০ ০২:৩৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন না করার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও তাদের এই অবস্থানে উতপ্ত ছিল দলের নির্ধারিত বৈঠক। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে চসিক নির্বাচনে দলের মনোনীত এবং মনোনয়ন বঞ্চিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এক বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও চসিক নির্বাচনে দলের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মনোনয়ন বঞ্চিত একাট্টা কাউন্সিল প্রার্থীরা বলেন, বৈঠকে আমরা ফিল্ড ওপেন করে দেওয়ার কথা বলেছি। আমাদের মনোনয়ন না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছি। তারা অভিযোগ করে বলেন, বৈঠকে আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই আমরা আগামী ৮ মার্চ দলের সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে এই বিষয়ের সুরাহা চাইবো। ৮ মার্চ আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব আসবেন এবং বর্ধিত সভায় উপস্থিত থাকবেন। সেখানেও বিদ্রোহীদের বিষয়ে আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে নগর সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা আলোচনা করেছি বিভিন্ন ওয়ার্ডের দল সমর্থিত এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে। মনোনয়ন বঞ্চিতদের অভিযোগ আমর লিখিত আকারে নিয়েছি। তা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ৮ মার্চ আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব আসবেন এবং বর্ধিত সভায় উপস্থিত থাকবেন। সেখানেও বিদ্রোহীদের বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছেন আমাদের নেত্রী নিজে। তাই সেই সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই। দলের মনোনয়ন বঞ্চিত বর্তমান ২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল কাদের বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছর রাজনীতি করেছি। দলে আমাদের অবদান আছে। বিভিন্ন সময়ে দলের কঠিন পরিস্থিতিতে আমি রাজপথে ছিলাম। আমাকে কেন মনোনয়ন দেবে না, তা জানতে চাওয়া আমার অধিকার। গত নির্বাচনেও আমি স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে জয়লাভ করেছি। ফিল্ড ওপেন করে দিলে ওইবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। চট্টগ্রাম নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২২০ জন। তিনটি ওয়ার্ড ছাড়া বাকি প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের দুই-তিন জন করে বিদ্রোহী আছেন। চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন না পাওয়া বর্তমান ১৪ সাধারণ কাউন্সিলরের মধ্যে অন্তত ১১ জন স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

Ads
Ads