মুজিববর্ষ: ঘরবাড়ি রঙিন হলে মনটাও ভালো থাকে

  • ৫-মার্চ-২০২০ ০৪:০১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অনেক রাজধানীর তুলনায় পরিচ্চন্নতায় পিছিয়ে আছে। এ জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কম টাকা ঢালেনি। কিন্তু সে অর্থ নয়-ছয়ের কবলে পড়েছে। এই টাকায় অনেকের পকেট ভারী হয়েছে। ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্চন্ন রাখাটা যে জরুরি, সেটা দায়িত্বশীলরা জানেন না এমন ভাবাটা সম্পূর্ণ বোকামি। রাস্তায় নামলেই মনে হয়, নোংরা ভাগাড়ের শহরের নাম ঢাকা। প্রশ্ন জাগে, বিশ্বের অনেক রাজধানীকে কিভাবে ক্লিন রাখা সম্ভব হলো। ওই সব শহর কি আকাশ থেকে জিন-পরি এসে বা কোনো দৈত-দানব এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছে? মোটেই না। এটা হয় তো কোনো আজগুবি চলচ্চিত্রে দেখানো সম্ভব।

আসলে উন্নত রাজধানীকে ক্লিন রাখার জন্য মেয়রদের আন্তরিক ভূমিকাই যথেষ্ট। মেয়র তাদের লোকজনকে দিয়েই এটি করতে পেরেছেন। কোনো জাদুবলের প্রয়োজন হয়নি। তাই বলছি, রাজধানী ঢাকাকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সৌন্দর্যবর্ধন করার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের। তারা কাজ করলেই যথেষ্ট।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর প্রধান সড়কের পাশের বাড়িঘরের সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে রঙ করার জন্য বাড়ির মালিকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে বিদেশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেহমান ঢাকায় আসবেন। তারা ঢাকায় পা রেখেই যদি দেখে ঢাকা নোংরা একটি শহর, তাহলে তাদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। বিদেশি মেহমানদের চলাচলের দুই পাশের ভবনের রঙ বিবর্ণ দেখালে অতিথিরা অবাক হতে পারেন। তাদের আগমন উপলক্ষে রাজধানীকে বর্ণিল করে তোলার একটি গুরুত্ব রয়েছে। এটা উপলদ্ধি করে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনমালিকদের ভবন রঙ করার জন্য যে চিঠি দিয়েছেন, তা যথাযথ হয়েছে। এই তো সেদিন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখের আড়াল করতে দিল্লির বস্তিগুলোকে রঙিন দেয়াল দিয়ে আড়াল করা হয়েছে; আমরা সেটাও দেখেছি। তা দেখে আমাদের মনটাও ভালো হয়ে গেছে। 

অনেক সাধারণ ঘটনায় আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি ঢাকাকে রঙিন করে তোলা হয়েছে। আর মুজিববর্ষে ঢাকা বিবর্ণ-মলিন থাকে কিভাবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশের বহু ভবনের রঙ অনেক আগে করা। বৃষ্টির পানিতে এসব রঙ তার প্রাণ হারিয়েছে। ফলে নতুন করে রঙ লাগানোটাও জরুরি। অন্যদিকে মুজিববর্ষে ভবন মালিকদের নিজেদের উদ্যোগেই এটি করা জরুরি বলে আমরা মনে করি। এতে বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানরা ঢাকায় এসে চমকে যাবেন। তারা নিশ্চিতভাবে লক্ষ্য করবেন ঢাকার সৌন্দর্য। তাদের আগমন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে, এটা ভেবে তারাও পুলকিত হবেন। 

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, মুজিব বর্ষে ঢাকাকে রঙিন করার উদ্যোগ যেমন যথাযথ, তেমনি সারা বছর যেন ঢাকা রঙিন থাকে, রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে তার দিকে নবাগত দুই মেয়রকে ভাবতে হবে। সামনেই বৃষ্টিপাত শুরু হবে। সামান্য বৃষ্টিতে ঢাকা নদীতে রূপান্তরিত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতির কবে অবসান হবে তার বোধকরি মেয়রদ্বয় জানেন না। কারণ আগের মেয়রগণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ ব্যাপারে কতটুকু কি করেছেন, তা নগরবাসী ভালোই জানেন। নতুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ব্যাপারে নগরবাসী আরো হতাশ। রাজধানীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার কোনো উদ্যোগ বস্তুত:নগরবাসীর চোখে পড়ছে না। কিন্তু এ ব্যাপারে কথার ফুলঝুরি ছড়ানোর কমতি নেই। অবশ্য ঢাকার যানজট হ্রাসে মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে। এটি চালু হলে অনেকটাই যানজট কমে আসবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিন ধরে যে অসৎ, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা বহালতবিয়তে বসে আছে তাদের ব্যাপারে নবাগত দুই মেয়র কি উদ্যোগ নেন, তাও কিন্তু আগামীতে দেখার বিষয়। এদের নগরভবনে বসিয়ে মেয়রদ্বয় ভালো কিছু করতে পারবেন বলে আমাদের বিশ্বাস হয় না। যাই হোক, মুজিব বর্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশসহ অন্যান্য সড়কের দুই পাশের বাড়িঘরে রঙ লাগিয়ে ভবন মালিকরা জাতির জনকের প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাবেন, এটাও আমাদের বিশ্বাসের অন্তর্গত। 

Ads
Ads