ধ্রুবতারা হয়েই থাকবেন মাশরাফি

  • ৭-মার্চ-২০২০ ০৪:১১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অধিনায়ককে বিদায় জানালেন তারা দীর্ঘদিনের সতীর্থ খেলোয়াড়রা। গগণবিদারী আওয়াজ তুলে এই বিদায় জানানো হয়। গত শুক্রবার ছিল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচ। এ ম্যাচে বাংলাদেশের টাইগাররা ঠিকমতোই ধবলধোলাই দিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু টাইগারদের মনে বিজয়ের আনন্দ থাকলেও তাদের মনের কোনে বিষণ্ণ একটি সুর ধ্বনিত হচ্ছিল। সেই বিষণœসুর একাকার হয়ে গেছে টাইগারদের ক্যাপটেন তথা অধিনায়ককে রাজকীয় বিদায় অভ্যর্থনায়। গ্যালারির হাজার হাজার দর্শক জানতেন এই ম্যাচের খেলাই শেষ অধিনায়কত্ব মাশরাফির। তারাও সিলেট স্টেডিয়ামের বাইরের সড়কদ্বীপে ঝুলিয়ে দেন  ফেস্টুনে লেখা, ‘অধিনায়ক মাশরাফিকে ভালোবাসি’।

এই অধিনায়কের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল বিশ্বের ক্রিকেট জগতে পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। উজ্জীবনী, প্রেরণাদায়ী নেতৃত্বে দেশের ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। তার নাম ক্রিকেট জগতে ধ্রবতারা হয়ে থাকবে। শুধু দেশিয় ক্রিকেট অঙ্গনেই নয়- গোটা বিশ্বের ক্রিকেট অঙ্গণে জ্বলজ্বল করে জ্বলবে তার নাম। 

খেলার পাশাপাশি রাজনীতিতেও নাম লেখান এই অধিনায়ক। বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিশেষ স্নেহ করেন। তার খেলার দারুণ ভক্ত প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের এই সেরা খেলোয়াড়কে রাজনীতির খাতায় নাম লেখানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উৎসাহ রয়েছে। এই উৎসাহের কারণেই মাশরাফি এলাকার মানুষের পাশের থাকার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। বিজয়ী হয়ে এমপি হন। নড়াইলের এই কৃতিসন্তান সংসদ সদস্য হয়ে এলাকার মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগও করেন। খেলা থেকে অবসর নিয়ে তিনি আরো ভালোভাবে এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে আত্মউৎসর্গ করতে পারবেন। 
ক্রিকেটই ছিল এই জগতবিখ্যাত ক্রিকেটারের ধ্যান-জ্ঞান। খেলার মাঠে নামলে দর্শকরা জানতো- খেলায় তিনি জাদু দেখাবেন। বাংলাদেশ দলকে বিজয়ী করে নিয়ে আসবেন। কখনো কখনো যে পরাজয় স্পর্শ করেনি, তা অবশ্য নয়, করেছে। খেলায় তো হার-জিত থাকেই। সেটাকে মেনে নিয়েই টাইগারদের তিনি বারবার বিজয়ীদলে পরিণত করেছেন। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিজয়ীবেশে দ্রুত এগিয়ে গেছে সামনের পানে। এমন অধিনায়ককে সহজে কি ছেড়ে দেওয়া যায়। প্রতিটি সতীর্থ খেলোয়াড়ের হৃদয়ে গভীর স্থান করে ছিলেন মাশরাফি। তাই তো তার বিদায়ের মুহূর্তটি আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে। প্রিয় ক্যাপ্টেনের ‘বিদায়’ দিনে তাই সিরিজে আবার সেঞ্চুরি হাঁকান তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। লিটন তো হিমালয় পাড়ি দেওয়ার পণ করে ব্যাটিং বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছেন সব। রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙেছে। দল ক্লিন সুইপ করে। জিম্বাবুয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারে না। দর্শকরা একটা টিকিটের জন্য ৫-৬ গুণ টাকা খরচ করে, বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়েও ম্যাচের প্রতিটা মুহূর্তকে জীবন্ত রাখেন।

পরিশেষে বলতে চাই, মাশরাফি অধিনায়কত্ব থেকে অবসর নিলেন। একথা যেমন সত্য, তবে তিনি খেলার সঙ্গেই আষ্টেপৃষ্টে থাকবেন বলে আমরা মনে করি। তার বুদ্ধি-পরামর্শ আমাদের ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজন আছে। ফলে সরকারের উচিত হবে তার অভিজ্ঞতাকে ক্রিকেটে কাজে লাগানো হবে। এতে টাইগারদের চলার পথ আরো মসৃন হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। দীর্ঘ খেলার অভিজ্ঞতা, মাঠে ঝড় তোলা এই খেলোয়াড়, তাতে রাজি থাকবেন না, এটাই আমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় জানেন প্রকৃত অর্থে তাকে কোথায় কখন কিভাবে দেশের স্বার্থে, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট করা হবে। 

Ads
Ads